দ. আফ্রিকায় পুড়ে ছয়জনের মৃত্যু, নারায়ণগঞ্জে মাতম
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন, নারায়ণগঞ্জ ও ফতুল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
দক্ষিণ আফ্রিকায় পুড়ে মারা যাওয়া আপন আহমেদের মা আকলিমা বেগমকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন স্বজনরা। মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জ ক্রোকেরচরে -যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্টার্ন কেপ প্রদেশের কুইন্সটাউন শহরের একটি সুপারশপে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ছয় বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে পাঁচজনই নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার আলীরটেক ও বক্তাবলী ইউনিয়নের বাসিন্দা। আরেকজনের বাড়ি মুন্সীগঞ্জের রিকাবিবাজার এলাকায়। খবর পৌঁছানোর পর থেকেই স্বজনদের আহাজারিতে এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে।
এই ছয়জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ সদরের ইউএনও এসএম ফয়েজ উদ্দিন।
জানা যায়, দক্ষিণ আফ্রিকায় স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত ৩টার দিকে ওই সুপারশপে ভয়াবহ আগুন লাগে। পরে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে।
মৃত ছয়জন হলেন নারায়ণগঞ্জ সদরের ক্রোকেরচর গ্রামের বাসিন্দা ফাহিম সরকার (২৯), আপন আহমেদ (২৩) ও নুর মোহাম্মদ, তৈলারচন গ্রামের ফয়সাল (২৬), বক্তাবলী ইউনিয়নের কানাইনগর শহিন (৩০) এবং মুন্সীগঞ্জের রিকাবিবাজারের মো. রাজিব (৫৫)। আলীরটেক ঘাট থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার ভেতরের গ্রাম ক্রোকেরচর। মৃতদের মধ্যে তিনজনের বাড়িই একই গ্রামে। ফাহিম, আপন ও নুর মোহাম্মদের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পাশাপাশি তিন বাড়িতে স্বজনদের মাতম চলছে।
তিন ভাই দুই বোনের মধ্যে সবার বড় ক্রোকেরচরের মনির হোসেন সরকারের ছেলে ফাহিম সরকার। একমাত্র কর্মক্ষম ভাইকে হারিয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন ছোট বোন। মা লুফৎনেছা বলেন, ‘অভাব ঘুচাতে ছেলে আমার অল্প বয়সে সাউথ আফ্রিকা যায়। রাতে ফোন করে মায়ের সঙ্গে, ছোট বোনের সঙ্গে কথা বলেছে। আর সকালে উঠে শুনি ছেলে আগুনে পুড়ে মারা গেছে।’
ফাহিমের বাড়ির পাশেই বাড়ি নুর মোহাম্মদের। আট বছর আগে জীবিকার তাগিদে দক্ষিণ আফ্রিকা পাড়ি জমান তিনি। এতদিন তিনি দেশে আসেননি।
নুর মোহাম্মদের ছোট ভাই নুর ইসলাম জানান, সরকারের কাছে আমাদের দাবি যাতে আমার ভাইয়ের লাশ দ্রুত দেশে আনা হয়।
নুর মোহাম্মদের বাড়ি থেকে মাত্র দুইশ গজ দূরে আপনের বাড়ি। তিনি চার বছর আগে দক্ষিণ আফ্রিকায় যান। মা আকলিমা বেগম বলেন, ‘সোমবার রাতেও ছেলের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলি। সকালে উঠে শুনি ছেলে নাই। আমি কেমনে থাকব ছেলেকে ছাড়া।’
ইউএনও এসএম ফয়েজ উদ্দিন জানান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এখনো মৃতদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শুধু জেনেছি মৃতদের পাঁচজন নারায়ণগঞ্জের এবং মুন্সীগঞ্জের একজন। স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে জেনেছি যারা মারা গেছেন, তারা আলীরটেকের ইউপি সদস্য রওশন ও তার ভাই রতনের সুপারশপে কাজ করতেন। তাদের মাধ্যমে আমরা ছয়জনের পরিচয় পেয়েছি।
সুপারশপের মালিক রতন বলেন, সুপারশপে কীভাবে আগুন লেগেছে, তা এখনো জানা যায়নি। ঘটনার পর একজন জীবিত বের হতে পেরেছেন। যিনি আমাদের খবর দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করছি। যাতে তাদের লাশ স্বজনদের কাছে দ্রুত হস্তান্তর করা যায়।
