গণভোট হারাম হলে সরকারও হারাম: শফিকুর রহমান
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
রাজধানীর মিরপুরে বৃহস্পতিবার জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর মিরপুর জোন আয়োজিত জনসভায় বক্তৃতা করছেন দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান -যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সরকার এখন গণভোটের রায়কে অবৈধ বলছে। অথচ প্রধানমন্ত্রী গণভোটে হ্যাঁ-এর পক্ষে ক্যাম্পেইন করেছেন। আমরাও করেছি। গণভোট অবৈধ হলে সরকার ও সংসদ সবই অবৈধ। গোশত হালাল হলেও ঝোল হারাম হওয়ার সুযোগ নেই। তাই গণভোট হারাম হলে সরকারও হারাম। আর সরকার হারাম হলে দেশে কোনো বৈধ সরকার নেই। তিনি বৃহস্পতিবার বিকালে রাজধানীর মিরপুর-১০, ফলপট্টিসংলগ্ন এলাকায় জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর মিরপুর জোন আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদ দেশ ও জাতির ঘাড়ে জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসেছিল। ৭ জানুয়ারি নির্বাচনের মাধ্যমে তারা পাঁচ বছরের জন্য ক্ষমতা বুকিংয়ের পর অনেকের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু আল্লাহ তার রহমত থেকে হতাশ হতে নিষেধ করেছেন। এরপরই জুলাই দেশ ও জাতির মুক্তির পয়গাম নিয়ে এসেছিল। মূলত, জুলাই এসেছিল ঘূর্ণিঝড় হয়ে। আর এ ঝড়ই ফ্যাসিবাদকে তছনছ করে তাসের ঘরের মতো উড়িয়ে দিয়েছিল।
তিনি শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, দেশ ছেড়ে পালানোর পর তিনি ‘এই আসলাম’ বলে এসেছেন প্রতিনিয়ত। এভাবে তিনি ১৩ বার ফেল করেছেন। শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, আসুন, যুবসমাজ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। তারা ফাঁসির রশি নিয়ে প্রস্তুত আছে। তিনি জুলাই গণহত্যার বিচারে ত্বরিত পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি আহবান জানান।
জামায়াত আমির জনগণের অভিপ্রায়ের গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে বলেন, জনগণের মতামতই সবার উপরে। আর প্রয়োজনের তাগিদের ওপর কোনো আইন নেই। তিনি সরকারকে ‘টালবাহানা’ পরিহার করে অবিলম্বে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। অন্যথায় এজন্য তাদের চড়া মূল্য দিতে হবে বলে উল্লেখ করেন।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনায় গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার দাবিতে এই জনসভার আয়োজন করা হয়। কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য, ঢাকা মহানগরী উত্তরের মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমানের পরিচালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ-সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাসেম আরমান, ঢাকা-১৬ আসনের সংসদ-সদস্য কর্নেল (অব.) আব্দুল বাতেন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক হারুন অর রশীদ খান, ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মূসা। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, ইয়াসিন আরাফাত, ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, মহানগরী পশ্চিম শিবির সভাপতি মুহিবুল্লাহ আল হোসাইনি, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি শান্ত তালুকদার, শহীদ মাহফুজুর রহমানের বাবা আব্দুল মান্নান, আরেক শহীদের বাবা মোশাররফ হোসেন।
