আইএমএফের প্রতিবেদনে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ
অর্থনীতির গতি আরও কমবে
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল (আইএমএফ) বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি আরও কমবে। মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) হার চলতি অর্থবছরে তো কমবেই। আগামী অর্থবছরে এ হার আরও বেশি কমে যাবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি। তারা বলেছে, গত অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে তা কিছুটা বেড়ে ৪ দশমিক ৭ শতাংশ হতে পারে। তবে আগামী অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির হার আরও কমে ৪ দশমিক ৩ শতাংশে নামতে পারে। তবে মূল্যস্ফীতির হার গত অর্থবছরের তুলনায় কমতে থাকবে। গত অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ১০ শতাংশ। চলতি অর্থবছর শেষে তা কমে ৯ দশমিক ২ শতাংশে নামতে পারে। আগামী অর্থবছরে এ হার আরও কমে যাবে। সম্প্রতি প্রকাশিত আইএমএফের একাধিক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে সার্বিক প্রভাব নিয়ে আরও দুটি প্রতিবেদন প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
তবে সংস্থাটি বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম কিছুটা বাড়তে পারে। এতে বৈশ্বিক জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার কিছুটা বাড়বে। তবে এশিয়ার জিডিপির প্রবৃদ্ধি কমবে। জ্বালানি তেল ও গ্যাসের বাড়তি দামের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর প্রবৃদ্ধির হার বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমএফ।
সংস্থাটি মনে করে, যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এর প্রভাবে বৈদেশিক খাতে সার্বিক ভারসাম্যে ঘাটতি আরও বেড়ে যাবে। যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেলসহ অন্যান্য পণ্যের দাম বাড়ায় বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও এর চাপ বাড়বে। এদিকে রাজস্ব আহরণের দুর্বলতার কারণে সরকারের ব্যয় কমবে। তবে রাজস্ব খাত সংস্কারের জন্য সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ সুফল দিলে রাজস্ব আয় আগামীতে বাড়তে পারে।
মূলত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি কমার কারণেই চলতি অর্থবছরের তুলনায় আগামী অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির হার আরও কমে ৪ দশমিক ৩ শতাংশে নামতে পারে। চলতি অর্থবছরে তা হতে পারে ৪ দশমিক ৭ শতাংশ। তবে বিশ্বব্যাংকের হিসাবে প্রবৃদ্ধির হার আরও কম হবে।
এদিকে যুদ্ধের মধ্যেও ভারত, বাংলাদেশ ও নেপালের মতো দেশে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ছে। এর মানে হচ্ছে, যুদ্ধের প্রভাবে কর্মীরা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো ত্যাগ করেনি। যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের যেসব অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে, সেগুলোকে আবার পুনর্গঠন করতে হবে। এতে বাড়তি জনবলের প্রয়োজন হবে। ফলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়বে বলেই আশা করা যায়। রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়লে বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যের ঘাটতি বেশ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের পরও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার চলতি বছরের তুলনায় আগামী বছরে কিছুটা বাড়বে। গত অর্থবছরে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে তা কমে ৩ দশমিক ১ শতাংশ হতে পারে। আগামী অর্থবছরে তা সামান্য বেড়ে ৩ দশমিক ২ শতাংশ হতে পারে। চলতি বছরের তুলনায় আগামী বছরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবৃদ্ধি কমবে। তবে ইউরোপীয় অঞ্চলের প্রবৃদ্ধির হার বাড়বে।
এশিয়ার দেশগুলোর প্রবৃদ্ধি চলতি বছরে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ হতে পারে। আগামী বছরে তা কমে ৪ দশমিক ২ শতাংশে নামতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আইএমএফ। এর মধ্যে জাপান, সিঙ্গাপুর, চীন, মালয়েশিয়া ও ভিয়েতনামের প্রবৃদ্ধির হার কমতে পারে। ভারতের প্রবৃদ্ধির হার চলতি বছরের মতো আগামী বছরেও একই হতে পারে।
