প্রশাসনে বঞ্চিত কর্মকর্তা ৬০০
৭ জনের আবেদন বিবেচনায় কমিটি গঠনে অসন্তোষ
Advertisement
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
আওয়ামী সরকারের আমলে প্রশাসনে পদোন্নতি, পদায়নবঞ্চিত ও বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার কর্মকর্তার সংখ্যা প্রায় ৬শ। এর মধ্যে ৭ জনের পদোন্নতির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে গত ১৮ জুন একজন অতিরিক্ত সচিবকে প্রধান করে কমিটি গঠন করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। বিষয়টি জানাজানি হলে বিভিন্ন স্তরের বঞ্চিত কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দেয়। যদিও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সাবেক অর্থ সচিব ও বিশ্বব্যাংকের বিকল্প পরিচালক জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে বঞ্চিতদের বিষয় বিবেচনায় গঠিত কমিটির করা সুপারিশ বাস্তবায়নে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আওয়ামী সরকারের সময় রাজনৈতিক কারণে পদোন্নতি ও পদায়নসহ বিভিন্ন কারণে বঞ্চিত ৭ জন কর্মকর্তার আবেদন পর্যালোচনার জন্য গত ১৮ জুন ৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে সরকার। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা) কাজী মুহাম্মদ মুজাম্মেল হককে। সদস্য হিসাবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিধি), মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, অর্থ বিভাগ এবং আইন ও বিচার বিভাগের একজন যুগ্মসচিবকে। কমিটিকে ৭ জন কর্মকর্তার আবেদন যাচাই-বাছাই করে রাজনৈতিক কারণে পদোন্নতি বঞ্চনার বিষয়ে পর্যালোচনার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী এক মাসের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়।
বিষয়টি নিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ-পদোন্নতি ও প্রেষণ (এপিডি) আকনুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সাবেক সচিব জাকির আহমেদ খানকে প্রধান করে গঠিত কমিটির অসমাপ্ত সুপারিশ বাস্তবায়নে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। যে ৭ জন কর্মকর্তার আবেদন বিবেচনার জন্য নতুন করে এই কমিটি করা হয়েছে, তাদের বিষয়ে আগের কমিটির সুপারিশ রয়েছে। আগের কমিটির সুপারিশ এতদিন বাস্তবায়ন করা হয়নি কেন-এমন প্রশ্নের কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
সাবেক কৃষি সচিব আনোয়ার ফারুক যুগান্তরকে বলেন, কমিটি গঠনের জন্য সরকারকে স্বাগত জানাই। তবে বঞ্চিত সব কর্মকর্তার আবেদন বিবেচনা করলে ভালো হতো। সরকারে যারা আছেন তারা বিষয়টি ভেবে নতুন করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
সাবেক অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ ফিরোজ মিয়া যুগান্তরকে বলেন, এ ধরনের আংশিক কাজ প্রশাসনকে গণ-আস্থার সংকটে ফেলবে। সরকার বিভ্রান্ত হবে। যেসব আমলা এ ধরনের কাজে বুদ্ধি-পরামর্শ দিচ্ছেন তাদের বিষয়ে সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে।
ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (প্রশাসন) ক্যাডারের এগারোতম ব্যাচের কর্মকর্তা মো. মামুনুর রশিদ যুগান্তরকে বলেন, চাকরিতে যোগদানের পর সিনিয়র সহকারী সচিব হিসাবে ২০২৫ সালের ১ জুলাই অবসরে গিয়েছি। বিগত আওয়ামী সরকার ১২ হাজার টাকা আত্মসাতের একটি মামলা দিয়েছিল আমার বিরুদ্ধে। ওই সরকারের সময়ই আমি নির্দোষ প্রমাণিত হই। কিন্তু আমাকে ৫ বার পদোন্নতিবঞ্চিত করা হয়েছে। অর্থাৎ উপসচিব, যুগ্মসচিব, অতিরিক্ত সচিব এবং সিনিয়র সচিব-এসব পদে পদোন্নতি বিবেচনা করেনি বিগত সরকার। তিনি আরও জানান, আমি সাবেক মন্ত্রী লুৎফর রহমান খান আজাদের একান্ত সচিব (পিএস) ছিলাম।
বিসিএস ৮৪ ব্যাচের কর্মকর্তা সাবেক অতিরিক্ত সচিব আবুয়াল হোসেন যুগান্তরকে বলেন, জীবনে প্রথমবার পরীক্ষায় অংশ নিয়ে প্রশাসন ক্যাডারে চাকরি পেয়েছি। চাকরি জীবনে যশোর ও নোয়াখালীতে ডিসি ছিলাম। কোনো ধরনের অনিয়ম কিংবা দুর্নীতি করিনি। আওয়ামী সরকার আমাকে পদোন্নতিবঞ্চিত করেছে। আমার ব্যাচের সর্বশেষ জনেরও পদোন্নতি হয়েছে। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অদৃশ্য কারণে আমার আবেদন বিবেচনা করেননি। বর্তমান সরকারের সময় প্রতিকারের প্রত্যাশায় ছিলাম। কিন্তু মাত্র ৭ জন কর্মকর্তার পদোন্নতি বিবেচনার জন্য গঠিত তদন্ত কমিটির আদেশ দেখে মর্মাহত হয়েছি।
বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ১৯৮৫ ব্যাচের কর্মকর্তা সাবেক অতিরিক্ত সচিব ড. নাসির উদ্দিন খান যুগান্তরকে বলেন, আমি অবসরপ্রাপ্ত বঞ্চিত অতিরিক্ত সচিব ফোরামের সদস্য ও আহ্বায়ক। এ ধরনের কমিটি গঠনকে হাস্যকর কর্ম বলে মনে করি। আমরা সরকারের কাছে ইনসাফ ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে ফয়সালা দাবি করছি।

