সংসদে নৌপরিবহণমন্ত্রী
চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশিদের দেওয়ার পরিকল্পনা নেই
Advertisement
সংসদ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নৌপরিবহণমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, চট্টগ্রাম বন্দর কোনো বিদেশি অপারেটরের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা সরকারের নেই। বুধবার জাতীয় সংসদে মো. শাহাদাত হোসেনের টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। নৌ-পরিবহণ মন্ত্রী বলেন, পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ অথোরিটি (পিপিপিএ) অথবা সরকার কর্তৃক জারিকৃত অথবা অনুমোদনকৃত ক্ষেত্রে শুধুমাত্র বন্দরের টার্মিনাল পরিচালনার লক্ষ্যে অপারেটর নিয়োগ করা হয়। এক্ষেত্রে দেশি ও বিদেশি উভয় ধরনের অপারেটর বিবেচনা যোগ্য। তিনি বলেন, বর্তমানে বন্দরের আধুনিকায়ন এবং দেশের আমদানি রপ্তানি বাণিজ্যের অব্যাহত অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশি-বিদেশি অপারেটর দ্বারা বন্দরের বিভিন্ন টার্মিনাল পরিচালনা করা হচ্ছে। যেমন বন্দরের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে (পিসিটি) বিদেশি অপারেটর দ্বারা পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া কর্ণফুলি নদীর ডান তীরে লালদিয়া চর নামক স্থানে লালদিয়া কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনার জন্য পিপিপি পদ্ধতিতে ডেনমার্কে মার্কস গ্রুপের সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনালস বিভি-এর সহিত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
নদী দখলদার ২১ হাজার ৯৮২ জন : হাসনাত আব্দুল্লাহর প্রশ্নের জবাবে নৌ পরিবহণমন্ত্রী বলেন, দেশে নদ-নদীর অবৈধ দখলদার ২১ হাজার ৯৮২ জন। তিনি বলেন, এই তালিকা ওয়েবসাইটে প্রকাশ এবং উচ্ছেদ কর্মপরিকল্পনা পাঠাতে সব জেলা প্রশাসককে অনুরোধ করা হয়েছে। নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয় বলছে, অবিলম্বে উচ্ছেদযোগ্য তালিকা পাওয়া সাপেক্ষে উচ্ছেদ কার্যক্রম চালানো হবে।
বিআইডব্লিউটিসির বহরে ৪৭ ফেরি : মোশাররফ হোসেনের প্রশ্নের জবাবে নৌমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহণ সংস্থা-বিআইডব্লিউটিসির অধীনে এখন ৪৭টি চলাচলযোগ্য ফেরি আছে। এর মধ্যে ১২টি ‘রো-রো’, ১৬টি ‘মিডিয়াম’, ৮টি ‘ইমপ্রুভড মিডিয়াম’ ও ১১টি ‘ইউটিলিটি’ ফেরি। তিনি বলেন, বিআইডব্লিউটিসির জন্য ৩৫টি বাণিজ্যিক ও আটটি সহায়ক জলযান সংগ্রহ এবং দুটি নতুন শিপইয়ার্ড নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ছয়টি ইউটিলিটি ফেরি নির্মাণাধীন আছে। সেগুলো আগামী জুনের মধ্যে বহরে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। পুরোনো ফেরির বদলে আরও ১৫টি মিডিয়াম ফেরি, পাঁচটি ইউটিলিটি ফেরি এবং উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য দুটি ‘রোপ্যাক্স ফেরি’ নির্মাণের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
আগামী বছরের শুরুতে পায়রা বন্দর পুরোপুরি চালুর আশা : পায়রা বন্দর পুরোপুরি চালু করার বিষয়ে আশার কথা বলেছেন নৌমন্ত্রী। তিনি বলেন, বন্দরের জেটি থেকে ঢাকা-কুয়াকাটা সড়কের সংযোগ স্থাপনে আন্ধারমানিক নদীর ওপর ১ হাজার ১৮০ মিটার দীর্ঘ চার লেনের সেতু এবং ৬ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার ছয় লেনের টার্মিনাল সংযোগ সড়কের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। চলতি বছরের ডিসেম্বর নাগাদ এ কাজ শেষ হলে আগামী বছরের শুরুতে বন্দরটি পুরোপুরি চালু হওয়ার আশা করা হচ্ছে, বলেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, রাবনাবাদ চ্যানেলের নাব্যতা ধরে রাখা এবং বন্দরের নিজস্ব খনন সক্ষমতা তৈরির জন্য খননযন্ত্র কেনার অনুমোদন পেলে ২০২৭-২৮ সালের মধ্যে পায়রা বন্দরে সব ধরনের জাহাজ চলাচল করতে পারবে।
৩০ জেলায় মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হবে : লুৎফুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বর্তমানে দেশের ৩৪টি জেলায় ৩৭টি সরকারি মেডিকেল কলেজ রয়েছে। বাকি ৩০ জেলায় কোনো সরকারি মেডিকেল কলেজ নেই। এসব জেলায় মেডিকেল কলেজ স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে। জেলাগুলো হলো- নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, মুন্সীগঞ্জ, রাজবাড়ী, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, জয়পুরহাট, বাগেরহাট, ঝিনাইদহ, নড়াইল, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ভোলা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরগুনা, মৌলভীবাজার, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও ও শেরপুর। তবে মুন্সীগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ঠাকুরগাঁও, নাটোর, নরসিংদী, ভোলা, শেরপুর এবং লক্ষ্মীপুর জেলায় সরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে।
যক্ষ্মা রোগীর সংখ্যার আধিক্যে বাংলাদেশ অন্যতম : মোহাম্মদ এনামুল হকের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, যক্ষ্মা বাংলাদেশের জন্য একটি অন্যতম মারাত্মক জনস্বাস্থ্য সমস্যা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, যক্ষ্মা রোগীর সংখ্যার আধিক্যে বাংলাদেশ অন্যতম। ১৯৯৩ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যক্ষ্মাকে গ্লোবাল হেলথ ইমার্জেন্সি ঘোষণা করার পর থেকেই বাংলাদেশ সরকার যক্ষ্মার প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দারিদ্র্য, অপুষ্টি, ধূমপান, ডায়াবেটিস, মেলিটাস, অতিরিক্ত জনসংখ্যার ঘনত্ব এবং সচেতনতার অভাবসহ বিভিন্ন কারণে যক্ষ্মা সংক্রমণ বৃদ্ধি পায়। তিনি বলেন, যক্ষ্মা রোগের চিকিৎসা সেবা শনাক্তকরণের জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ ও ডায়াগনস্টিক সরঞ্জাম নিশ্চিতকরণের জন্য দাতা সংস্থা গ্লোবাল ফান্ডের অনুদানের পাশাপাশি সরকারি অর্থায়ন বৃদ্ধির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে ৩ হাজার ১৪২ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের প্রক্রিয়ার কার্যক্রম চলমান আছে।
নার্সের শূন্যপদ পূরণে নিয়োগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন : মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সিনিয়র স্টাফ নার্সের শূন্যপদ পূরণের লক্ষ্যে নিয়োগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন আছে। গত ১৩ মার্চ মিডওয়াইফ পদ পূরণের জন্য লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা শেষ হয়েছে। অতিদ্রুতই নিয়োগ কার্যক্রম শেষ করে শূন্যপদগুলো পূরণ করা হবে।
স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ : জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম ও ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। বুধবার স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের কার্যালয়ে আলাদা আলাদাভাবে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাতে হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, চীন বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরোনো ও বিশ্বস্ত বন্ধু। ১৯৭৭ সাল ছিল বাংলাদেশ ও চীনের কূটনৈতিক সম্পর্কের ইতিহাসে একটি মাইলফলক। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান চীন সফরের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পরবর্তীতে ১৯৯১ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সফর এই সম্পর্ককে আরও নতুন উচ্চতায় উন্নীত করে। সাক্ষাৎকালে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং উন্নয়ন অংশীদারিত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া, রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে চীনের ভূমিকা এবং বর্তমান বিশ্বের জ্বালানি তেলের সংকটের বিষয়ে আলোচনা হয়।
