Logo
Logo
×
   

Advertisement

শেষ পাতা

শেষ মুহূর্তের জাদুকর মিকেল মেরিনো

Advertisement

Icon

মোজাম্মেল হক চঞ্চল

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

শেষ মুহূর্তের জাদুকর মিকেল মেরিনো

বদলি হিসাবে নেমে শেষ মুহূর্তের গোলে স্পেনকে জিতিয়ে উচ্ছ্বাসে ভাসলেন মিকেল মেরিনো। গত পরশু রাতে লস অ্যাঞ্জেলেসে বেলজিয়ামের বিপক্ষে বিশ্বকাপের শেষ আটের লড়াইয়ে -এএফপি

Advertisement

ম্যাচের তখন শেষ কয়েক মিনিট বাকি। গ্যালারিতে হাজারো উদ্বিগ্ন মুখ। টেলিভিশনের পর্দার সামনে কোটি সমর্থকের বুক ধড়ফড় করছে। ম্যাচের ভাগ্য ঝুলছে অনিশ্চয়তায়। ঠিক তখনই নিখুঁত দৌড়, সঠিক জায়গায় উপস্থিতি আর একটি স্পর্শে বদলে যায় সব কিছু। মুহূর্তে উল্লাসে ফেটে পড়ে গোটা দেশ। স্পেনের সেই আনন্দের নাম মিকেল মেরিনো।

বিশ্বকাপে স্পেনের সাফল্যের গল্পে লামিনে ইয়ামাল, নিকো উইলিয়ামস ও ফ্যাবিয়ান রুইজের পাশে উচ্চারিত হচ্ছে মেরিনোর নামও। পর্তুগালের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তে জয়সূচক গোল, এরপর বেলজিয়ামের বিপক্ষেও বদলি নেমে আবারও ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেওয়ার মুহূর্তে নিজেকে মেলে ধরাই তার সবচেয়ে বড় পরিচয়।

১৯৯৬ সালের ২২ জুন স্পেনের নাভারা অঞ্চলের পাম্পলোনায় জন্ম মিকেল মেরিনোর। ফুটবল তার রক্তেই ছিল। বাবা মিগেল মেরিনো ছিলেন পেশাদার ফুটবলার। ছোট্ট মিকেল বাবার হাত ধরে চিনেছিলেন ফুটবলের পৃথিবী। ওসাসুনার একাডেমিতে বেড়ে ওঠা মেরিনোর পেশাদার ফুটবলে অভিষেক হয় ২০১৪ সালে। লম্বা গড়নের এই মিডফিল্ডার শূন্যে যেমন শক্তিশালী, তেমনি বল পায়েও কার্যকর। আধুনিক ফুটবলের বহুমুখী মিডফিল্ডারের এক অসাধারণ উদাহরণ তিনি।

ওসাসুনা থেকে বরুসিয়া ডর্টমুন্ড। নতুন দেশ, নতুন ভাষা ও নতুন ফুটবলে নিয়মিত খেলার সুযোগ পাননি। এক মৌসুম পর ইংল্যান্ডের নিউক্যাসল ইউনাইটেডে পাড়ি জমান। প্রিমিয়ার লিগের গতি ও শারীরিক ফুটবল তাকে আরও পরিণত করে। ২০১৮ সালে দেশে ফিরে যোগ দেন রিয়াল সোসিয়েদাদে। সেখানেই যেন সত্যিকারের ঠিকানা খুঁজে পান মেরিনো।

রিয়াল সোসিয়েদাদের হয়ে ছয় মৌসুমে তিনি হয়ে ওঠেন মাঝমাঠের হৃৎস্পন্দন। ক্লাবটির কোপা দেল রে জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। নিজেকে লা লিগার অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করেন। ২০২৪ সালে যোগ দেন আর্সেনালে। আবারও প্রিমিয়ার লিগের কঠিন পরীক্ষা।

স্পেন জাতীয় দলের জার্সিতেও তার গল্প নায়ক হয়ে ওঠার। ২০২৪ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মানির বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ের শেষদিকে তার হেড স্পেনকে সেমিফাইনালে তুলেছিল। পরে স্পেন ইউরোপের চ্যাম্পিয়ন হয়।

২০২৬ বিশ্বকাপেও সেই গল্পের পুনরাবৃত্তি। আলো ছিল অন্যদের ওপর। মেরিনো অপেক্ষা করেছেন নিজের মুহূর্তটির জন্য। পর্তুগালের বিপক্ষে যখন ম্যাচের ভাগ্য অনিশ্চিত, তখন তার গোল স্পেনকে এগিয়ে দেয়। বেলজিয়ামের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালেও বদলি হিসাবে নেমে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে আবার সামনে আসেন তিনি। নায়ক হওয়ার জন্য সব সময় শুরু থেকে আলোয় থাকতে হয় না। কখনো শেষ কয়েক মিনিটই একজন ফুটবলারের জন্য যথেষ্ট।

প্রচারের উজ্জ্বল মুখ নন। খেলায় চাকচিক্যও নেই। দলের যখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তখনই তাকে খুঁজে পাওয়া যায় সঠিক জায়গায়। এটাই মেরিনোর শক্তি।

বিশ্বকাপের ইতিহাস লেখা হলে হয়তো সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় তার নাম থাকবে না। ইতিহাস শুধু সংখ্যায় লেখা হয় না। কিছু নাম লেখা থাকে সেই মুহূর্তগুলোর পাশে, যখন একটি গোল একটি দেশের কান্না থামিয়ে দেয়, স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম