Logo
Logo
×
   

Advertisement

শেষ পাতা

জুলাই নিয়ে কটূক্তি

ঘোলাটে হচ্ছে পরিস্থিতি

৯ জনের বিরুদ্ধে জিডি

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ঘোলাটে হচ্ছে পরিস্থিতি

Advertisement

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের রক্তের দাগ এখনো মোছেনি। আজও নির্ঘুম রাত কাটে স্বজন হারানোদের। রাষ্ট্রক্ষমতায় রয়েছে জুলাই আন্দোলনের পক্ষের শক্তি। এমন বাস্তবতার মাঝেই জুলাই আন্দোলন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে কিছু ব্যক্তির অবমাননাকর মন্তব্য আহত করছে মানুষকে। অবমাননাকারীদের প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীরও কোনো তৎপরতা নেই। তবে জুলাই নিয়ে কটূক্তির জেরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী অনেকেই। তারা কটূক্তিকারীদের পতিত আওয়ামী লীগের দোসর উল্লেখ করে দ্রুত সময়ে তাদের গ্রেফতারের দাবিও জানিয়েছেন। সবকিছু মিলিয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে হচ্ছে। 

এদিকে জুলাই নিয়ে কটূক্তির ঘটনায় রাজধানীর শাহবাগ থানায় দুটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে। সেখানে ৯ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, জিডি দুটি তদন্ত করবে ডিএমপির গোয়েন্দা শাখার সাইবার বিভাগ। তবে রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত জিডি দুটি ডিবির গোয়েন্দা বিভাগে পৌঁছেনি। এছাড়া কোনো ধরনের তদন্তও শুরু করেনি ডিবি। পুরো বিষয়টি চলছে ধীরগতিতে। এক কর্মকর্তা বলেন, ডিবির তদন্তের বিষয়টি সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। ডিবির দায়িত্বশীলরা বলছেন, জিডির কপি পাওয়ার পরই আদালতের অনুমতি নিয়ে তদন্ত শুরু হবে। অভিযোগের সত্যতা মিললে জিডিকারীর মামলার প্রেক্ষিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করা হলে দ্রুত সময়ে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা যাবে। 

কটূক্তিকারীদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে জানতে রোববার বিকালে ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদকে একাধিকবার ফোন করেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অফিশিয়াল ফোনটি কমিশনারের এসএ (স্পেশাল অ্যাসিস্ট্যান্ট) রিসিভ করে যুগান্তরকে বলেন, ‘স্যার মিটিংয়ে আছেন। অপনার প্রশ্ন বলেন, স্যারকে জানাচ্ছি।’ প্রশ্ন বলার পরে তিনি ফোন কেটে দেন, এরপর একাধিকবার ফোন করলেও তিনি আর রিসিভ করেননি। তবে ডিএমপির গোয়েন্দ শাখার (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার (সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড সাপোর্ট সেন্টার-দক্ষিণ) সৈয়দ হারুন অর রশীদ যুগান্তরকে বলেন, ‘জিডি তদন্তের জন্য আমরা এখনো পাইনি।’ 

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর (সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল) তানভীর হাসান জোহা যুগান্তরকে বলেন, এ বিষয়ে যদি কেউ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করে তাহলে ট্রাইব্যুনাল এটা বিবেচনা করে দেখবে। 

জোহা বলেন, ‘এর আগেও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ফেসবুকে অবমাননাকর পোস্টের জন্য তিনজনকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। সেখানে তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসাবে আমি ছিলাম। শাস্তিপ্রাপ্তরা হলেন-সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, রংপুরের আওয়ামী লীগ নেতা বুলবুল ও মিরপুর সেনপাড়ার পাভেল। এদের মধ্যে শেখ হাসিনার ৬ মাস ও অন্যদের ২ মাস করে সাজা হয়েছে।’ সূত্র বলছে, অবমাননাকর মন্তব্য ও অপপ্রচারের অভিযোগে অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন, চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি এবং শান্তা ফারজানা নামের এক নারীর বিরুদ্ধে শুক্রবার শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। ‘রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম’ নামের একটি সংগঠনের কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব আ ন ম আয়াস, মুখ্য সংগঠক মুহাম্মদ শাহ আলম বাদশা ও সংগঠক তুহিন ফরাজী এ জিডি করেন। 

এছাড়া শনিবার রাতে রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্য মিল্লাত হোসেন একটি অভিযোগ করেন। অভিযোগটি জিডি হিসাবে গ্রহণ করে শাহবাগ থানা পুলিশ। জিডিতে আনিস আলমগীর, সোমা ইসলাম ও জান্নাতুল ফেরদৌস পিয়ার পাশাপাশি সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও কলামিস্ট মোমিন মেহেদী, মডেল মারিয়া কিসপট্টা এবং মডেল ও অভিনেত্রী তুষ্টির নাম উল্লেখ করা হয়। দুটি জিডিই সাইবারসংক্রান্ত হওয়ায় ডিবি সাইবার বিভাগে পাঠানো হয়েছে। 

ডিএমপির রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) শেখ জাহিদুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, জুলাই আন্দোলন নিয়ে কটূক্তি করায় পৃথক দুটি জিডি হয়েছে। সেখানে মোট নয়জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এটা সাইবারের পার্ট, তদন্তের জন্য ডিবি সাইবারে পাঠানো হয়েছে। 

প্রথম জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বিশেষ করে মেহের আফরোজ শাওন তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ভিডিও বার্তায় জুলাই আন্দোলনকে সাজানো ঘটনা হিসাবে উপস্থাপন করেছেন এবং রাষ্ট্র ও জুলাই আন্দোলন সম্পর্কে অবমাননাকর বক্তব্য দিচ্ছেন। সাংবাদিক সোমা ও আনিস আলমগীসহ ছয়জনের নামে করা জিডিতে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা বিভিন্ন সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও টকশোতে জুলাই আন্দোলন, আন্দোলনের অংশগ্রহণকারী এবং শহীদ ও আহতদের নিয়ে আপত্তিকর, বিভ্রান্তিকর ও কটূক্তিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। পাশাপাশি আন্দোলনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন, অপপ্রচার চালানো এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। 

এদিকে জুলাই নিয়ে অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওনের মন্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খান। বৃহস্পতিবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন-এত রক্ত, এত ত্যাগের জুলাইকে যারা ধারণ করতে পারে না বরং শেখ হাসিনার প্রতি দরদ দেখায়; তাদের শেখ হাসিনার কাছে গিয়ে থাকা উচিত। বাংলাদেশের আলো-বাতাস গ্রহণ করে জুলাই নিয়ে শাওনের মতো পতিত দোসরদের নোংরামি বরদাশত করার সুযোগ নেই। পোস্টের শেষে তিনি লেখেন, জুলাইয়ের ঠিকাদারি যেমন জাতি কাউকে দেয়নি, জুলাই নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করার স্পর্ধাও জাতি সহ্য করবে না।


Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম