শিক্ষক নামের জল্লাদ
‘পিচ্চিদের কান্না করাতে ভালোই লাগে’
রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে হায়দরগঞ্জ বাজার এলাকায় মাদ্রাসায় পড়তে আসা এক শিশুর মুখে বারবার বেত ঢুকিয়ে নির্যাতন করছিলেন এক শিক্ষক। সেই নির্যাতনের দৃশ্য ভিডিও করে নিজেই পোস্ট করেন ফেসবুকে। ভিডিওটির একটি ক্যাপশনও দেন তিনি। লেখেন, ‘পিচ্চি পোলাপানকে কান্না করাতে ভালোই লাগে’। ঘটনাটি প্রায় ৫-৬ মাস আগে হায়দরগঞ্জ বাজারের বাংলাবাজার এলাকার টিআরএম কামিল মাদ্রাসায় ঘটে। কিন্তু ১৭ জুলাই ভিডিওটি ফেসবুকের মাধ্যমে প্রকাশ হলে তোলপাড় শুরু হয়।
অভিযুক্ত ইমরান হোসেন মাদ্রাসাটির সাবেক সহকারী শিক্ষক। তিনি নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার বাসিন্দা। সমালোচনার মুখে তিনি শনিবার ফেসবুক লাইভে এসে ঘটনাটির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং সবার কাছে ক্ষমা চান। শিশু নির্যাতনের ভিডিওটি তিনি নিজেই পোস্ট করেন বলেন জানান ওই শিক্ষক।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, টিআরএম কামিল মাদ্রাসাটি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষককেও চার মাসে আগে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। ভিডিওটি চাকরিতে থাকার সময় ধারণ করেন বলে ধারণা মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের।
ভিডিওতে দেখা যায়, কান্নারত এক শিশু শিক্ষার্থীর মুখে বারবার বেত ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আতঙ্কে ও যন্ত্রণায় শিশুটির কান্না আরও বেড়ে যায়। সে হাত দিয়ে বেতটি সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেও শিক্ষক থামেননি। ১৭ জুলাই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ওই শিক্ষক ভিডিওটি মুছে দেওয়ার পাশাপাশি অ্যাকাউন্টটি ডিলিট করে দেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইমরানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে শনিবার ফেসবুকে ভিডিও বার্তায় ইমরান হোসেন বলেন, ‘ভিডিওটি আমিই ধারণ করেছি এবং আমিই প্রকাশ করেছি। ছোট বাবুটি আমার কাছে পরীক্ষা দিতে এসেছিল। আমি তাকে কিছু প্রশ্ন করি। উত্তর দিতে না পেরে সে কান্না শুরু করে। আমি তার কান্না থামানোর জন্য দুষ্টুমি করে মুখে লাঠি ধরেছিলাম। আমি তাকে বেত্রাঘাত করিনি বা ধমকও দিইনি। বিষয়টি এভাবে দেখা হবে, আমি ভাবিনি। আমার ভুল হয়েছে। আমি সবার কাছে ক্ষমা চাইছি। আপনারা আমাকে ক্ষমা করে দেবেন।’
ওই মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও শিক্ষক মঞ্জুর আহমেদ বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক ইমরানকে প্রায় তিন মাস আগে প্রতিষ্ঠান থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। চাকরি হারানোর পর তিনি পূর্বে ধারণ করা বিভিন্ন ভিডিও ফেসবুকে প্রকাশ করছেন।
মঞ্জুর আহমেদ জানান, ইমরান একজন টিকটকার এবং মাদ্রাসাটিতে শিক্ষক হিসাবেও কর্মরত ছিলেন। শুরু থেকেই তার আচরণে নানা অসঙ্গতি লক্ষ্য করা যায়। শিশু শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশিক্ষকসুলভ আচরণ, অকারণে শাস্তি প্রদান এবং কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া শিক্ষার্থীদের ছবি ও ভিডিও ফেসবুকে প্রকাশ করার অভিযোগে তাকে কয়েকবার সতর্ক করা হয়।
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, বিষয়টি নজরে আসার পরই খোঁজখবর নেওয়া হয়। বর্তমানে অভিযুক্ত শিক্ষক রায়পুরে নেই এবং মাদ্রাসাটিও বন্ধ। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
