গ্রামে-গঞ্জে নির্বাচনি হাওয়া: রামগতি ও কমলনগর
নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা
শাহরিয়ার কামাল, কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল না হলেও লক্ষ্মীপুরের রামগতি-কমলনগর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে সম্ভাব্য প্রার্থীরা গণসংযোগ শুরু করেছেন। চেয়ারম্যান ও মেম্বার পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ইচ্ছুক প্রার্থীরা মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। উঠান বৈঠক, সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করে তারা নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। রামগতি ও কমলনগর উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ১৬২টি ওয়ার্ডে ৯ শতাধিক প্রার্থী প্রচার চালাচ্ছেন।
সূত্র জানায়, রামগতি উপজেলার আট ইউনিয়ন, একটি পৌরসভা ও কমলনগর উপজেলার ৯টি ইউনিয়নজুড়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের আনাগোনা বেড়েছে। আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা নির্বাচন করার সুযোগ পেলে প্রার্থীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। বিএনপি, জামায়াত, জেএসডি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা মাঠে আছেন।
ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করছেন। কেউ কেউ উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, আবার কেউ অতীত কর্মকাণ্ড তুলে ধরে ভোটারদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন। সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা বলছেন, নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হলেও জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অংশ। এলাকার উন্নয়ন, জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে তারা ভোটারদের সমর্থন আদায়ে কাজ করছেন।
রামগতির চরপোড়াগাছা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন হাওলাদার বলেন, ভবিষ্যতেও জনগণের পাশে থাকার ইচ্ছা রয়েছে। চরগাজী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ও বিএনপি নেতা শেখ ফরিদ বলেন, চেয়ারম্যান পদে অংশ নিতে মাঠে কাজ করছি। আরেক প্রার্থী সাইফুল ইসলাম বলেন, নির্বাচন করার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে জনগণের পাশে আছি। রামগতি পৌর বিএনপির সভাপতি ও মেয়র প্রার্থী সাহেদ আলী পটু বলেন, আবারও নির্বাচন করার জন্য মাঠে আছি। পৌর জামায়াতের আমির আবুল খায়ের বলেন, সাংগঠনিকভাবে আমাকে মেয়র পদে নির্বাচন করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেই লক্ষ্যে মাঠে কাজ করছি।
কমলনগর উপজেলার চরকালকিনি ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মাস্টার সাইফুল্লাহ বলেন, ১৯৮২ সাল থেকে চেয়ারম্যান হিসাবে ইউনিয়নবাসীর সেবা করে আসছি। আল্লাহ সুযোগ দিলে এবারও প্রার্থী হব। চর লরেন্স ইউনিয়ন থেকে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতা ঘোষণা দিয়ে জনসংযোগ করছেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সেকান্তর আলম। তিনি বলেন, জনসেবা করার ইচ্ছা রয়েছে। ইউনিয়নটির বিএনপির সভাপতি মীর শিব্বির আহম্মদ, সাধারণ সম্পাদক নুরে আলম মোর্শেদ এবং একই ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ডা. মামুনুর রশিদ, লরেন্স ইউনিয়ন জামায়াতের আমির সাইয়্যেদ আনোয়ার হোসেনসহ ডজনখানেক ব্যক্তি নিজেদের প্রার্থিতা ঘোষণা করেছেন। এছাড়া ২নং সাহেবেরহাট ইউনিয়নে লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনের সংসদ-সদস্য ও হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজানের বোন হোসনে আরা বাসার, জামায়াতের সাবেক উপজেলা আমির মাওলানা নুর উদ্দিন, সাবেক চেয়ারম্যান আবুল খায়ের, বিএনপি নেতা আবুল কাশেম, ডা. মেজবা, সাইফুদ্দিন আজম নিজেকে প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা করেছেন। একইভাবে চরফলকন ইউনিয়ন থেকে সাংবাদিক সাজ্জাদুর রহমান, বিএনপি নেতা মীর রায়হান, ফলকন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ওয়াদুদ হাওলাদার, সহসভাপতি মফু দেওয়ান, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি বেলায়েত হোসেন হাওলাদারও প্রচার চালাচ্ছেন। পাটারীরহাট, হাজিরহাট, তোরাবগঞ্জ, চরকাদিরা চরমার্টিন ও কালকিনি ইউনিয়ন থেকে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপিসহ বিভিন্ন দলের শতাধিক ব্যক্তি জনসংযোগ ও প্রচার চালাচ্ছেন।
কমলনগর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়নি। নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি মেনে ভোটারদের সঙ্গে প্রার্থীদের কুশল বিনিময় ও প্রচার-প্রচারণা চালাতে বাধা নেই।
