Logo
Logo
×
   

Advertisement

শেষ পাতা

অবহেলা ও বঞ্চনার অভিযোগ

কুমিল্লার ৩৮ জুলাই শহীদ পরিবারে ক্ষোভ-হতাশা

অধিকাংশ আসামি প্রকাশ্যে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে

Advertisement

Icon

আবুল খায়ের, কুমিল্লা

প্রকাশ: ০২ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কুমিল্লার ৩৮ জুলাই শহীদ পরিবারে ক্ষোভ-হতাশা

Advertisement

ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে কুমিল্লার ৩৮ জন কৃতীসন্তান জীবন দিয়েছেন। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন সময় তারা নিহত হয়েছেন। সরকারি গেজেটে তাদের নাম রয়েছে। জীবন উৎসর্গকারী এসব শহীদের পরিবার এখন বঞ্চনার শিকার। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে অধিকাংশ শহীদপরিবার দান-অনুদানে দুই বছর পার করতে পারলেও ধীরে ধীরে থমকে যাচ্ছে। এসব পরিবারে চলছে ক্ষোভ ও হতাশা। এদিকে জুলাই হত্যা মামলার আসামিরা প্রকাশ্যে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বলে অভিযোগ।

শহীদপরিবারের অভিযোগ, অভ্যুত্থানের মাত্র দুই বছরেই তাদের প্রতি অবহেলা শুরু হয়ে গেছে। জুলাই এলেই কেবল তাদের কিছুটা স্মরণ করা হয়। সামনের দিনে তারা অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা। তারা বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন। ৩৮ পরিবারের মধ্যে অধিকাংশই অসচ্ছল। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিদের হারিয়ে তারা ঘুরে দাঁড়াতে পারছেন না। দুই বছর সরকারি-বেসরকারি দান-অনুদানে কোনোরকম দিনাতিপাত করলেও এখন তাদের সামনে হতাশা। শহীদপরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, বহু আসামি জামিন নিয়ে তাদের সামনে ঘুরে বেড়াচ্ছে। চোখের সামনে খুনিরা ঘুরে বেড়ালেও তারা মুখ খুলতে পারছেন না। এ নিয়ে তাদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

সরেজমিন জেলার মুরাদনগর উপজেলার ফুলঘর গ্রামে দেখা যায়, জুলাই শহীদ আবুল হোসেনের স্ত্রী লাকি আক্তার গৃহপরিচারিকার কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। দায়দেনায় জর্জরিত পরিবারটির উপার্জনক্ষম ব্যক্তি নেই। ঢাকার আশুলিয়ায় পুলিশের গুলিতে আবুল হোসেন নিহত হন। লাকি আক্তার বলেন, অসুস্থ শাশুড়ি, প্রতিবন্ধী ননদ এবং সন্তানদের জীবিকা নির্বাহে বিভিন্ন বাড়িতে কাজ করছি। মাঝে কিছু দিন ঢাকায় কাজ করেছি।

জেলার দেবিদ্বার উপজেলার বারেরা গ্রামের জুলাই শহীদ আব্দুর রাজ্জাক রুবেলের পরিবারে হতাশা আর ক্ষোভ। রুবেলের স্ত্রী-সন্তানদের দুবেলা দুমুঠো ভাত খেতে কষ্ট হচ্ছে। রুবেলের স্ত্রী হ্যাপী আক্তার বলেন, একদিকে পরিবারের অসচ্ছলতা, অন্যদিকে আমার সামনেই খুনিদের অবাধ বিচরণ। এতে আমি ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত। শেষ পর্যন্ত স্বামীর হত্যার বিচার পাব কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। দারিদ্র্যের কারণে আমার প্রতিবাদের ভাষাও বন্ধ হয়ে গেছে। একই উপজেলার ভিংলাবাড়ী গ্রামের জুলাই শহীদ আমিনুল ইসলাম সাব্বিরের মা রিনা বেগম বলেন, গুলিবিদ্ধ হয়ে আমার ছেলে শহীদ হয়েছে। দুই বছরে যা দান-অনুদান পেয়েছি, তা ছেলের চিকিৎসার দায়দেনা শোধ করেছি। এখন দুমুঠো খাবার সংগ্রহ করা আমার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। নগরীর দেশালিপট্টির বাসিন্দা শহীদ হামিদুর রহমান সাদমানের মা কাজী শারমিন আক্তার বলেন, মাত্র দুই বছরের মধ্যেই আমাদের গুরুত্ব কমে গেছে। আমার সন্তান দেশকে ফ্যাসিবাদমুক্ত করার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছে। আমরা অপ্রাসঙ্গিক হলে ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করবে না।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কুমিল্লা মহানগরীর সাবেক আহ্বায়ক আবু রায়হান বলেন, কুমিল্লার শহীদপরিবারগুলো অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার। এটা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। তারা জীবন না দিলে দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হতো না। সরকারের কাছে উদাত্ত আহ্বান থাকবে-এসব পরিবারকে মূল্যায়ন করুন। তাদের পাশে দাঁড়ান। আর্থিকভাবে তাদের স্বাবলম্বী করুন। মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি এবং জুলাই যোদ্ধা ফখরুল ইসলাম মিঠু বলেন, একটা শ্রেণি জুলাইকে বিক্রি করে খাচ্ছে, যা সমর্থনযোগ্য নয়। প্রকৃত জুলাই শহীদ এবং আহতদের পরিবারগুলোকে পুনর্বাসন ও মূল্যায়নের দাবি জানাচ্ছি।

জেলা প্রশাসক রুজি আক্তার বলেন, আমরা জুলাই শহীদপরিবারগুলোকে সম্মানের দৃষ্টিতে দেখি। সরকারি যে ধরনের নির্দেশনা আসে, তা আমরা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করি।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম