Logo
Logo
×
   

Advertisement

শেষ পাতা

পর্যাপ্ত সাক্ষ্যপ্রমাণের অভাব

কুমিল্লায় আটকে আছে ৪২ জুলাই-মামলা

দুই বছরে অভিযোগপত্র মাত্র দুটিতে * ভুক্তভোগীর পরিবারে হতাশা

Advertisement

আবুল খায়ের

আবুল খায়ের

প্রকাশ: ০৩ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কুমিল্লায় আটকে আছে ৪২ জুলাই-মামলা

Advertisement

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে হতাহতের ঘটনায় কুমিল্লায় করা ৪২টি মামলা নিয়ে বিপাকে পড়েছে পুলিশ। ঢালাওভাবে আসামি করা, একই সময়ে ভিন্ন স্থানে একজনের উপস্থিতি এবং পর্যাপ্ত সাক্ষ্যপ্রমাণের অভাবে তদন্তকাজে হিমশিম খাচ্ছেন কর্মকর্তারা। গত দুই বছরে মাত্র দুটি মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হলেও চলতি আগস্ট মাসের মধ্যেই বাকিগুলোর তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে জেলা পুলিশ। এদিকে এতদিনেও হত্যাকারীদের বিচার না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীদের পরিবারের সদস্যরা।

জেলা পুলিশ জানায়, ৪২টি মামলার মধ্যে ১২টি হত্যা মামলা। বাকিগুলো হত্যাচেষ্টা, অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর, অস্ত্র-বিস্ফোরকসহ বিভিন্ন অভিযোগে করা হয়। এসব মামলায় এজাহারনামীয় আসামি প্রায় ৩ হাজার ৫৬৫ জন। অজ্ঞাতনামা আসামি সাড়ে ৬ হাজার। হত্যার ঘটনায় দুটি লাশের ময়নাতদন্ত হয়নি। তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, এসব মামলায় বেশি আসামি হওয়ায় তাদের বিষয়ে তথ্য ও পর্যাপ্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ না পাওয়ায় তদন্তে জটিলতার মুখে পড়তে হচ্ছে। তাই বাড়তি সময় লাগছে।

পুলিশ জানায়, দুটি হত্যাসহ সর্বাধিক ১৮টি মামলা হয়েছে কোতোয়ালি মডেল থানায়। এসব মামলায় সদর আসনের সাবেক এমপি আ ক ম বাহাউদ্দিনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে গুলিতে নিহত আইনজীবী আবুল কালাম হত্যা মামলায় গত বছরের আগস্টে বাহাউদ্দিনসহ ৩৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ। কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, প্রতিটি মামলায় সাক্ষ্যপ্রমাণের ঘাটতি রয়েছে। তাছাড়া আসামির সংখ্যা অনেক। সব আসামির পিসিপিআর যাচাই, তাদের অবস্থান শনাক্তসহ নানাভাবে তদন্ত করতে হচ্ছে। এতে চার্জশিট দাখিলে বিলম্ব হচ্ছে।

অন্য মামলাগুলোর মধ্যে দাউদকান্দি মডেল থানায় ৩টি হত্যাসহ মোট ৪টি, দেবিদ্বার থানায় ৩টি হত্যাসহ ৪টি, সদর দক্ষিণ মডেল থানায় ১টি হত্যাসহ ৬টি, বরুড়া, নাঙ্গলকোট ও চৌদ্দগ্রাম মডেল থানায় একটি করে হত্যা মামলা হয়। এর মধ্যে বরুড়া থানায় হত্যা মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। এ ছাড়া চান্দিনা, মনোহরগঞ্জ, বুড়িচং ও বাঙ্গরা বাজার থানায় রয়েছে হত্যাচেষ্টার ৭টি মামলা।

জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ সদর দক্ষিণ উপজেলার আলোচিত মাছুম হত্যাসহ ৪টি মামলার তদন্ত করছে। মাছুম মিয়ার বাবা শাহীন মিয়া হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ঘটনার পর ভয়ে মামলা করিনি। তখন বিএনপি নেতারা মামলা করেন, আমি থানায়ও যাইনি। আসামি কারা তা আমি পরে জেনেছি এবং পুলিশের কাছে সাক্ষ্য দিয়েছি। আমার ছেলেকে যারা হত্যা করেছে সবার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

দেবিদ্বার উপজেলা সদরে গুলিতে নিহত হন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আবদুর রাজ্জাক রুবেল। এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি নেতা আবুল কাসেম আদালতে মামলা করেন। একই ঘটনায় থানায় আরেকটি মামলা করেন নিহতের মা হোসনে আরা বেগম। এসব মামলায় স্থানীয় সাবেক এমপি রাজী মোহাম্মদ ফখরুল, আবুল কালামসহ ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের ১৪০ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়। রুবেলের স্ত্রী হ্যাপী আক্তার বলেন, মামলাটি কোন পর্যায়ে আছে আমার জানা নেই। অধিকাংশ আসামি জামিনে মুক্ত। আবার অনেকেই আসামি হয়েও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। ঘাতকদের বিরুদ্ধে দ্রুত চার্জশিট দিতে হবে। আমার স্বামীর হত্যাকারীদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

দাউদকান্দি থানার ওসি সাজেদুল ইসলাম বলেন, তিনটি মামলার তদন্তে অগ্রগতি হয়েছে। সাক্ষ্যপ্রমাণ, ভিডিও ফুটেজসহ বেশ কিছু আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। তদন্ত কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে আছে।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, মামলাগুলো গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে পুলিশ কাজ করছে। আগস্টের মধ্যেই অধিকাংশ মামলায় আদালতে চার্জশিট দেওয়া হবে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম