বস্তা সরবরাহ না থাকায় নতুন সংকট
ধান-চাল সংগ্রহে চরম বিপাকে খাদ্য বিভাগ
Advertisement
ফাইল ছবি।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ধান ও চাল সংগ্রহে বিপাকে পড়েছে খাদ্য প্রশাসন। বস্তা সরবরাহ না থাকায় মাঠপর্যায়ে ধান-চাল সংগ্রহ করে তা রাখার সংস্থান করতে না পারায় এ সংকট তৈরি হয়েছে। বাজেটে বস্তা কেনার জন্য সরকারি বরাদ্দ রাখা হয়েছে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা। বিগত ৫৪ বছরেও চাল ও ধান সংগ্রহে বস্তা কেনার প্রস্তাব কখনই অনুমোদনের জন্য সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে পাঠায়নি খাদ্য মন্ত্রণালয়। এবারই প্রথম প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভা কমিটিতে উত্থাপন করা হয়েছে। মন্ত্রিসভা কমিটি বারবার জানতে চাচ্ছে কেন এত বছর এ ধরনের প্রস্তাব পাঠানো হয়নি। সমস্যা দেখা দিয়েছে, অতীতে মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে খাদ্য বিভাগের কেনাকাটা হলেও এবার সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে উত্থাপনের কারণে কর্মকর্তারা পড়ছেন প্রশ্নের মুখে।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের পরিচালক (সংগ্রহ) মো. মনিরুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, সরকারি সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বস্তা কেনার কোনো সুযোগ নেই। আগের সরকার বস্তা কেনার প্রস্তাব মন্ত্রণালয় পর্যায়ে নিষ্পত্তি করত। কিন্তু বর্তমান সরকার প্রস্তাবটি সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন নেওয়া জরুরি বলে মনে করছে। বস্তা পেতে সময় লাগছে। তবে আতঙ্কিত হওয়ার কিছুই নেই। এখনো আড়াই মাস বাকি আছে। প্রয়োজনে সরকার ধান-চাল কেনার সময় আরও এক মাস বাড়িয়ে দেবে। বর্তমানে দেশে প্রায় ২১ লাখ টন চাল ও গম মজুত রয়েছে। সুতরাং ধান-চাল কেনা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।
চলতি মৌসুমে ১২ লাখ টন সিদ্ধ চাল, ৫ লাখ টন ধান, এক লাখ টন আতপ চাল কেনার প্রস্তাব খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটিতে (এফপিএমসি) অনুমোদন দেওয়া হয়। এছাড়া কিছু দেশীয় গমও কেনার কথা রয়েছে।
খাদ্য বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা যুগান্তরকে জানান, ১ মে থেকে ধান ও চাল কেনা শুরু হয়েছে। কৃষকরা ধান নিয়ে গুদামে আসছেন। তবে বস্তার অভাবে ধান ক্রয় করতে সমস্যা হচ্ছে। চলতি বছর এ পর্যন্ত কেনা সব ধান-চাল রাখা হয়েছে একবার ব্যবহার করা পুরোনো বস্তায়। এ ধরনের বস্তায় ধান ও চাল রাখায় কম সময়ে আর্দ্রতায় ভিজে যায়।
এসব ক্ষেত্রে সব দোষ বর্তায় গুদাম কর্মকর্তার ওপর। অথচ সরকার সঠিক সময়ে বস্তা সরবরাহ করতে না পারার বিষয়টি থেকে যায় আড়ালে।
খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, বস্তা কেনার কার্যক্রম শুরু হয় গত বছর নভেম্বর থেকে। তখন অন্তর্বর্তী সরকার ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির মিটিং করতে পারেনি। এরপর উপদেষ্টা পরিষদ ভেঙে দেওয়া হয়। নির্বাচন চলে আসে। নির্বাচনে জয়ী হয় বিএনপি। সরকার গঠনের পর সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করতে মার্চ শেষ হয়ে যায়। এরপর ধান ও চাল সংরক্ষণের জন্য সরকারি ক্রয় কমিটিতে পাঠানো হয় বস্তা ক্রয়ের প্রস্তাব। ক্রয় কমিটির একাধিক ‘কোয়ারির’ মধ্যে ঈদুল আজহার ছুটি শুরু হয়। ফলে শেষ পর্যন্ত বস্তা কেনা আর সম্ভব হয়নি। এতে করে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা আগের পুরোনো বস্তায় ধান ও চাল সংরক্ষণ করছেন।
খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা আরও জানান, খাদ্য বিভাগ সম্পর্কে সূক্ষ্মভাবে বুঝবেন এমন কোনো উচ্চপর্যায়ের দায়িত্বশীলরা (মন্ত্রী-এমপি, সচিব, ডিজি) কেউ ইতঃপূর্বে খাদ্য বিভাগের কোনো দায়িত্ব পালন করেননি। এ কারণে পরিচালক, অতিরিক্ত পরিচালক, আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক (আরসি-ফুড), জেলা খাদ্য কর্মকর্তারা (ডিসি-ফুড) যা বলেন তা শুনেই সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাদের। খাদ্য হতে হবে মানসম্মত। কোনো ধরনের পচা, দুর্গন্ধযুক্ত মানহীন খাবার হলে চলবে না। এসব বিষয়ে দায়িত্বশীলদের ভালো ধারণা থাকতে হয়।
একজন কর্মকর্তা বলেন-সেনা, নৌ এবং বিমানবাহিনীর খাদ্য সরবরাহ করে খাদ্য বিভাগ। বিজিবি, পুলিশ, আনসার, কোস্ট গার্ড, বিডব্লিউবি, মাছ আহরণ বন্ধের সময় জেলেদের খাবারও সরবরাহ করে খাদ্য বিভাগ। চালের মান যদি খারাপ হয় তাহলে আবার গণমাধ্যম সোচ্চার হয়ে উঠে। সাবেক মন্ত্রী কামরুল ইসলামের সময় চাল ও গম নিুমানের কেনায় গণমাধ্যম শিরোনাম করেছিল ‘গমরুল’ নামে। বিষয়গুলো সঠিক সময়ে না হলে বিভ্রান্তি তৈরি হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

