Logo
Logo
×
   

শেষ পাতা

সংবাদ সম্মেলনে চিফ হুইপ

অর্থ পাচার বন্ধ হলে বাজেট বাস্তবায়নে সমস্যা হবে না

Icon

সংসদ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

অর্থ পাচার বন্ধ হলে বাজেট বাস্তবায়নে সমস্যা হবে না

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলাম মনি বলেছেন, স্বাধীনতার পর এই প্রথম কোনো বাজেটে বিরোধী দল আগাগোড়া অংশগ্রহণ করেছে এবং সরকার ও বিরোধী দল ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবারের বাজেটকে ‘জীবনবান্ধব বাজেট’ হিসাবে অভিহিত করেছেন, যা জনগণের কল্যাণ ও উন্নয়নের এক নতুন রূপরেখা। এখন অর্থ পাচার বন্ধ করা এবং দুর্নীতি কমানো গেলেই রাষ্ট্রের অর্থ সংকট অনেকটাই দূর হবে। বাজেট বাস্তবায়নে কোনো সমস্যা থাকবে না। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের এলডি হলে বাজেট-পরবর্তী সংসদ সম্মেলনে চিফ হুইপ একথা বলেন। এ সময় হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু উপস্থিত ছিলেন।

চিফ হুইপ বলেন, নিয়ম অনুযায়ী বিরোধী দলের জন্য ২৬ শতাংশ সময় বরাদ্দ থাকলেও আমরা তাদের অতিরিক্ত সময় দিয়েছি। বিরোধীদলীয় নেতার জন্য কোনো সময়সীমাও নির্ধারণ করা হয়নি।

তিনি বলেন, সাধারণত বাজেট আলোচনার নির্দিষ্ট সময় শেষে সরকার গিলোটিন প্রস্তাব আনে। কিন্তু সংসদীয় ইতিহাসে এই প্রথম বিরোধী দলের নেতা নিজেই স্পিকারের কাছে গিলোটিন প্রস্তাব দেওয়ার অনুরোধ করেন। তারা মনে করেছেন বাজেট নিয়ে প্রয়োজনীয় আলোচনা শেষ হয়েছে। এছাড়া বিরোধী দলের নেতার পক্ষ থেকে যে দাবি জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে সেটি বিবেচনার নির্দেশ দেন। এসব ঘটনা একটি স্পষ্ট বার্তা দেয়-সরকার ও বিরোধী দল উভয়েই দেশ গঠনে একসঙ্গে কাজ করতে চায়।

চিফ হুইপ বলেন, সরকার চায় যেসব ক্ষেত্রে কর কমানো হয়েছে, সেসব পণ্যের দামও কমুক। ৬৩টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে কোনো কর বাড়ানো হয়নি; বরং যেখানে ৫ শতাংশ কর ছিল, সেখানে তা কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে। তিনি বলেন, অনেকে প্রশ্ন করেন, এত কর ছাড় দিয়ে সরকার চলবে কীভাবে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য হলো, প্রতিবছর প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার দেশ থেকে পাচার হয়েছে। এই অর্থ পাচার বন্ধ করা এবং দুর্নীতি কমানো গেলেই রাষ্ট্রের অর্থ সংকট অনেকটাই দূর হবে।

বাজেট বাস্তবায়নে কোনো সমস্যা থাকবে না। সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে কোনো ‘ফ্রেন্ডলি গেম’ চলছে কিনা-এমন প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ বলেন, সংসদে পজিশনে তারেক রহমান আর অপজিশনে ডা. শফিকুর রহমান। এখানে কোনো গেম নেই। সরকার চায় দেশের মানুষ যেভাবে ঐক্যবদ্ধ, সেভাবেই সরকারি ও বিরোধী দল মিলে দেশ এগিয়ে যাক। গণতান্ত্রিক দেশে সরকার ও বিরোধী দলের সম্পর্ক এমনই হওয়া উচিত। আমরা একটি সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা চাই।

জুলাই সনদ, সংবিধান সংস্কার ও উচ্চকক্ষ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জুলাই সনদের অনেক বিষয় বর্তমান সংবিধানের সঙ্গেই সম্পর্কিত। সংবিধানে ১৫৩টি অনুচ্ছেদ রয়েছে, আর জুলাই সনদে প্রায় ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে। তাই শুধু ওই ৩০টি বিষয়কে আলাদা করে বাস্তবায়ন করলে হবে না; পুরো সংবিধানের কাঠামোর মধ্যেই বিষয়গুলো বিবেচনা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে আমাদের সামনে তিনটি পথ রয়েছে-নতুন সংবিধান প্রণয়ন, সংবিধান স্থগিত রেখে নতুন ব্যবস্থা চালু, অথবা বিদ্যমান সংবিধান সংশোধন ও সংস্কার করা। আমরা সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে চাই।

সংবিধান সংশোধন হবে সংসদে আর সংস্কার আলোচনা হবে বাইরে উল্লেখ করে চিফ হুইপ বলেন, সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে মূল উদ্দেশ্যে কোনো বড় পার্থক্য আমি দেখি না। সংবিধান সংশোধনের কাজ সময়সাপেক্ষ। এটি দেশের সর্বোচ্চ আইন; তাই সব দিক বিবেচনা করে ধীরে-সুস্থে এগোতে হবে। এ জন্যই একটি কমিটি গঠন করা হবে, সেখানে প্রয়োজনীয় আলোচনা চলবে। আলোচনা অব্যাহত থাকলে যে কোনো সময় একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হবে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .