Logo
Logo
×
   

Advertisement

শেষ পাতা

গ্যাস সংকটে বিপাকে ফিলিং স্টেশন ব্যবসায়ীরা

চাকরি হারানোর শঙ্কায় কর্মচারীরা

Advertisement

রফিকুল ইসলাম

রফিকুল ইসলাম

প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

চাকরি হারানোর শঙ্কায় কর্মচারীরা

সংগৃহীত

Advertisement

দেশে চলমান গ্যাস সংকটের কারণে বিপাকে পড়েছেন সিএনজি ফিলিং স্টেশনের মালিকরা। সরবরাহ কম থাকায় অধিকাংশ স্টেশনে গ্যাস বিক্রি অর্ধেকেরও নিচে নেমে এসেছে। ফলে ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অনেক মালিককে স্টাফদের বেতন-ভাতা, বিদ্যুৎ বিল, পানির বিল, স্টেশন ভাড়াসহ অন্যান্য ব্যয় নিজেদের অর্থ থেকে বহন করতে হচ্ছে। ফিলিং স্টেশনগুলোতে কাজের চাপ কমে যাওয়ায় চাকরি হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ তারা। তাদের অভিযোগ, গ্যাস সংকট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। তবে স্টেশন সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের আশা, সরকার দ্রুত এ সংকট সমাধানে ব্যবস্থা নেবে।

তাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরেই নানা সংকটে রয়েছে দেশের সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলো। সরকার নির্ধারিত ১৮ শতাংশ লাভের মধ্যে প্রায় ১৪ শতাংশই বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে চলে যায়। বাকি ৪ শতাংশ দিয়ে স্টাফদের বেতনসহ স্টেশনের অন্যান্য ব্যয় নির্বাহ করতে হয়। এর মধ্যে নতুন করে গ্যাস সংকট পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে। সোমবার রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

তেজগাঁওয়ের ওয়াল ইন ওয়ান ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার কাজী রাজ যুগান্তরকে বলেন, গ্যাসের চাপ না থাকায় বিক্রি অনেক কমে গেছে। তবুও প্রতি মাসে ৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, পানির বিল এবং স্টাফদের বেতন দিতে হচ্ছে। বর্তমানে এসব ব্যয়ের বড় অংশ মালিকদের নিজস্ব অর্থ থেকে বহন করতে হচ্ছে। এ অবস্থা দীর্ঘদিন চললে স্টেশন চালু রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। এক সময় বাধ্য হয়ে স্টেশন বন্ধও করে দিতে হতে পারে।

পূর্বাচল ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. শাহ আলম বলেন, গ্যাস বিক্রির আয় থেকেই স্টাফদের বেতন ও স্টেশনের ব্যয় নির্বাহ করা হয়। কিন্তু গ্যাসের চাপ কম থাকায় বিক্রি হচ্ছে না। স্টাফদের বসিয়ে রেখেই বেতন দিতে হচ্ছে। এ সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে কর্মচারী ছাঁটাই ছাড়া উপায় থাকবে না।

বেস্ট ইস্টার্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনের জেনারেল ম্যানেজার মাহেশ রায় বলেন, আগের তুলনায় অর্ধেকের বেশি বিক্রি কমেছে। যে গাড়িতে আগে ৬০০ টাকার গ্যাস দেওয়া হতো, এখন সেখানে ২০০ থেকে ২৫০ টাকার বেশি গ্যাস দেওয়া যাচ্ছে না। লাইনে গ্যাস না থাকলে আমাদের কিছুই করার নেই। যারা তুলনামূলক বেশি বিক্রি করতে পারছে, তারা কিছুটা ভালো অবস্থায় আছে। বাকিরা ক্ষতির মধ্যে রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের স্টেশনে ২৭ জন স্টাফ রয়েছেন। তাদের অধিকাংশই এখন কাজ না থাকায় বসে আছেন। মালিক কতদিন এভাবে বসিয়ে রেখে বেতন দেবেন, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। বিক্রি আরও কমে গেলে কর্মচারীদের ছাঁটাই ছাড়া বিকল্প থাকবে না।

এনএস সিএনজি ফিলিং অ্যান্ড সার্ভিসিং সেন্টারের ক্যাশিয়ার আক্তারুজ্জামান বলেন, বর্তমান গ্যাসের যে চাপ-তাতে দুই থেকে তিনজন নজেলম্যানই যথেষ্ট। অথচ আমাদের এখানে আটজন নজেলম্যান রয়েছেন। দ্রুত সংকটের সমাধান না হলে সব স্টেশনের কর্মীরা ঝুঁকিতে পড়বেন।

ডেমরার রাসেল ফিলিং অ্যান্ড সিএনজি স্টেশনের মহাব্যবস্থাপক মো. হেলাল বলেন, গ্যাসের চাপ কম থাকায় চারটি হোস পাইপের মধ্যে মাত্র একটি সচল রাখা যাচ্ছে। বাকি তিনটি লাইনের কর্মীরা বসে থাকছেন। এতে একদিকে বিক্রি কমছে, অন্যদিকে অলস কর্মীদের বেতন দিতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটি লোকসানের মুখে পড়েছে।

মঙ্গলবারও রাজধানীর প্রায় সব সিএনজি ফিলিং স্টেশনে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা যায়। গ্যাস নিতে স্টেশনগুলোর সামনে দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে পরিবহণ চালকদের। গ্যাসের চাপ কম থাকায় অনেক নজেলম্যানকে অলস সময় কাটাতে দেখা গেছে।

ধারাবাহিক এ সংকটে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পরিবহণ চালকরাও। সিএনজি অটোরিকশাচালক ওবায়দুল যুগান্তরকে বলেন, ‘জানি না কবে এই দুর্ভোগ শেষ হবে। প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। এভাবে সময় নষ্ট ও ভোগান্তি আর সহ্য করা যাচ্ছে না।’

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম