আসলামের কলাম
কুরাসাওয়ের খেলা ছোট দেশের অনুপ্রেরণা
জানা-অজানা: বিশ্বকাপ
Advertisement
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
যে কোনো বৈশ্বিক আসরে ছোট দেশগুলোর বড় সাফল্য আমাদের গর্বিত করে। একজন খেলোয়াড় হিসাবে আমি অত্যন্ত আনন্দিত হই, যখন শুনি কোনো ছোট দেশ প্রাপ্তিতে প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে যায়। এবারের বিশ্বকাপে ক্যারিবীয় দ্বীপাঞ্চলের খুদে রাষ্ট্র কুরাসাওয়ের অভিষেক তেমনি একটি অনন্য অর্জন। মাত্র এক লাখ ৫৮ হাজার জনসংখ্যার এই দ্বীপরাষ্ট্রের অভিষেক হচ্ছে আজ বিশ্বকাপে। শুরুতেই তাদের সামনে চারবারের চ্যাম্পিয়ন জার্মানি, ফুটবল-ঐশ্বর্যে যারা যোজন মাইল এগিয়ে। তবে শক্তি-দুর্বলতার তুলনা একপাশে সরিয়ে রেখে আমি বলব, বিশ্ব ফুটবলের মানচিত্রে কুরাসাওয়ের আবির্ভাব অবিশ্বাস্য। এ এক বিরাট ব্যাপার। অনন্য অর্জন। ছোট দেশগুলোর জন্য বিরাট অনুপ্রেরণা। বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন দেখে যারা, কুরাসাও তাদের জন্য হতে পারে ‘আদর্শ পাঠশালা’।
শুধু একঝাঁক গুণগতমানসম্পন্ন খেলোয়াড় থাকলেই হয় না। আমি তো বলব, বিশ্বমঞ্চে আবির্ভূত হওয়ার একাধিক শর্তের মধ্যে অন্যতম সাংগঠনিক সক্ষমতা। কোয়ালিটি না হলে বিশ্বকাপে কোনো দেশ কোয়ালিফাই করতে পারে না। আমরা যখন খেলতাম, আমাদের স্বপ্ন ছিলেন ইয়োহান ক্রুয়েফ। টোটাল ফুটবলের জনক নেদারল্যান্ডসের সোনালি প্রজন্মের প্রতিনিধি ক্রুয়েফের ফুটবল-শিল্প আমাদের বিমোহিত করত। ফুটবলও যে একটা শিল্পকর্ম, তার খেলা যারা দেখেছেন, তারা অনুধাবন করেছেন। আজ কমলা জার্সিধারী ডাচদের প্রথম প্রতিপক্ষ সূর্যোদয়ের দেশ জাপান, যারা এশিয়ার ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি। বিশ্ব ফুটবলে জাপান যে এতদূর এসেছে, তার নেপথ্যে রয়েছে তাদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং তার যথাযথ বাস্তবায়ন। পাশাপাশি ঘরোয়া ফুটবলের শক্ত কাঠামো জাতীয় দলের জন্য খেলোয়াড় সরকারের পাইপলাইন ঠিক রেখেছে। জে-লিগের সফলতাকে এর জন্য কৃতিত্ব দিতে হবে। এশিয়ার প্রতিনিধি হিসাবে জাপানের বহুদূর যাওয়া আমার কাম্য।
গত পরশু রাতে কানাডা ও বসনিয়া এবং বাংলাদেশ সময় শনিবার সকালে যুক্তরাষ্ট্র-প্যারাগুয়ে ম্যাচ দিয়ে উপসংহার টানি। কানাডা ভালো খেলেছে। যোগ্য দল হিসাবে পিছিয়ে পড়েও ১-১ গোলের ড্রয়ে বিশ্বকাপে প্রথম পয়েন্ট পেয়েছে তারা। এককথায়, প্রাধান্য বিস্তার করে খেলেছে কানাডা।
এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আসর শুরু করেছে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ৪-১ গোলের জয় দিয়ে। অভিবাসী ফুটবলার ফ্লোরিন বালোগানের জোড়া গোল তাদের বড় জয়ের ভিত গড়ে দেয়। আমার দৃষ্টিতে যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) ইন্টার মায়ামির হয়ে লিওনেল মেসির খেলাটাই সেদেশের যুব সমাজকে উদ্বুদ্ধ করেছে। মেসিই মার্কিন ফুটবলে নতুন জাগরণ তৈরি করেছেন।
