রাজশাহীতে আম পাড়া শুরু ১৫ মে
নওগাঁয় ২২ মে
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ মে ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চলতি মৌসুমে রাজশাহীতে আম পাড়া শুরু হবে ১৫ মে। এদিন থেকে চাষিরা গুটি জাতের আম গাছ থেকে নামিয়ে হাটবাজারে বিক্রির জন্য নিতে পারবেন। এরপর ধাপে ধাপে বাজারে আসবে বিভিন্ন জাতের আম। এছাড়া নওগাঁয় আম পাড়া শুরু হবে ২২ মে। ব্যুরো ও প্রতিনিধির পাঠানো খবর-
রাজশাহী : রাজশাহী জেলা প্রশাসনের সভা শেষে রোববার বিকালে চলতি মৌসুমের আমের ক্যালেন্ডার ঘোষণা করা হয়েছে। ১৫ মে গুটি জাতের আম পাড়া শুরু হবে। জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ, ফল গবেষণা ইনস্টিটিউট, আমচাষি, বাগান ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
ঘোষিত আম ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ১৫ মে থেকে গুটি আম, ২২ মে থেকে গোপালভোগ, ২৫ মে থেকে গোবিন্দভোগ, রানীপছন্দ, লক্ষণভোগ ও গোপালভোগ, ৩০ মে থেকে হিমসাগর বা ক্ষীরসাপাত পেড়ে বাজারে তোলা যাবে। এছাড়া ১০ জুন থেকে ল্যাংড়া ও ব্যানানা ম্যাংগো, ১৫ জুন থেকে হাইব্রিড আম্রপালি ও ফজলি সংগ্রহের অনুমতি থাকবে। এছাড়া পরবর্তী ধাপে ৫ জুলাই থেকে বারি আম-৪, ১০ জুলাই থেকে আশ্বিনা এবং ১৫ জুলাই থেকে গৌড়মতী আম নামানো যাবে। অন্যদিকে কাটিমন ও বারি আম-১১ জাতের আম সারা বছরই সংগ্রহ করা যাবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। সভা থেকে আরও জানানো হয়, কিছু গুটি আম গরমের কারণে কিছুটা আগেই পেকে যায়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার অনুমোদন সাপেক্ষে সেসব আম নির্ধারিত সময়ের আগেও সংগ্রহ করে বাজারে নেওয়া যাবে।
জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, অপরিপক্ব আম বাজারে আসা ঠেকাতে এবং ভোক্তাদের নিরাপদ ও মানসম্মত আম নিশ্চিত করতে প্রতিবছরের মতো এবারও আম পাড়ার সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।
চলতি মৌসুমে রাজশাহী জেলায় ১৯ হাজার ৬০২ হেক্টর জমিতে আমবাগান রয়েছে। এ পরিমাণ বাগান থেকে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৬০০ টন আম ফলনের আশা করছে কৃষি বিভাগ। আবহাওয়া অনুকূল থাকায় এবার রাজশাহীতে আমের আকার বড় হয়েছে। সেই হিসাবে আমের মোট ফলন প্রাক্কলিত মাত্রার চেয়ে বেশি হবে বলে আশা করছেন কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের কর্মকর্তারা।
নওগাঁ : বরেন্দ্র এলাকা নওগাঁ জেলা কৃষি অফিস ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আম সংগ্রহের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। রোববার বিকালে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে এক আলোচনা সভা শেষে ক্যালেন্ডার প্রকাশ করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। এ সময় জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক হোমায়রা মন্ডল বক্তৃতা করেন। এ সময় সাপাহার ও পোরশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কৃষি কর্মকর্তা, আমচাষি ও ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রকাশিত ক্যালেন্ডার থেকে জানা যায়, ২২ মে গুটি আম পাড়ার মধ্য দিয়ে আম নামানো শুরু হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে ৩০ মে গোপালভোগ, ২ জুন ক্ষীরসাপাত/হিমসাগর, ৫ জুন নাকফজলি, ১০ জুন ল্যাংড়া/হাঁড়িভাঙা, ১৫ জুন আম্রপালি, ২৫ জুন ফজলি ও ব্যানানা ম্যাংগো। এছাড়া দেরিতে পরিপক্ব হওয়া আম ৫ জুলাই আশ্বিনা/বারি-৪/বারি-১১/গড়মতী/কাটিমন আম সংগ্রহ করা যাবে।
নওগাঁ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, জেলায় ৩০ হাজার ৩১০ হেক্টর জমিতে আমবাগান রয়েছে, যা থেকে প্রায় ৪ লাখ ২২ হাজার টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। জেলায় ১৮ হাজার ৫২২ হেক্টর জমি আম্রপালি আমবাগান রয়েছে। এছাড়া ২ হাজার ৪৭০ হেক্টর জমিতে বারি-৪, আশ্বিনা ২ হাজার ৩২৩ হেক্টর, ল্যাংড়া ১ হাজার ৫৬০ হেক্টর, ক্ষীরসাপাত ১ হাজার ৪৭৬ হেক্টর এবং নাকফজলি ৯০০ হেক্টর। এছাড়া বিদেশি কিছু জাত রয়েছে।
বরেন্দ্র ভূমি হিসাবে পরিচিত জেলার সাপাহার, পোরশা, নিয়ামতপুর ও পত্নীতলা উপজেলার আংশিক এলাকা। জেলায় যে পরিমাণ আমবাগান রয়েছে, এর ৭০ শতাংশ এসব উপজেলায়। যেখানে আম্রপালি, গোপালভোগ, ক্ষীরসাপাত, হিমসাগর, ফজলি, ল্যাংড়া, হাঁড়িভাঙা, বারী-৪, আশ্বিনাসহ প্রায় ১৬ জাতের আম উৎপাদন হয়। এ জেলার আম অত্যন্ত সুস্বাদু ও সুমিষ্ট।
নওগাঁ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক হোমায়রা মন্ডল বলেন, জেলায় এ বছর প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার আম ব্যাণিজ্য হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।
নওগাঁ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, নির্ধারিত সময়ের আগে আম কোনোভাবেই নামানো যাবে না। যদি আমে কেমিক্যাল দেওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়, তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
