২৪ ঘণ্টায় আরও ৯ মৃত্যু
হামে শিশুমৃত্যু সাতশ ছুঁইছুঁই
উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা ছয়শ ছাড়িয়েছে
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
হামে আক্রান্ত ৬ মাস বয়সি ইসমাকে নিয়ে চিন্তিত মা লিমা। বৃহস্পতিবার রাজধানীর শিশু হাসপাতালে -যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মিজেলস ভাইরাসবাহিত রোগ হামে আক্রান্ত ও মৃত্যুর মিছিল যেন থামছেই না। বুধবার সকাল আটটা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল আটটা পর্যন্ত হাম সন্দেহে আরও ৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশে হাম সন্দেহে শিশু মৃত্যুর সংখ্যা ছয়শর (৬০৫) ঘর ছাড়িয়ে গেল।
অন্যদিকে চলতি বছর হামে নিশ্চিতভাবে ৯৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সব মিলে ভাইরাসটিতে মৃত্যুর সংখ্যা সাতশর (৬৯৮) ঘর ছুঁইছুঁই করছে। বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলেছে, ২৪ ঘণ্টায় ৮৯৩ জন হামের লক্ষণ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়েছেন। এদের মধ্যে ভর্তি নেওয়া হয়েছে ৮৬০ শিশুকে। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগের হাসপাতালগুলোতে ৩২৪ জন, রাজশাহীতে ৪৫, সিলেটে ৫৫, চট্টগ্রামে ২১১, বরিশালে ১২১, ময়মনসিংহে ৫২, খুলনায় ৩৮ ও রংপুরের হাসপাতালগুলোতে ১৫ শিশু ভর্তি হয়েছে।
১৫ মার্চ থেকে দেশের হাসপাতালগুলোতে হামের লক্ষণ নিয়ে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮০ হাজার ৪৯৭ জন। এর মধ্যে ৭৬ হাজার ৭৮৮ জন চিকিৎসা নিয়ে ফিরে গেছেন। স্বাস্থ অধিদপ্তরের হিসাবে, দেশে উপসর্গ থাকা নিশ্চিত রোগীয় সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৬ হাজার ৬৫৩ জন। আর হাম নিশ্চিত শনাক্ত হয়েছে ১১ হাজার ৪৪২ জনের শরীরে। ১৫ মার্চ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৭৬ হাজার ৭৮৮ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে আরও জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে মৃতদের মধ্যে ৮ জন ঢাকা বিভাগের এবং একজন সিলেট বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন। ১৫ মার্চ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত হামের উপসর্গে ৬০৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি।
সারা দেশে ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ২৬২ জন ঢাকা বিভাগে মারা গেছে। এর বাইরে রাজশাহী বিভাগে ৮৮, সিলেটে ৭৬, চট্টগ্রামে ৫০, বরিশালে ৩৯, ময়মনসিংহে ৫৫, খুলনায় ২৭ এবং রংপুরে ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের মতো সংক্রামক ব্যাধি ছড়িয়ে পড়লে জনস্বাস্থ্যের সামাজিক পদক্ষেপ যেমন সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, হাঁচি বা কাশির মতো রোগ ছড়ানোর প্রক্রিয়া রোধে জনসচেতনতা তৈরি, হাসপাতালে প্রয়োজনীয় আলাদা ব্যবস্থাপনার দরকার হয়।
কিন্তু এবার শুরু থেকেই হামের সংক্রমণ রোধে এসব তৎপরতার অভাব ছিল। ভাইরাসটি কোথা থেকে ছড়াচ্ছে, প্রার্দুভাব মোকাবিলায় আরও কী কী উদ্যোগ দরকার সে বিষয়ে তেমন তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। ফলে দিন দিন আক্রান্ত ও মৃত্যুর মিছিল বাড়ছেই।
