Logo
Logo
×
   

শেষ পাতা

ফ্যামিলি কার্ডের কর্মী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ

সুন্দরগঞ্জে ইউএনও অফিসে তালা, ফুলছড়িতে ভাঙচুর

গৌরীপুরে ক্ষুব্ধ ছাত্রদল নেতার পদত্যাগ * রাজনগরে স্বজনপ্রীতিতে উত্তেজনা

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

সুন্দরগঞ্জে ইউএনও অফিসে তালা, ফুলছড়িতে ভাঙচুর

ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে নিয়োগবঞ্চিতদের একাংশের ভাঙচুর করা গাইবান্ধার ফুলছড়ি ইউএনও কার্যালয়। মঙ্গলবার তোলা -যুগান্তর

ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ইউএনও এবং সমাজসেবা অফিসে তালা দিয়েছেন বিক্ষুব্ধ চাকরিপ্রার্থীরা। তাদের মধ্যে বিএনপি নেতাকর্মীরাও ছিলেন। এ জেলার ফুলছড়িতেও ইউএনও কার্যালয়ে ভাঙচুর হয়েছে। এছাড়া মৌলভীবাজারের রাজনগরে নিয়োগে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলেছে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা। ময়মনসিংহের গৌরীপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিয়োগপ্রার্থীরা। এখানে ছাত্রলীগ নেতাকে নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে এক ছাত্রদল নেতা পদত্যাগের ঘোষণাও দিয়েছেন। অভিযোগকারীদের দাবি, নিয়োগে বড় দুর্র্নীতি হয়েছে। কোথাও স্বজনপ্রীতি, কোথাও দলীয়করণ হয়েছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

গাইবান্ধায় বিক্ষোভ ও ভাঙচুর 

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার অপসারণ দাবি করে বিক্ষোভ করেন উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং দলটির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। বিক্ষোভকারীরা ফল বাতিল করে নতুন করে নিরপেক্ষ নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন। মঙ্গলবার পৌর শহরের বাহিরগোলা জামে মসজিদ মোড় এলাকায় বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে বিক্ষোভকারীরা উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের প্রধান ফটকে এবং ইউএনও কার্যালয়েও তালা লাগিয়ে দেন তারা। এ সময় ‘অবৈধ নিয়োগ মানি না, মানবো না’, ‘লীগের দোসর ইউএনওকে অপসারণ কর, করতে হবে’ প্রভৃতি স্লোগান দেওয়া হয়। বিক্ষুব্ধরা অভিযোগ করেন, নিরপেক্ষতার বাইরে গিয়ে জামায়াত ও আওয়ামী লীগের ‘এজেন্ডা’ বাস্তবায়নে কাজ করছেন ইউএনও এবং সমাজসেবা কর্মকর্তা। তারা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অবৈধ নিয়োগ বাতিল করার হুঁশিয়ারি দেন। 

গাইবান্ধার ফুলছড়িতেও মঙ্গলবার ইউএনও কার্যালয়ে ভাঙচুর হয়েছে। কার্যালয়ের চেয়ার-টেবিল, ফুলের টব ও জানালার কাচ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর আগে উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিক্ষোভ করে নিয়োগপ্রার্থীদের একাংশ। ইউএনও মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমরা স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করার চেষ্টা করেছি।’ ফুলছড়ি উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জয়নাল আবেদিন জয়ের দাবি, ইউএনও যে ফলাফল প্রকাশ করেছেন, এর সঙ্গে ফ্যাসিস্টরা জড়িত।

গৌরীপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভের ঝড় : ময়মনসিংহের গৌরীপুরে নিয়োগে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও দলীয় প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে। উত্তীর্ণ না হয়েও সুপারভাইজার পদে নিয়োগের অভিযোগ রয়েছে। ছাত্রলীগ নেতা নিয়োগ পাওয়ায় এক ছাত্রদল নেতা পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। নিয়োগপ্রার্থীদের একাংশের অভিযোগ, নিয়োগে দলীয়করণ হয়েছে। তবে নিয়োগ কমিটির সভাপতি ইউএনও আফিয়া আমীন পাপ্পা বলেন, এসব অভিযোগ সত্য নয়। বিধি মোতাবেক লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষাসহ স্বচ্ছ পদ্ধতিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। 

পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়া ওই ছাত্রদল নেতা হলেন অচিন্তপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সদস্য মাহবুব হোসেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে ফেসবুকে লেখেন, ‘ছাত্রলীগ জিতে গেছে, সেই সুখে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলাম।’ ছাত্রদল নেতা মহিবুর রহমান যুগান্তরকে জানান, লিখিত পরীক্ষায় অংশ না নিয়েও সুপারভাইজার পদে নিয়োগ পেয়েছেন নুর মোহাম্মদ। এটা কীভাবে সম্ভব হলো। আরেকটি অভিযোগে জানা যায়, তথ্য সংগ্রহকারী পদে লিখিত পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে সুপারভাইজার পদে। এতে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন স্থানীয় সাধারণ শিক্ষার্থীরা। প্রকাশিত ফলকে ‘তামাশা’ আখ্যা দিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেন অনেকে। চাকরিপ্রার্থী ফাইরুজ হুমাইরা কর্ন জানান, পিওর দুর্নীতি হয়েছে। আরশাদুল হক জানান, লিখিত পরীক্ষা, ভাইভা কিছু না দিয়েও তালিকায় নাম দেখলাম। 

রাজনগরে উত্তেজনা : মৌলভীবাজারের রাজনগরে অনিয়মের অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার ছাত্রদল ও যুবদল নেতাকর্মীরা ইউএনও কার্যালয়ে জড়ো হলে উত্তেজনা দেখা দেয়। তাদের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা কমিটির মিটিং চলাকালে সরকারবিরোধীদের বাছাই করে ফল প্রকাশ করা হয়েছে। তবে ইউএনও বিপুল সিকদারের দাবি, নিয়মতান্ত্রিকভাবে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। জানা যায়, রাজনগর উপজেলার ৮ ইউনিয়নে ফ্যামিলি কার্ডের কর্মী নিয়োগের ফল প্রকাশ করা হয় সোমবার রাতে। তালিকা দেখে বিএনপি-যুবদলের নেতকার্মীরা হতাশ হন। তাদের দাবি, এ তালিকায় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও জামায়াতের কর্মীদেরই স্থান দেওয়া হয়েছে। উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব রুকন আহমদ জানান, অনেক যোগ্য লোককে সুকৌশলে বাদ দেওয়া হয়েছে।


Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .