Logo
Logo
×
   

Advertisement

শেষ পাতা

ইরানের নতুন প্রস্তাব

যুদ্ধ শেষের পর পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা

Advertisement

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

যুদ্ধ শেষের পর পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ওমানের সুলতান হাইসাম বিন তারিকের সঙ্গে মাসকটে বৈঠক করেন।

Advertisement

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি কূটনীতি ভেস্তে গেলেও দুই পক্ষের দূরত্ব ঘোচানোর কাজ থেমে নেই বলে জানিয়েছে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান। এদিকে সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতুন প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান। এই প্রস্তাবে যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এবং উপসাগরীয় নৌচলাচল নিয়ে বিরোধ না মেটা পর্যন্ত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা স্থগিত রাখার কথা বলা হয়েছে।

শনিবার ট্রাম্প তার দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জারেড কুশনারের ইসলামাবাদ সফর বাতিল করার পর থেকে শান্তি আলোচনার আশা ম্লান হতে শুরু করে। অথচ ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি দুইবার পাকিস্তানের রাজধানীতে ছুটে গেছেন। এরপর ওমান সফর শেষে সোমবার রাশিয়ায় যান আরাঘচি। সেখানে তিনি প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে পুতিন ইরানকে আশ্বস্ত করে বলেছেন, ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশগুলোর স্বার্থে তিনি সম্ভাব্য সবকিছু করবেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জ্যেষ্ঠ ইরানি সূত্রগুলো রয়টার্সকে জানিয়েছে, আরাঘচি যে প্রস্তাব নিয়ে ইসলামাবাদে গিয়েছিলেন, তাতে ধাপে ধাপে আলোচনার কথা বলা হয়েছে, যেখানে শুরুতে পারমাণবিক ইস্যুটি বাদ রাখা হবে। প্রথম ধাপে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলি যুদ্ধের অবসান ঘটাতে হবে এবং ওয়াশিংটন যেন পুনরায় যুদ্ধ শুরু না করে, তার নিশ্চয়তা দিতে হবে। এরপর আলোচকরা মার্কিন নৌ-অবরোধ এবং হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করবেন, যা ইরান নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে পুনরায় খুলে দিতে চায়। সবশেষে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। মূলত ইরান নিজেদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকারের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের একধরনের স্বীকৃতি পেতে চায়।

ইরানের নতুন প্রস্তাবের বিষয়ে হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস বলেন, এগুলো স্পর্শকাতর কূটনৈতিক আলোচনা এবং যুক্তরাষ্ট্র সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে দরকষাকষি করবে না। প্রেসিডেন্ট যেমনটা বলেছেন, সব তাসের টেক্কা যুক্তরাষ্ট্রের হাতেই রয়েছে। তারা এমন একটি চুক্তি করবে, যা যুক্তরাষ্ট্রের জনগণকে অগ্রাধিকার দেবে এবং ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেবে না।

এ নিয়ে শিগ্গিরই সরাসরি কোনো আলোচনা হচ্ছে না, তার প্রমাণ পাওয়া যায় পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের পরিস্থিতি দেখে। যে আলোচনার আশায় এক সপ্তাহ ধরে শহরটি অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল, সেখানকার রাস্তাঘাটগুলো আবার খুলে দেওয়া হয়েছে। আলোচনার ভেন্যু হিসাবে বিলাসবহুল যে হোটেলটি খালি করা হয়েছিল, সেটিও আবার সাধারণ মানুষের জন্য বুকিং নেওয়া শুরু করেছে।

পাকিস্তানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আলোচনা এখনো দূর থেকে চলছে। তবে দুই পক্ষ একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের কাছাকাছি না পৌঁছানো পর্যন্ত সশরীরে বৈঠকের কোনো পরিকল্পনা নেই।

শান্তির জন্য সম্ভাব্য সবকিছু করবেন পুতিন : আরাঘচি সোমবার রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় তিনি পুতিনের কাছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির বিশেষ বার্তা পৌঁছে দেন। বৈঠকে পুতিন বলেছেন, ইরানসহ ওই অঞ্চলের অন্য দেশগুলোর স্বার্থে রাশিয়া সম্ভাব্য সবকিছু করবে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ইরানের জনগণ বর্তমানের এই ‘কঠিন সময়’ কাটিয়ে উঠবে এবং সেখানে শান্তি ফিরে আসবে। ক্রেমলিন জানিয়েছে, তারা রাজনৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে এই সংঘাত নিরসনে এবং সমাধানের পথ খুঁজতে সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।

লেবাননে সংঘাত তীব্রতর : রোববার লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলি হামলায় ১৪ জন নিহত এবং ৩৭ জন আহত হয়েছেন। মধ্য এপ্রিলে মার্কিন মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এটিই লেবাননের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী দিন।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম