Logo
Logo
×
   

Advertisement

শেষ পাতা

রাজধানীতে কুরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা

কার্যক্রম পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কার্যক্রম পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী

Advertisement

পবিত্র ঈদুল আজহার কুরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম সরেজমিন পরিদর্শনে এক নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ঈদের পরদিন বিকালে কোনো ধরনের ভিআইপি প্রটোকল বা সাইরেন ছাড়া নিজেই গাড়ি চালিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন তিনি। প্রায় ৪ ঘণ্টার এই আকস্মিক পরিদর্শনে হাতিরপুল, ফার্মগেট ও কাওরান বাজারসহ বেশকিছু এলাকায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় চরম অবহেলা ও ময়লা জমে থাকার চিত্র প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। দায়িত্বে অবহেলার দায়ে তাৎক্ষণিক শাস্তির আওতায় আনা হয় সিটি করপোরেশনের দুই কর্মকর্তাকে। পরে আরও ৬ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

শুক্রবার দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত প্রায় ৪ ঘণ্টা রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী গুলশান অ্যাভিনিউয়ের বাসা থেকে বেরিয়ে প্রথমে গুলশান-১ নম্বর মোড় হয়ে হাতিরঝিল, রামপুরা রোড, মালিবাগের আবুল হোটেল দিয়ে তালতলা মার্কেট হয়ে বাসাবোর দিকে যান। এরপর কমলাপুর স্টেডিয়াম, সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড, যাত্রাবাড়ী মোড়, ধোলাইখাল হয়ে শহীদ ফারুক সড়ক, দয়াগঞ্জ সড়ক দিয়ে নারিন্দা হয়ে রায়সাহেব বাজার মোড় দিয়ে আদালত সড়ক হয়ে নয়াবাজার, বংশাল রোড হয়ে গুলিস্তান, শাহবাগ, এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর দিয়ে নিউ মার্কেট ও সায়েন্স ল্যাবরেটরি, কলাবাগান, মিরপুর রোড, সিটি কলেজের সামনে দিয়ে সীমান্ত স্কয়ার হয়ে জিগাতলা বাসস্ট্যান্ড, ধানমন্ডি সাত মসজিদ রোড, ২৭ নম্বর সড়ক দিয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ হয়ে পান্থপথ, ফার্মগেট, বিজয় সরণি হয়ে মহাখালী সড়কের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিস্থিতি ঘুরে দেখেন প্রধানমন্ত্রী।

পরিদর্শনকালে হাতিরপুল, এলিফ্যান্ট রোড, গ্রীনরোড, ফার্মগেট ও কাওরান বাজার এলাকায় কুরবানির পশুর বর্জ্যরে পাশাপাশি আগের জমে থাকা ময়লা রাস্তায় পড়ে থাকার বিষয়টি নজরে আসে প্রধানমন্ত্রীর। এ সময় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২ আঞ্চলিক কর্মকর্তাকে অপসারণ করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। ওই ২ কর্মকর্তা হলেন-ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-৫-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাদেকুর রহমান এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-১-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী সালেহ মুস্তানজির। দুজনই উপসচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা ছিলেন। বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর গাড়িতে ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির বিশেষ সম্পাদক মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন মৃধা ও প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-২ মেহেদুল ইসলাম।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর পরিদর্শনের সময় রাস্তায় পড়ে থাকা বর্জ্য কুরবানির নয় বরং বাসাবাড়ি থেকে ফেলা গৃহস্থালি ময়লা ছিল বলে দাবি করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যে রাস্তা দিয়ে গিয়েছিলেন সেখানে কিছু বর্জ্য ছিল। তবে সেই বর্জ্য কুরবানির নয়, বাসাবাড়ির গৃহস্থালি বর্জ্য ছিল। সেই কারণে তাদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। পরে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আপাতত তাদের ক্লোজ করা হয়েছে। ডিএনসিসি প্রশাসক আরও বলেন, আমাদের ৭৫২টি যানবাহন সচল ছিল। ডিএনসিসি অনেক বড় একটি এলাকা। কিছু জায়গায় অল্পসংখ্যক পরিবহণ সাময়িকভাবে বিকল হয়ে গিয়েছিল। পরে অন্য জায়গা থেকে ব্যবস্থা নিয়ে সেগুলো সচল করা হয়েছে। মেট্রোরেল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো কিছু তথ্যকেও ‘ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেন উত্তর সিটির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, এআই দিয়ে তৈরি কিছু ছবি ব্যবহার করে মেট্রোরেলের গ্রিল ভেঙে যাওয়া বা লিফট অচল হয়ে যাওয়ার মতো বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়েছে।

এদিকে রোববার নগর ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম জানান, ঈদের দিন থেকে শনিবার রাত ১২টা পর্যন্ত মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে মোট ৩৬ হাজার ৮৬ টন বর্জ্য চূড়ান্তভাবে ডাম্পিং করা হয়েছে। যেখানে এ বছরের কুরবানির বর্জ্য অপসারণের প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৩ হাজার ৯৪২ টন। এ কার্যক্রম পরিচালনায় ডিএসসিসির নিজস্ব জনবল ও পিসিএস কর্মীসহ মোট ১৩ হাজার ৪৫৩ জন কর্মী মাঠপর্যায়ে কাজ করেছেন। বর্জ্য পরিবহণে ৩৮২টি বিশেষ যান-যন্ত্রপাতিসহ মোট ২ হাজার ১১৭টি ছোট-বড় যানবাহন ব্যবহার করা হয়।

কুরবানির ১১টি অস্থায়ী পশুর হাটের বর্জ্য অপসারণের শর্ত অনুযায়ী দায়িত্ব পালন না করায় সংশ্লিষ্ট ইজারাদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ডিএসসিসি। প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, নির্ধারিত সময়ে বর্জ্য অপসারণ না করায় জনভোগান্তি এড়াতে সিটি করপোরেশনকে নিজ উদ্যোগে এসব হাটের বর্জ্য পরিষ্কার করতে হয়েছে। এতে সামগ্রিক কার্যক্রম কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। শর্তভঙ্গকারী ইজারাদারদের জামানত বাজেয়াপ্ত ও কালো তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আগামী বছর থেকে অস্থায়ী পশুর হাটের জামানতের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হবে।

এদিকে, ৩ দিনে ৩৬ হাজার টন বর্জ্য অপসারণের দাবি করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। প্রশাসক শফিকুল ইসলাম জানান, কুরবানির বর্জ্য অপসারণে নেওয়া ৭২ ঘণ্টার কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী ঈদের প্রথম তিন দিনে (শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত) মোট ১৮ হাজার ৩৪৪ টন বর্জ্য ল্যান্ডফিলে অপসারণ করা হয়েছে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম