Logo
Logo
×
   

শেষ পাতা

চুল বেচে ঘরভাড়া শোধ

অবশেষে মিলল ঘর খাদ্য ও অর্থ সহায়তা

Icon

শওকত আলী বাবু, বাগেরহাট

প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

চুল বেচে ঘরভাড়া শোধ

ঘর ভাড়ার টাকা পরিশোধের জন্য বিক্রি করে দিতে হয়েছে মাথার চুল। সন্তান ও প্রতিবন্ধী বোনকে নিয়ে ঠাঁই নিয়েছিলেন রামপাল উপজেলার সন্তোষপুরে রেললাইনের পাশে। অবশেষে রোববার পরিবেশ ও বন প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনায় পেয়েছেন মাথা গোঁজার আশ্রয় -যুগান্তর

ঘরভাড়ার টাকা জোগাড় করতে বিক্রি করতে হয়েছে মাথার চুল। তবু জোটেনি টিনের ছাউনি। বাগেরহাটের রামপালের সন্তোষপুরে রেললাইনের পাশে কয়েকটি বাঁশের খুঁটিই ছিল রেহানা বেগমের ঠিকানা। দুই শিশুসন্তান রোহান (৪) ও আলোমতিকে (৩) নিয়ে রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজেই তার দিন কাটছিল।

অবশেষে অসহায় এই নারীর পাশে দাঁড়িয়েছেন বাগেরহাট-৩ আসনের সংসদ-সদস্য পরিবেশ ও বন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। তার নির্দেশনায় রেহানার জন্য মাথা গোঁজার ঠাঁই, খাদ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, রেহানা বেগম (২৯) তিন ভাই-বোনের মধ্যে সবার বড়। ছোট বোন মানসিক প্রতিবন্ধী। বৃদ্ধ বাবা অন্যের বাড়িতে কাজ করে যা উপার্জন করেন, তা দিয়েই কোনোমতে সংসার চলে। রেহানার বিয়ে হলেও স্বামী জাফর আলী মাদকাসক্ত। প্রায়ই তার ওপর নির্যাতন করেন। রেহানা জানান, কখনো ভিক্ষা করে বা মানুষের কাছ থেকে চেয়ে তিনি যে টাকা পান, তাও স্বামী নিয়ে যান।

কিছু দিন আগে দুই সন্তানকে নিয়ে একটি ভাড়া বাসায় উঠেছিলেন রেহানা। কিন্তু ভাড়া পরিশোধ করতে না পারায় সেখান থেকেও তাকে চলে আসতে হয়। তার আগে বকেয়া বাড়িভাড়া সাড়ে তিন হাজার টাকা পরিশোধের জন্য এক হাজার টাকায় নিজের মাথার চুল বিক্রি করেন। বাকি টাকা মানুষের কাছ থেকে চেয়ে নেন।

এরপর রেহানা আশ্রয় নেন রামপাল উপজেলার সন্তোষপুরে খুলনা-মোংলা রেললাইনের পাশে। স্থানীয় কয়েকজনের সহায়তায় বাঁশের খুঁটি দিয়ে একটি ঘরের কাঠামো তৈরি করেন সেখানে। কিন্তু টিন কেনার সামর্থ্য না থাকায় ছাউনি দেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে খোলা আকাশের নিচেই দুই সন্তানকে নিয়ে কয়েক মাস ধরে বসবাস করেন।

রেহানা বেগম বলেন, দুই সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে সব কষ্ট সহ্য করি। মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে চেয়ে যা পাই, তাই সন্তানদের মুখে তুলে দিই।

রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তামান্না ফেরদৌস বলেন, প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনা এবং জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে রোববার রেহানাকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এক মাসের খাদ্যসামগ্রীও প্রদান করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারি ঘরের ব্যবস্থা করে তাকে আবাসনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তার জন্য একটি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মসূচির আওতায় তাকে কাজের সুযোগ করে দেওয়া হবে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .