Logo
Logo
×
   

শেষ পাতা

নিম্নমানের পণ্য কিনতে বাধ্য করছে টিসিবি

ফেনা হয় না সাবানে, তেলেও ভেজাল

আকতার ফারুক শাহিন

আকতার ফারুক শাহিন

প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

নিম্নমানের পণ্য কিনতে বাধ্য করছে টিসিবি

কম দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য দেওয়ার কথা থাকলেও ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) পণ্যের মান নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বরিশালে ফ্যামিলি কার্ডের গ্রাহকদের চাল, ডাল ও তেলের সঙ্গে গুঁড়া সাবান, বল সাবান ও গায়ে দেওয়ার সাবান নিতে বাধ্য করা হচ্ছে। গ্রাহকদের অভিযোগ, এসব পণ্যের বেশির ভাগই নিম্নমানের ও ব্যবহার অনুপযোগী। ফলে একপর্যায়ে এসব পণ্য নিতে অস্বীকৃতি জানান তারা। বিষয়টি নিয়ে বিপাকে পড়েছেন বরিশাল বিভাগের ছয় জেলা ও নগর এলাকার প্রায় ৫০০ ডিলার।

নগরীর কালুশাহ সড়কের বাসিন্দা মুক্তা সুলতানা বলেন, ফ্যামিলি কার্ডে দেওয়া ‘সাফ’ গুঁড়া সাবানে ঘ্রাণ ভালো হলেও ফেনা হয় না, কাপড়ও পরিষ্কার হয় না। নবগ্রাম রোডের হাসি বেগম বলেন, একই কোম্পানির বল সাবান দিয়ে হাঁড়িপাতিলের কালি ও থালাবাসনের ময়লা পরিষ্কার হয় না। বরং এটি ব্যবহারে হাতের চামড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

টিসিবির সরবরাহ করা ‘ফ্যামিলি’ পাম অয়েল নিয়েও অভিযোগ করেছেন গ্রাহকরা। তাদের দাবি, বেশিদিন ঘরে রাখলে তেল জমাট বেঁধে যায়। রান্নার পর সবজির ওপর চর্বির মতো আস্তর পড়ে এবং তেল ভেসে ওঠে। প্রায় ছয় মাস আগে টিসিবির পণ্যের তালিকায় জামাকাপড় ধোয়ার গুঁড়া সাবান, গায়ে দেওয়া ও থালাবাসন পরিষ্কারের সাবান যুক্ত হয়। নির্ধারিত প্যাকেজে চাল, ডাল, তেল ও চিনির সঙ্গে এসব পণ্য নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়। কিউআর কোড স্ক্যান করে টাকা পরিশোধের পর পণ্য নিতে হয় ফ্যামিলি কার্ডের গ্রাহকদের।

১২ জুলাইয়ের এক চিঠিতে টিসিবি জানায়, গ্রাহকদের সাবান বা গুঁড়া সাবান নিতে বাধ্য করা যাবে না। কোনো পণ্য অবিক্রীত থাকলে পরের মাসে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রির নির্দেশ দেওয়া হয়।

কয়েকজন ডিলার যুগান্তরকে বলেন, ‘বাজারে অপরিচিত নিম্নমানের এসব পণ্য যেখানে ফ্যামিলি কার্ডের গ্রাহকরাই নিতে চান না, সেখানে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে কীভাবে বিক্রি করব আমরা? টিসিবির নিয়ম হচ্ছে তাদের পণ্য বাইরে বিক্রি করা যাবে না। তারপরও তারা এ ধরনের নির্দেশ দেয় কী করে?’ বরিশাল নগরীর এক ডিলার বলেন, ‘নিম্নমানের এসব পণ্যের সঙ্গে বাজারে প্রচলিত পণ্যের দামে খুব একটা পার্থক্য নেই। যে কারণে বিক্রি তো দূর, কারও কাছে এসব পণ্যের কথা বলাও যাচ্ছে না। নতুন এ নির্দেশনার পর কোটি কোটি টাকার পণ্য পড়ে আছে ডিলারদের দোকানে। টিসিবিও এগুলো ফেরত নেবে না। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, এসব পণ্যের গায়ে কোনো বিক্রয়মূল্যও লেখা নেই।’

এদিকে প্রায় দুই মাস ধরে গ্রাহকদের চাল দিচ্ছে না টিসিবি। তবে নিয়মিত আসছে পাম অয়েল, ডিটারজেন্ট পাউডার ও বল সাবান। ডিলারদের অভিযোগ, এসব না নিলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার মেসেজও দেওয়া হচ্ছে।

টিসিবির বরিশাল আঞ্চলিক কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘নতুন চালানে হুইল পাউডার এবং চাকা বল সাবান দিচ্ছি আমরা। চালের বিষয়টি যেহেতু খাদ্য মন্ত্রণালয় দেখে, তাই এ ব্যাপারে আমি কিছু বলতে পারব না।’ বর্তমানে ডিলারদের কাছে থাকা নিম্নমানের পণ্যের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘টিসিবি কখনো নিম্নমানের কোনো পণ্য গ্রাহকদের দেয় না। সঠিক নিয়মে মান যাচাইয়ের পরই তা কিনি আমরা। আগের চালানে আসা সাফ ডিটারজেন্ট পাউডার, সাফ বল সাবান কিংবা ফ্যামিলি পাম অয়েল মোটেই নিম্নমানের নয়।’ ডিলাররা যদি পণ্য বিক্রি করতে না পারেন, তাহলে সেসব পণ্য টিসিবি ফেরত নেবে কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘ফেরত নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। নির্দেশনা অনুযায়ী, গ্রাহকদের অনাগ্রহের কারণে কোনো পণ্য অবিক্রীত থাকলে ১ মাস পর ডিলাররা তাদের দোকানে রেখে তা বিক্রি করে টাকা উঠিয়ে নিতে পারবেন।’

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .