Logo
Logo
×
   

Advertisement

শেষ পাতা

৩ মে শুরু হচ্ছে ডিসি সম্মেলন

মাঠ প্রশাসনের সমস্যার সমাধান চাওয়া হবে

Advertisement

Icon

আমিরুল ইসলাম

প্রকাশ: ০১ মে ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

মাঠ প্রশাসনের সমস্যার সমাধান চাওয়া হবে

Advertisement

নতুন সরকারের সুশাসন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামনে রেখে আগামী ৩ মে থেকে শুরু হচ্ছে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন। ওই দিন সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন। দেশের সব জেলার ডিসি এবং বিভাগীয় কমিশনাররা সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন। মাঠপর্যায় থেকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা হওয়া এক হাজার ৭২৯টি প্রস্তাবের মধ্যে ৪৯৮টি প্রস্তাব সরকারের বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করা হবে। ৩ মে থেকে ৬ মে পর্যন্ত চলবে এবারের ডিসি সম্মেলন। এতে সভাপতিত্ব করবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গণি। সম্মেলনে ডিসিরা দেশের চলমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সুশাসনের বিষয়ে সরকারের পরামর্শ চাইবেন। ডিসি সম্মেলনে সম্পৃক্ত একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ করে এসব তথ্য জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সরকারের বয়স ২ মাসের একটু বেশি। এ সময়ের মধ্যে সরকারের কর্মকাণ্ড বোঝার চেষ্টা করছেন মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তারা। বিগত আওয়ামী সরকারের সময় ডিসিরা ছিলেন কিছুটা নির্ভার। তখন কর্মকর্তারা অধীনস্থদের দায় নিতেন। পরামর্শ দিতেন। ব্যক্তিগত গুরুতর অপরাধ ছাড়া যে কোনো বিষয়ে ডিসিরা সিনিয়রদের সহায়তা, পরামর্শ ও সার্বিক সহায়তা পেয়েছেন। এখন দেশে নতুন সরকার, নতুন প্রশাসন। অধিকাংশ ডিসির সঙ্গে শীর্ষ কর্মকর্তাদের পরিচয় নেই। এমনকি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অধিকাংশ কর্মকর্তার সঙ্গে ডিসিদের পরিচয় নেই। সম্মেলনের মাধ্যমে তারা পরিচিত হবেন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সরকার কি করতে চায়, নির্বাচনি মাঠে জনগণকে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সেগুলো নিয়ে সার্বিক আলোচনা হবে ডিসি সম্মেলনে।

মাঠ প্রশাসনে ডিসিরা আইনশৃঙ্খলাসহ ১২০টি কমিটির সভাপতি। তাদের নেতৃত্বে চলে দেশের তৃণমূলের প্রশাসন, জনসেবা এবং সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড। ডিসিদের কাছ থেকে মাঠ বোঝার চেষ্টা করবে সরকার। সম্মেলনে ডিসিরা জনগণের চাহিদা সরকারের কাছে তুলে ধরবেন। সরকার এবং বিরোধী দলের সংসদ-সদস্যদের আচরণ তুলে ধরবেন। এ ছাড়া সরকারদলীয় স্থানীয় নেতাকর্মীরা কী চান বা কী ধরনের আচরণ করেন তা তুলে ধরবেন। প্রকৃত ব্যবসায়ীদের দাবিও তুলে ধরবেন।

সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, সরকার চায় তার পরামর্শে ডিসিরা জনসেবায় সহায়তা করবে। সরকারের উন্নয়ন নীতি ও কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়ন করবে। সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের হয়ে কাজ করবে। এ ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা কী তা সরকারের উপদেষ্টা, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, সিনিয়র সচিব ও সচিবরা জানতে চাইবেন। মাঠের বাস্তবতা বলার সুযোগ পাবেন ডিসিরা। সরকারের তরফ থেকে তাদের দেওয়া হবে প্রয়োজনীয় পরামর্শ। এতে ডিসিরা সরকারের নতুন বার্তা নিয়ে মাঠে ফিরবেন।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সংশ্লিষ্টরা জানান, ডিসি সম্মেলন সরকারের সবচেয়ে বড় আয়োজন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এতবড় আয়োজন বছরে আর একটিও করেনি। দেশের সব ডিসির কর্মক্ষেত্রের সমস্যা নিয়ে আলোচনা ও সমাধানের পরামর্শ থাকবে এ সম্মেলনে। কোনো ডিসির এলাকার সমস্যা নদী, আবার কোনো ডিসির এলাকার নদী আশীর্বাদ, কোনো এলাকার জন্য খাল সমস্যা আবার কোথাও খাল কল্যাণের। কোনো জেলায় মাদক সবচেয়ে বড় সমস্যা, কোনো জেলায় বালুমহাল। ডিসি সম্মেলনে এসব বাস্তবতা তুলে ধরবেন তারা। আবার আইন আছে বাস্তবে প্রয়োগ নেই কিংবা যুগোপযোগী বা বাস্তবায়ন হয় না এমন বিষয়ও আলোচনায় থাকবে। যেখানে আইনি জটিলতায় জনস্বার্থ ও সরকারের স্বার্থ লঙ্ঘিত হচ্ছে-সেসব বিষয়ও আলোচনায় স্থান পাবে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা আরও জানান, সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা অনেক সময় আইন মানতে চান না। আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে নানা ধরনের অপরাধ করে বসেন। এর ফলে জনস্বার্থ বিঘ্নিত হয়-এমন বিষয়ও আলোচনায় আসবে। দেশে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার, কিশোর গ্যাং, দলবদ্ধ অপরাধ, ডাকাতি, খুন, ধর্ষণ কেন বাড়ছে তাও আলোচনায় স্থান পাবে। পাশাপাশি সাদা পাথর চুরি, সীমান্ত অপরাধ, চোরাচালান, দালালি, সরকারি অফিসে ভুয়া আবেদন, মিথ্যা সাক্ষ্য, দখলবাজি, সার-কীটনাশক ও বালাইনাশক চোরাকারবারি, ছোট মাছ আহরণ, আইন অমান্যের প্রবণতা প্রভৃতি বিষয়ও আলোচনা হবে সম্মেলনে।

এছাড়াও সরকারের নেওয়া সেবা কার্যক্রম জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে যেসব সমস্যা তৈরি হয় সে বিষয় নিয়েও আলোচনা হবে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, ভূমি সেবা, খাজনা আদায়, ল্যান্ড ট্রান্সপার নোটিশ, নাম খারিজ, খাসজমির অংশে ব্যক্তির জমির নামজারি, জলকর, নদী ভাঙনরোধ, আইনশৃঙ্খলা, পুলিশি সহায়তা, শিক্ষা-ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। একই সঙ্গে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের প্রভাবশালীদের ট্যাক্সের আওতায় আনার বিষয়েও কথা বলবেন তারা।

জানতে চাইলে সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররফ হোসাই ভূইয়া মঙ্গলবার যুগান্তরকে বলেন, ডিসি সম্মেলন খুবই গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট। যদিও বিষয়টি রুটির ওয়ার্ক। তবে অধিক অর্থবহ। সরকার যা চায় তা সরাসরি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের ব্যক্তিদের কাছ থেকে শোনার বড় সুযোগ এই সম্মেলন। আবার মাঠের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে শুনে সরকারে অনেক বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। অনেক সময় সরকার তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে পারে। কারণ ডিসিরা মাঠপর্যায় থেকে সব ধরনের দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে তথ্য নিয়ে এ সম্মেলনে আসেন।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম