ঋণের ৩৬ ভাগই খেলাপি, আদায়ে ১৮ মাসের পরিকল্পনা: গভর্নর
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ব্যাংকিং খাতের বিতরণ করা ঋণের প্রায় ৩৬ শতাংশ খেলাপি হয়ে পড়েছে, যা আর্থিক খাতের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. মো. মোস্তাকুর রহমান। তিনি বলেন, এই খেলাপি ঋণের ক্রমবর্ধমান সংকট মোকাবিলায় ১৮ মাসের বিশেষ কর্মপরিকল্পনা নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়াতে সেপ্টেম্বর থেকে ৬০ হাজার কোটি টাকার নতুন ঋণ প্যাকেজ চালু করা হবে।
বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অ্যাকাউন্টিং বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত ‘বাংলা কিউআর’বিষয়ক সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
খেলাপি ঋণ নিয়ে গভর্নর বলেন, আগের সরকারের সময়ে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে প্রায় দুই কোটি আমানতকারী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ পরিস্থিতি থেকে ব্যাংকিং খাতকে টেকসই ও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে কঠোর ও বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ড. মোস্তাকুর রহমান আরও বলেন, ১৮ মাসের কর্মপরিকল্পনার প্রথম ছয় মাসে বুলেট পেমেন্ট পদ্ধতির মাধ্যমে ঋণগ্রহীতাদের এক্সিটের সুযোগ দেওয়া হবে। পরবর্তী এক বছরে ডিস্ট্রেসড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট আইন এবং অর্থঋণ আদালত আইন কার্যকর করে খেলাপি ঋণ আদায়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আসন্ন সংসদ অধিবেশনেই এই দুটি আইন পাশ হবে বলে আশা রাখি।
গভর্নর জানান, দেশের অর্থনীতিতে বেসরকারি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে সেপ্টেম্বর থেকে ৬০ হাজার কোটি টাকার নতুন ঋণ প্যাকেজ চালু করা হবে। পাশাপাশি জুলাই যোদ্ধাদের পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলায় পাঁচ হাজার নতুন উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ঢাবির এমবিএ ভবনের অধ্যাপক আব্দুল্লাহ ফারুক মাল্টিপারপাস কনফারেন্স হলে এ সভার উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম। অ্যাকাউন্টিংয়ের চেয়ারম্যান ড. মাকছুদুর রহমান সরকারের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য দেন ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. এহতেশামুল হক খান।
উপাচার্য ওবায়দুল ইসলাম বলেন, নিরাপদ, সহজ ও ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়ে তুলতে বাংলা কিউআর একটি যুগোপযোগী উদ্যোগ। এর মাধ্যমে ডিজিটাল লেনদেন আরও সহজ, দ্রুত ও নিরাপদ হবে। অনুষ্ঠানে অ্যাকাউন্টিং বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং অতিথিদের বাংলা কিউআরের ব্যবহার, সুবিধা ও ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। এছাড়া তাৎক্ষণিক লেনদেন প্রদর্শনী, সচেতনতামূলক উপস্থাপনা ও প্রশ্নোত্তরপর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
