যুবদল নেতার জামিন না হওয়ায় আদালতে হামলা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চাঁপাইনবাবগঞ্জে আদালতের এজলাস কক্ষ ও বিচারকের খাস কামরার দরজা ও জানালা ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে বিএনপি ও দলটির সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। রোববার দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে এ হামলা হয়। এ সময় যুগ্ম জেলা জজ মো. উজ্জল মাহমুদের খাস কামরা ভাঙচুর করে হামলাকারীরা।
জানা যায়, একটি রাজনৈতিক মামলায় যুবদল নেতা আনোয়ার হোসেন তুফানকে শনিবার রাতে গ্রেফতার করে পুলিশ। গতকাল সেই মামলার শুনানি হয়। চার আসামির জামিন মঞ্জুর হলেও তুফানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেননি আদালত। এরপরই আদালতে হামলা করে তার অনুসারীরা। তুফান চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর যুবদলের সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, শুনানির সময় এজলাস কক্ষের ভিডিও ধারণ করছিলেন নেতাকর্মীরা। বিচারক নিষেধ করলে ক্ষিপ্ত হন তারা। এ সময় এজলাস হামলা শুরু হলে বিচারক খাস কামরায় চলে যান। পরে সেখানকার দরজা-জানালাও ভাঙচুর করে বিএনপির নেতাকর্মীরা।
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি নেতাকর্মীরা বলেন, যুবদল নেতা তুফানের জামিনের বিষয়টি উপস্থাপন করা হলেও টালবাহানা করেন বিচারক। এমনকি বিদ্যুৎ নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে বিরূপ মন্তব্য করেন। তাদের দাবি, বিচারক ‘বিগত সরকারের সময়েই বিদ্যুতের অবস্থা ভালো ছিল’ বলার পরই নেতাকর্মীরা উত্তেজিত হয়ে ভাঙচুর চালায়।
এ ঘটনার পর আদালত চত্বরে বিক্ষোভ করেন বিএনপি, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা বিচারক উজ্জল মাহমুদকে ফ্যাসিস্টদের দোসর উল্লেখ করে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তার অপসারণের আলটিমেটাম দেন। দাবি আদায় না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা। আদালত চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
মামলার আসামি জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব বাবর আলী রুমন ও জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মিম ফজলে আজিমের দাবি, বিচারক সরকার নিয়ে বিদ্রূপ মন্তব্য করেছেন। এ সময় তাকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি নিজেকে গোপালগঞ্জের লোক বলেও জানান। তিনি ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তোলেন তারা।
আসামিপক্ষের আইনজীবী ও জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম টিপু বলেন, আদালতে বিদ্যুৎ না থাকায় বিচারক বাজে মন্তব্য করায় উপস্থিত নেতাকমীদের মাঝে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ সময় কেউ কেউ ভিডিও ধারণ করতে গেলে বিচারক নিষেধ করেন। এতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাসিব জানান, ৫ আগস্টের পর মব কালচারের সৃষ্টি হয়েছে। এটি সেই ধারাবাহিকতার অংশ। এ ঘটনা বিচার বিভাগের জন্য হুমকিমূলক। হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আব্দুল ওদুদের দাবি, হামলা ও ভাঙচুর বহিরাগতদের কাজ। এটি কোনোভাবেই কাম্য নয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এএনএম ওয়াসিম ফিরোজ বলেন, তাৎক্ষণিক পুলিশ উপস্থিত হয়ে অবস্থানকারীদের সরিয়ে দেয়। আদালত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
