অভিযোগ জামায়াতের বিরুদ্ধে
নোয়াখালীতে বাড়িতে ঢুকে যুবদল নেতাকে গুলি
Advertisement
নোয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
প্রতীকী ছবি।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার রসুলপুরে বাড়িতে ঢুকে যুবদলের সাবেক এক নেতাকে গুলি করার অভিযোগ উঠেছে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মো. সোহাগ ওরফে সোহেল (৩৫) নামে ওই যুবদল নেতা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। রোববার রাত ৮টার দিকে বেগমগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের রসুলপুর গ্রামের চৌকিদার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ সোহেল গোপালপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সভাপতি। তিনি ওই গ্রামের চৌকিদার বাড়ির মাহফুজ মিয়ার ছেলে। অন্যদিকে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত অবস্থায় সালেহ আহমেদ (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে কে বা কারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা করেছে। গুরুতর অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০ জুলাই চার বছর পর সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরেন সোহেল। বুধবার দুপুরে পাশের আমানউল্যাহপুর ইউনিয়নের জনকল্যাণ এলাকায় রসুলপুর গ্রামের যুবদলকর্মী সুমনকে পথরোধ করে মারধর করেন জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা। এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় সোহেলের সঙ্গে তাদের বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর জেরে রোববার রাতে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মী আলম ওরফে ছেনি আলম, নাছির, জহির ও চশমা জাবেদের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা বাড়িতে ঢুকে সোহেলকে গুলি করে। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।
গোপালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি হাবীবুর রহমান হাবীব অভিযোগ করেন, গোপালপুর ইউনিয়নে জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি না করলে বসবাস করা কঠিন-এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা যুবদল নেতা সোহেলকে বাড়িতে ঢুকে গুলি করে প্রকাশ্যে উল্লাস করতে করতে চলে যায়। অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গোপালপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাস্টার আবু তাহের। তিনি দাবি করেন, এ ঘটনার সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের কোনো নেতাকর্মী জড়িত নন। এটা বিএনপির নিজেদের দ্বন্দ্ব। বেগমগঞ্জ থানার ওসির দায়িত্বে থাকা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হাবীবুর রহমান বলেন, লাইট গানের ছররা গুলিতে একজন আহত হয়েছেন। রাজনৈতিক বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে সোনাইমুড়ীতে ঘুমন্ত ব্যক্তিকে গলা কেটে হত্যাচেষ্টার বিষয়টি সোমবার দুপুরে নিশ্চিত করেন সোনাইমুড়ী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আরিফুল করিম দোলন। রোববার রাত ১টা থেকে দেড়টায় সোনাইমুড়ী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বরলা উত্তরপাড়া এলাকার ভূঁইয়াবাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। আহত সালেহ আহমেদ ওই এলাকার মৃত ছেরাজুল হকের ছেলে। তিনি পেশায় স মিলের মিস্ত্রি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র দিয়ে সালেহ আহমেদের গলায় আঘাত করে। এতে তার গলায় গুরুতর জখম হয়। পরিবারের দাবি, রাতে চোর ঘরে ঢুকে সালেহ আহমেদকে গলা কেটে হত্যাচেষ্টা করে। তবে ঘর থেকে কোনো মালামাল খোয়া যায়নি। ঘটনাটি নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।
