Logo
Logo
×
   

শেষ পাতা

রক্তাক্ত জুলাই

জুলাই জাদুঘর থেকে সীমান্ত হত্যার স্মৃতি সরানো হয়েছে: নাহিদ ইসলাম

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

জুলাই জাদুঘর থেকে সীমান্ত হত্যার স্মৃতি সরানো হয়েছে: নাহিদ ইসলাম

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে শনিবার জুলাই স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে এনসিপির নেতারা -যুগান্তর

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর থেকে সীমান্ত হত্যা, ফেলানী হত্যাকাণ্ড ও মোদিবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতিসংবলিত কিছু উপাদান সরিয়ে ফেলার অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তার মতে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস কোনো দলীয় বয়ানে সীমাবদ্ধ না রেখে দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা, অঞ্চল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মানুষের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে তুলে ধরা উচিত।

শনিবার সকাল ৯টার দিকে এনসিপির অর্ধশতাধিক নেতাকে সঙ্গে নিয়ে জুলাই জাদুঘরে এসে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।

তিনি অভিযোগ করেন, ‘বিশেষত, এখানে সীমান্ত হত্যার একটা সেগমেন্ট (অংশ) ছিল। আমাদের সীমান্তে ভারতীয় বিএসএফ-এর হাতে হত্যাকাণ্ডের শিকার ভাইবোনদের একটা তালিকা ছিল, ফেলানীর একটা ভাস্কর্য ছিল। সেই জিনিসগুলো সরিয়ে ফেলা হয়েছে। মোদিবিরোধী আন্দোলনের কিছু স্মৃতি ও ছবি ছিল, সেটাও সরিয়ে ফেলা হয়েছে।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে নাহিদ বলেন, বিএনপি হয়তো ভারতকে ভয় পাচ্ছে। যদি ভয় না পেত, তাহলে যেটা ইতিহাসের অংশ, সেটা কেন থাকবে না।

এনসিপি সূত্র জানায়, দলের অর্ধশতাধিক নেতা জাদুঘর ঘুরে দেখার পর বেলা সাড়ে ১০টায় আধা ঘণ্টা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, জুলাই জাদুঘর খুলে দিতে সংসদ ও সংসদের বাইরে তিনি অনেক কথা বলেছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তিনি জাদুঘরের কার্যক্রম পরিদর্শনে এসেছিলেন। সেদিন বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বর্তমান বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসও ছিলেন। সেসময় জাদুঘরের যে পরিকল্পনা ছিল, বর্তমান সরকার এসে তাতে কিছু পরিবর্তন করেছে বলে জানান তিনি।

নাহিদ আরও অভিযোগ করেন, জাদুঘরের বর্তমান চিত্রে বিএনপি দল হিসাবে নির্যাতনের কনটেন্ট বাড়ানো হয়েছে। দলীয় বক্তব্য ও বয়ানও বেড়েছে। তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সেগমেন্টগুলো আরও বিস্তারিত করা উচিত। টাইমলাইন ধরে ধরে বয়ানটা আসা উচিত। বিশেষ করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ভূমিকাগুলো আলাদাভাবে আসা উচিত। সেগুলো আলাদাভাবে এখানে আসেনি। ঢাকার বাইরের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও জেলায়ও যে আন্দোলন হয়েছে; সেখানেও একই নির্যাতন, নির্মমতা ও প্রতিরোধের ঘটনাগুলো তুলে ধরা হয়নি। পরিচিত মুখগুলো এখানে বারবার এসেছে।

জুলাই জাদুঘর স্বায়ত্তশাসিত হওয়া উচিত জানিয়ে নাহিদ বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে দলীয়করণ করা হয়েছিল। একদল এসেছে, পাঠ্যপুস্তক পালটে গিয়েছে, ইতিহাস পালটে গিয়েছে। আমরা চাই, জুলাই অভ্যুত্থানসম্পর্কিত যে কোনো ইতিহাস, বক্তব্য ও জাদুঘরের যাতে একটা জাতীয় চরিত্র থাকে। প্রকৃত সত্যটাই যেন সেখানে আসে।’

জুলাই জাদুঘরে যথেষ্ট জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার মতে, যারা গণ-অভ্যুত্থানে ছিলেন এবং অভ্যুত্থানকে ধারণ করেন, তাদের মাধ্যমেই জাদুঘর পরিচালিত হওয়া উচিত।

পরিদর্শন কর্মসূচিতে নাহিদ ইসলামের মঙ্গে ছিলেন এনসিপির সদস্য সচিব ও সংসদ-সদস্য আখতার হোসেন, আবদুল্লাহ আল আমিন, নুসরাত তাবাসসুম, কেন্দ্রীয় নেতা সারজিস আলম, সারোয়ার তুষার, এসএম সাইফ মোস্তাফিজ, মাহিন সরকার, জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম, জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান ও সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার, চট্টগ্রামে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক খান তালাত মাহমুদ রাফিসহ প্রায় অর্ধশত দলীয় নেতা।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .