Logo
Logo
×
   

Advertisement

শেষ পাতা

সংবাদ সম্মেলনে মুখপাত্র মাহ্দী আমিন

দুই মাসে প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ ৬০ পদক্ষেপ

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

দুই মাসে প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ ৬০ পদক্ষেপ

Advertisement

বিএনপি সরকারের দুই মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ৬০টি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ তুলে ধরলেন উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। সরকারের দুই মাস পূর্তি উপলক্ষ্যে শনিবার বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে পদক্ষেপগুলো তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওই সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন বলেন, প্রত্যাশা করি, সামনের দিনগুলোয়ও এ ইতিবাচক ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও নিজ নিজ অবস্থান থেকে তথ্যভিত্তিক বক্তব্য তুলে ধরে অপপ্রচারের বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা পালন করবেন। আমরা ভেবেছিলাম, এই অল্প সময়ের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব ও নির্দেশনায় সরকার যেসব ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে, বিরোধী দল সেই কাজের জন্য সামগ্রিকভাবে সহযোগিতা করবে। কিন্তু আমরা দেখলাম, তারা সেটি না করে সংসদে হট্টগোল করা, রাজপথে আন্দোলনের হুমকি এবং গুজব-অপপ্রচার ছড়ানোসহ বিকল্প পথ বেছে নিয়েছে, যা দেশের অগ্রযাত্রার পথে প্রতিবন্ধকতা।

দুই মাসে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ৬০টি পদক্ষেপ তুলে ধরে মাহ্দী আমিন বলেন, নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি পরিবারের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পাইলট প্রকল্পে ৩৭ হাজার ৫৬৭ পরিবারকে মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা করে নগদ সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। দেশের কৃষক ও কৃষানিদের জন্য কৃষক কার্ডের মাধ্যমে ১০টি সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে ১০টি জেলার ২২ হাজার কৃষককে এর আওতায় আনা হয়েছে। এছাড়া প্রায় ১২ লাখ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা এবং দেশের আইনি কাঠামোর ধারাবাহিকতা রক্ষায় অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রথম অধিবেশনে ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিষ্পত্তির মাধ্যমে সরকার সংসদীয় গণতন্ত্রের এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে। এসব অধ্যাদেশের মধ্যে মানবাধিকার কমিশন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশসহ ১৬টি অধ্যাদেশ অধিকতর যাচাই-বাছাই করে আবার সংসদে বিল আকারে উত্থাপন করা হবে। সরকারের এ উদ্যোগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন। জুলাই সনদে ‘নোট অব ডিসেন্ট’-সহ বিএনপি সম্মত হয়ে যেভাবে স্বাক্ষর করেছিল, সেই স্বাক্ষরিত জুলাই সনদকে প্রধানমন্ত্রী বাস্তবায়নের জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের মধ্যে আরও রয়েছে-দালালদের হস্তক্ষেপ বন্ধে নামজারি ও সেবাগ্রহীতাদের অনলাইন আবেদন বাধ্যতামূলক করা, ‘পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প’ হাতে নেওয়া, এমপি-মন্ত্রীদের শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট গ্রহণ না করা এবং পাটজাত পণ্যে প্রাধান্য দিয়ে বিভিন্ন সরকারি অফিস ও বেসরকারি শিল্প খাতকে পাটজাত পণ্য ব্যবহারের নির্দেশনা। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাপ্তাহিক জাতীয় পরিচ্ছন্নতা অভিযান, হামের টিকাদান কর্মসূচি চালু, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, নারীদের জন্য নিরাপদ বিশেষায়িত পিংক বাস সার্ভিস চালুর উদ্যোগ, প্রথমবার এনটিআরসির মাধ্যমে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, কলেজের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ নিয়োগে পরীক্ষার মেধাভিত্তিক নিয়োগ, ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসন ও ভিন্ন স্থানে ব্যবসা পরিচালনার উদ্যোগ। আরও রয়েছে-হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল দ্রুত চালুর উদ্যোগ, সব বিমানবন্দরে উন্নত দেশের মতো ফ্রি ইন্টারনেট ব্যবস্থা, চলন্ত ট্রেনের যাত্রীদের সুবিধার জন্য ফ্রি ইন্টারনেট সেবা দেওয়ার উদ্যোগ, পাচার করা অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রাথমিকভাবে ১০টি দেশের সঙ্গে সম্পদ শনাক্তকরণ এবং পারস্পরিক আইনগত সহায়তা জোরদার ও দুই মাসে সরকারের মানবাধিকার রক্ষায় রেকর্ড। এছাড়াও রয়েছে-সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-খাল ও জলাশয় খনন ও পুনঃখননের উদ্যোগ, যা ইতোমধ্যে ৫৪ জেলায় শুরু করা হয়েছে। বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের মধ্যেও সরকার জ্বালানি তেলের দাম না বাড়িয়ে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি ও নেট মিটারিং-এর মাধ্যমে ৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সোলার বা সৌরশক্তি ব্যবহার করে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। প্রতিকূল বৈশ্বিক ও দেশীয় অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে রমজান মাসে এবং এখনো অন্য বছরের তুলনায় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে তারল্য সংকট থাকা সত্ত্বেও খাদ্যপণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের আমদানি অব্যাহত রাখা হয়েছে। ফলে অভ্যন্তরীণ বাজারে সংকট তৈরি হয়নি এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা গেছে।

পদক্ষেপগুলো তুলে ধরে মাহ্দী আমিন আরও বলেন, ৪ হাজার ৯০৮টি মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন, ৯৯০টি মন্দিরের পুরোহিত, ১৪৪টি বৌদ্ধবিহারের অধ্যক্ষ এবং ৩৯৬টি গির্জার যাজক ও পালকরা মাসিক সম্মানি পাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও নৃ-গোষ্ঠীবিষয়ক বিশেষ সহকারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা ধর্মবর্ণনির্বিশেষে সবার অধিকার প্রতিষ্ঠার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। শিগ্গিরই প্রবাসীদের জন্য প্রবাসী কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। হজযাত্রার খরচ টিকিটপ্রতি ১২ হাজার টাকা এ বছরেই কমানো হয়েছে। প্রথমবার দেশের মাটিতেই ‘নুসুক হজ কার্ড’ প্রদান করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সরকারি মালিকানাধীন বন্ধ কারখানা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো চালু করে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে প্রাধান্য পাচ্ছে চিনিকল, রেশম ও পাটশিল্প।

তিনি বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ সহজীকরণের জন্য ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ প্রত্যাবাসনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্বানুমোদনের বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন পর আবারও খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। দুই দেশের অভূতপূর্ব যৌথ বিবৃতিতে উঠে এসেছে অভিবাসন ব্যয় হ্রাস, স্বচ্ছ প্রক্রিয়া ও প্রবাসীদের জনকল্যাণ। বিকল্প শ্রমবাজার খুঁজতে ইউরোপের ৭টি দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

পদক্ষেপের মধ্যে আরও রয়েছে-উত্তরবঙ্গকে অ্যাগ্রো প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রির ‘হাব’ বা প্রধান কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তোলার উদ্যোগ, পে-পাল ও অন্যান্য পেমেন্ট গেটওয়ে কার্যক্রম বাংলাদেশে শুরুর উদ্যোগ, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের ঘোষণা, ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালু, বিদেশে উচ্চশিক্ষার লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক সহায়তায় সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জামানতবিহীন ব্যাংক গ্যারান্টির সিদ্ধান্ত। আরও রয়েছে-শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক এবং শূন্য পদে বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক নিয়োগ, মহানগর পর্যায়ে উন্মুক্ত খেলার মাঠের সংস্থান, শিশু-কিশোরদের প্রতিভা অন্বেষণের প্রতিযোগিতা ‘নতুন কুঁড়ি’, জাতীয় সংসদের গ্যালারিতে শিক্ষার্থীদের জন্য ১৫০ আসন বরাদ্দ এবং দেশব্যাপী বই পড়াকে উৎসাহিত করার জন্য বেসরকারি খাতের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ।

মাহ্দী আমিন বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২ লাখ শিশুর মাঝে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস, জুতা ও পাটের তৈরি ব্যাগ বিতরণের লক্ষ্যে কার্যক্রম চলমান এবং স্পোর্টস কার্ড ও স্পোর্টস অ্যালাউন্স কর্মসূচি চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে ইতোমধ্যে শতাধিক ক্রীড়াবিদকে ভাতা দেওয়া হচ্ছে। ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ ও সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বনায়ন সৃজনের জন্য এরই মধ্যে ১ কোটি ৫০ লাখ বিভিন্ন প্রজাতির চারা উৎপাদন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় ভবন যমুনা ব্যবহার না করে প্রধানমন্ত্রী গুলশানে নিজের বাড়ি ব্যবহার করছেন, নিজের গাড়ি ব্যবহার করছেন, নিজ খরচে তেল ব্যবহার করছেন, যা রাষ্ট্রীয় ব্যয় হ্রাসের ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। প্রধানমন্ত্রী শনিবারও অফিস করছেন, কর্মকর্তাদের সকাল ৯টার মধ্যে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করেছেন। ভিভিআইপি প্রটোকল না নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর অতিসাধারণ চলাফেরায় ট্র্যাফিক ব্যবস্থায় নজিরবিহীন পরিবর্তন এনেছেন, তার রাষ্ট্রীয় সফরের সময় বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা সীমিত করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ (সালেহ শিবলী) বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর জনগণের আস্থা ফিরে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী জনগণের কাছে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, এর প্রতিটি তিনি পালন করার চেষ্টা করছেন। বর্তমান সরকারের সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো দেশের জনগণ তারেক রহমানকে বিশ্বাস করেছেন এবং তিনিও জনগণের ওপর আস্থা রেখেছেন।

শুভেচ্ছা বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, দেশ সেবা করার জন্যই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনির সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে আরও ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার এসএএম মাহফুজুর রহমান, উপপ্রেস সচিব হাসান শিপলু, সুজাউদ্দৌল্লা সুজন, শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীনসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রেস উইংয়ের সদস্যরা।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম