শেখ হাসিনার ইস্যুতে জয়সওয়ালের বক্তব্য ‘কৌশলগত’ অবস্থান
Advertisement
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক অনুরোধ বিবেচনায় নিয়েছে ভারত। তারা বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালের এ বক্তব্যকে বাংলাদেশের অনুরোধের প্রেক্ষিতে কৌশলগত অবস্থান হিসাবে দেখা হচ্ছে। নতুন সরকারের সময়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সূচনালগ্নে এমন উত্তর অনেকটা ‘ব্যালেন্স’ রক্ষার মতো। দুদেশই বর্তমানে সম্পর্কের উন্নতিতে বিশ্বাসী। কিন্তু সম্পর্ক উন্নয়নের নানা ইস্যু ও চ্যালেঞ্জের মধ্যে শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান ও বাংলাদেশে তাকে ফেরত দেওয়ার মতো জটিল ও স্পর্শকাতর বিষয় বিদ্যমান। তাই প্রসঙ্গটিকে ভারত অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত দেওয়ার বিষয়ের সঙ্গে আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক ও কৌশলগত অনেক বিষয় জড়িত রয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল শুক্রবার এক প্রশ্নের জবাবে জানান, বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে দিতে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক অনুরোধ বিদ্যমান আইনি ও বিচারিক কাঠামো অনুযায়ী বিবেচনা করছে ভারত।
ভারতের এমন বক্তব্যের বিশ্লেষণে সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির যুগান্তরকে বলেন, শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে তিনটি দিক রয়েছে। প্রথমত, একটি আইনি প্রক্রিয়া এখানে জড়িত। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েই ভারতকে অনুরোধ করা হয়েছে। এ বিষয়ে কোর্টের সিদ্ধান্তও আছে। এক্ষেত্রে যদি ভারত শেখ হাসিনাকে ফেরত দিতে চায় তাহলে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, এর একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়াও আছে। আওয়ামী লীগের সঙ্গে ভারতে সম্পর্ক বহু বছরের। সেদিক থেকে তাকে ফেরত দেবে কিনা সে বিষয়ে অনেক কিছু বিবেচনায় আনবে। তৃতীয়ত হলো, এর একটি কৌশলগত দিকও আছে। শেখ হাসিনা ভারতের মিত্র ছিল। তাকে ফেরত দিলে ভারত তার মিত্রদের রক্ষা করে কিনা-এ বার্তাটি আশপাশের বহু মিত্র দেশের কাছে যাবে।
তিনি বলেন, ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, দুদেশের মধ্যে সম্পর্ক আবার চালু হয়েছে। এখানে সম্পর্কের উন্নয়নে অনেক উপাদান আছে যা ভারতের দিকে গুরুত্বপূর্ণ, আবার অনেকগুলো বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সেগুলো কে কতটা বিবেচনায় নিল তার ওপর নির্ভর করবে শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর মতো সিদ্ধান্ত নিয়ে তারা কোন দিকে যাবে।
রণধীর জয়সওয়ালের বক্তব্যকে সাবেক রাষ্ট্রদূত মাহফুজুর রহমান এ বিষয়ে দাপ্তরিক জবাব হিসাবে মনে করেন। তিনি যুগান্তরকে বলেন, এটি ভারতের দিক থেকে একটি ‘অফিশিয়াল অ্যানসার’। কারণ, ভারত আগেই স্বীকার করেছে তারা শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের অনুরোধের চিঠি পেয়েছে। মনে হয়েছে তারা এ বিষয়ে এমন কোনো মন্তব্য করতে চায় না, যার কারণে সম্পর্কের অবনতি হবে।
তিনি বলেন, আবার এমন কোনো উত্তর দেননি যার কারণে ভুল বোঝাবুঝি হয় বা মানুষের মধ্যে আশাবাদও তৈরি হতে পারে। আবার একই সঙ্গে প্রশ্নটি এড়িয়ে যেতেও পারেনি। ‘স্ট্যান্ডার্ড’ উত্তরের জন্য যা বলতে হয় সেটি করা হয়েছে। উদ্দেশ্যমূলকভাবে একটি উত্তর দেওয়া হয়েছে বিষয়টি এমন নয়। কারণ, প্রশ্ন করার পরিপ্রেক্ষিতেই উত্তরটি এসেছে। এখানে উল্লেখযোগ্য, ভারত যদি নিজ থেকে এ বিষয়ে কোনো মেসেজ দিতে চাইত তাহলে সরাসরি সরকারের পক্ষ থেকেই আসত।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে দেশ থেকে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নানা বিষয়সহ এই ইস্যুতে ভারতের সঙ্গে টানাপোড়েন চরমে পৌঁছায়। পরে শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর জন্য ঢাকা আনুষ্ঠানিকভাবে নয়াদিল্লির কাছে অনুরোধ জানায়।

