দখল, চাঁদাবাজি ও মামলা বাণিজ্য
এমপি আজহারুলের ছেলে সজীব আটক
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক খাইরুল ইসলাম সজীবকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার দুপুরে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাড়ি থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহযোগিতায় নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ তাকে আটক করে। পরে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সজীব নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে বিএনপির সংসদ-সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের বড় ছেলে।
জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী জানান, সজীবের বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ জেলা পুলিশের কাছে একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে। সে বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে আটক করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সজীবকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, সজীবের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ এসেছে সেগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা মিলে তবে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে এখন পর্যন্ত অভিযোগকারীরা মামলা করেনি। জেলা পুলিশের আরেক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, খায়রুল ইসলাম সজীবের বিরুদ্ধে পাঁচ আগস্ট (২০২৪) পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন ব্যক্তির নামে মামলা দিয়ে বাণিজ্য, সোনারগাঁ ও সিদ্ধিরগঞ্জের বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে হয়রানি, ওয়েস্টেজ মালামালের ব্যবসা দখল ও নিয়ন্ত্রণ করা, মেঘনা শিল্পাঞ্চলে গড়ে ওঠা শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া কাঁচপুরের কুতুবপুর এলাকার মৃত কুদরত আলীর ছেলে ডালিমের নেতৃত্বে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা দখলে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এদিকে বিএনপি কয়েকজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে বেপরোয়া হয়ে ওঠে জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সজীব। বাবার প্রভাব খাটিয়ে সোনারগাঁ ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকায় একচ্ছত্র কতৃত্ব গড়ে তুলেছে। আছে নিজস্ব বাহিনী। সজীব দলের সিনিয়র নেতাদের পাত্তা দেন না। নেতাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। পাঁচ আগস্টের পর মেঘনা শিল্পাঞ্চলে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বাড়িঘর ভাঙচুর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল করেন। এছাড়া সজীবের বিরুদ্ধে বড় কয়েকটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিকরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দিয়েছেন।
তবে সরকারে একটি গোয়েন্দা সংস্থার সূত্র জানায়, সজীবের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের কারণেই তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ-সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান যুগান্তরকে বলেন, ‘আমি সংসদে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। এমন সময় পুলিশ আসে। পরে আমার গাড়িতে করেই সজীব নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের কার্যালয়ে যায়। সেখানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তাকে আবার ঢাকা ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেওয়া হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেবে।’
কী কারণে তাকে নিয়ে গেছে-এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মেঘনা গ্রুপের মালিক মোস্তফা কামাল বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ওবায়দুল কাদেরের প্রভাব খাটিয়ে আমার বেশ কিছু পৈতৃক সম্পত্তি দখল করেছে। সজীব মেঘনা গ্রুপের মালিককে বলেছে, আমাদের সম্পত্তি হয় কিনে নেন, অন্যথায় দখল ছেড়ে দেন। এ কারণে তিনি পুলিশের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন বলে শুনেছি।’
সংগঠন থেকে বহিষ্কার : নানা অনিয়মের জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগে খাইরুল ইসলাম সজীবকে জেলা যুবদলের প্রাথমিক সদস্যসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি ইতোমধ্যে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে। কেন্দ্রীয় যুবদলের সহসভাপতি (দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত) নুরুল ইসলাম সোহেল স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বহিষ্কারের কথা জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, বহিষ্কৃতদের কোনো অপকর্মের দায় দল নেবে না। সজীবের সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখতে যুবদলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে নির্দেশ দেওয়া হলো।
