সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ভোটে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রমাণ কেউ পায়নি
Advertisement
সংসদ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০১ মে ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বিশ্ববাসী বাংলাদেশের নির্বাচনকে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং এই নির্বাচনে তারা কোনো ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রমাণ পায়নি। এর পরেও যারা এই বিজয়কে খাটো করতে চান, তারা আসলে শহীদদের রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছেন। তিনি বলেন, কোনো একক শক্তি নয়, বরং ছাত্র-জনতা ও রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মিলিত অংশগ্রহণে বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে। তাই ২০২৬ সালের এই নতুন বন্দোবস্তের রাজনীতি যেন বৈষম্যহীন ও ন্যায়বিচারভিত্তিক হয়, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সভাপতিত্ব করেন। বিএনপি কখনোই জুলাই সনদ থেকে বিচ্যুত হয়নি, হবে না-উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সাড়ে ৯ বছরের নির্বাসন ও বিদেশের জেলখানায় কাটানো সময়গুলো তাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে। ইলিয়াস আলীর মতো গুম হওয়া নেতাদের পরিবারের কষ্টের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, তাদের সন্তানরা আজও বাতায়ন খুলে বাবার জন্য অপেক্ষা করে। তাদের সেই অশ্রুর মর্যাদা দিতে হলে আমাদের এমন এক রাষ্ট্র গড়তে হবে যেখানে আর কোনো মানুষ গুম হবে না, কারো অধিকার হরণ করা হবে না।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনী এবং তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকার, আলবদর, আলশামস ও জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে যারা লড়াই করেছেন, তারাই বীর মুক্তিযোদ্ধা এটি এখন সংসদীয় আইনে সাব্যস্ত। এই জাতীয় ইস্যু নিয়ে বারবার বিতর্ক সৃষ্টি করা জাতির জন্য সম্মানজনক নয়। বিরোধী দলকে উদ্দেশ করে মন্ত্রী বলেন, সংবিধান সংশোধন কমিটির জন্য নাম চেয়েও পাওয়া যায়নি, অথচ বাইরে সংস্কার পরিষদ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬-এ যখন কোনো গণভোট হয়নি, তখন কোন এখতিয়ারে ব্লু পেপারে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ ফরম তৈরি করা হলো। বিষয়টিকে সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদের স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসাবে অভিহিত করে মন্ত্রী বলেন, পদে পদে সংবিধান ভায়োলেশন করা হয়েছে। তিনি সংবিধানের ধারা উল্লেখ করে বলেন, অর্ডিন্যান্স বা অধ্যাদেশের মাধ্যমে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। যেকোনো বড় সংস্কারের ক্ষেত্রে জনগণের সরাসরি রায়ের প্রয়োজন রয়েছে বলেই বিএনপি গণভোটের প্রস্তাব দিয়েছিল। জাতীয় সনদ নিয়ে কোনো প্রকার বিভ্রান্তি ছড়ানো থেকে বিরত থাকার জন্য তিনি বিরোধীদলীয় সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।
