Logo
Logo
×
   

শেষ পাতা

ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে ‘দোসর’ আখ্যা দিয়ে সাংবাদিককে মারধর

জামায়াতের দুঃখ প্রকাশ ছাত্রদলের নিন্দা

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে ‘দোসর’ আখ্যা দিয়ে সাংবাদিককে মারধর

রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে মঙ্গলবার সাংবাদিকদের ওপর জামায়াত কর্মীদের হামলা -যুগান্তর

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদের বিরুদ্ধে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ আখ্যা দিয়ে সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে হামলায় আহত মাহফুজুর রহমান শিশির দৈনিক সকালের মালটিমিডিয়া রিপোর্টার। তবে এই হামলাকে অনাকাঙ্ক্ষিত, অনভিপ্রেত ও দুঃখজনক বলে উল্লেখ করে জামায়াতে ইসলামী জানিয়েছে, দলের কারও সংশ্লিষ্টতা থাকলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ছিল মঙ্গলবার। পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসাবে এদিন বিক্ষোভ মিছিল করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ধানমন্ডি জোনের নেতাকর্মীরা। সকালে কলাবাগান থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়ে সোবহানবাগ মসজিদ এলাকা ঘুরে ধানমন্ডি-৩২ নম্বর সড়কে এসে শেষ হয়। সেখানে বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর ধানমন্ডি জোনের নেতারা। এ সময় নেতাদের বক্তব্য সংক্ষিপ্ত করতে অনুরোধ জানান উপস্থিত সাংবাদিকরা। এতে জামায়াতের নেতাকর্মীরা চটে যান। ক্ষুব্ধ হয়ে তারা মাহফুজুর রহমান শিশিরকে ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ আখ্যা দিয়ে মারধর করেন। এ সময় আরও চার-পাঁচজন সাংবাদিক আহত হন। হামলার পর শিশিরকে অন্য সাংবাদিকরা উদ্ধার করে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসা শেষে তাকে বাসায় পাঠানো হয়।

মারধরের শিকার শিশির বলেন, মিছিল শেষ করে জামায়াতের নেতারা বক্তব্য দিচ্ছিলেন। তখন টিভির ক্যামেরাম্যানরা মূল বক্তাদের বক্তব্য দেওয়ার অনুরোধ জানান। তখন জামায়াতের হাজারীবাগ থানার আমির বলেন, আমরা সবাই বক্তব্য দেব-আপনারা থাকলে থাকেন, না থাকলে নাই। আপনাদের দরকার নাই। আমি তখন প্রতিবাদ করে বলি-আপনারা এভাবে আমাদের সঙ্গে কথা বলতে পারেন না। এরপর কয়েকজন এসে আমার আইডি কার্ড চেক করে। আমি আইডি কার্ড পকেট থেকে বের করার আগেই আমাকে মারধর শুরু করে।

এদিকে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনাকে অনাকাঙ্ক্ষিত, অনভিপ্রেত ও দুঃখজনক বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। মঙ্গলবার বিকালে দলের কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের এক বিবৃতিতে বলা হয়, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর যে কোনো ধরনের চড়াও হওয়া বা সহিংসতা সৃষ্টি করা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। ধানমন্ডিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি চলাকালে উপস্থিত কিছু অতি উৎসাহী ব্যক্তি বা অনাকাঙ্ক্ষিত বহিরাগতদের উসকানিতে এ অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনার পেছনে প্রকৃতপক্ষে কারা জড়িত এবং কীভাবে এই ভুল বোঝাবুঝির সূত্রপাত হলো-তা খতিয়ে দেখতে দলের পক্ষ থেকে একটি অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা করা হবে। যদি দলের কোনো স্তরের কর্মীর সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হয়-তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দোষী ব্যক্তিদের বিচার না করলে জামায়াতের সব কর্মসূচি বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (এমআরএ)। রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে বিকালে আয়োজিত মানববন্ধনে এমআরএ সভাপতি সাংবাদিক ফখরুল ইসলাম বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা করার এই রীতি কিন্তু আজকে নতুন নয়। এর আগেও দেখেছি পুলিশ আমাদের পেটাচ্ছে, অন্যান্য রাজনৈতিক দল আমাদের পেটাচ্ছে। তারা সাংবাদিকদের হামলা করে, মারধর করে রাতে এসে আবার একটা ছবি তুলবে, ফুল দেবে, সমবেদনা জানাবে, এরপর শেষ।

গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলা গণতন্ত্রবিরোধী : সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িত জামায়াত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। মঙ্গলবার ছাত্রদলের এক বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ দাবি জানান। বিবৃতিতে তারা বলেন, গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলা কোনো স্বাধীন, গণতান্ত্রিক ও সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়। বিরোধী দলে থাকতেই জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা যেভাবে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালিয়েছে-তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম