বিএনপি নেতাদের নামে এজাহার
পরদিনই ডিসি প্রত্যাহার ইউএনও বদলি
নাটোর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নাটোরের লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সোমবার থানায় লিখিত অভিযোগ (এজাহার) দেওয়া হয়েছে। এর পরদিনই নাটোরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) আসমা শাহীনকে প্রত্যাহার ও লালপুরের ইউএনও মো. বরকত উল্লাহকে বদলি করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ দেওয়া হয়। এ নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব বরমান হোসেন স্বাক্ষরিত এক আদেশে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আসমা শাহীনকে প্রত্যাহার করে পরবর্তী পদায়নের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে রাজশাহী বিভাগীয় সিনিয়র সহকারী কমিশনার প্রীতিলতা বর্মণ স্বাক্ষরিত অপর এক আদেশে লালপুরের ইউএনও বরকত উল্লাহকে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। এছাড়া একই দিন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ.ন.ম বজলুর রশীদকেও প্রত্যাহার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন বুধবার যুগান্তরকে বলেন, প্রত্যাহারের বিষয়টি সরকারি চাকরির একটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। দুই বছর ধরে নাটোরে দায়িত্বে আছি। চলে যাওয়ার সময় হয়েছে, তাই সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর বাইরে অন্য কিছু নয়।
গত ১২ আগস্ট ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ফলাফল নিয়ে অসন্তোষের জেরে লালপুর ও বাগাতিপাড়া ইউএনও কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও সরকারি কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত করা হয়। এসব ঘটনার ছবি ও ভিডিও ধারণ করায় সাত সাংবাদিককেও লাঞ্ছিত করা হয়। এ ঘটনায় সমালোচনার জেরে লালপুর উপজেলা ছাত্রদল তাদের তিন কর্মীকে বহিষ্কার করেছে। সোমবার এ ঘটনায় লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আবু মাসুদ রানা এবং পরের দিন মঙ্গলবার বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. শুকুর আলী বাদী হয়ে নিজ নিজ থানায় দুটি এজাহার দেন। এতে সরকারদলীয় ২৫ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১৪০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়।
লালপুরেরর এজাহারে অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. হারুন অর রশিদ পাপ্পু, গোপালপুর পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সাবেক মেয়র মো. নজরুল ইসলাম মোলাম, বিলমাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও চেয়ারম্যান মো. সিদ্দিক আলী মিষ্টু, ঈশ্বরদী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও চেয়ারম্যান মো. আব্দুল আজিজ রঞ্জু এবং উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রায়হান কবীর সুইট ও উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবু রায়হান।
অন্যদিকে বাগাতিপাড়ার এজাহারে রয়েছেন উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সোহেল রানা, যুগ্ম আহ্বায়ক তারিক আজিজ, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য আশিকুর রহমান, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোশারফ হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান, বাগাতিপাড়া পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোতালেব আলী পান্না এবং উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সাব্বির হোসেন মুন্না।
এ বিষয়ে নাটোর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান আসাদ যুগান্তরকে বলেন, প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে তথ্য-প্রমাণ থাকলে মামলা করতে কোনো আপত্তি নেই। তবে এখানে ঢালাওভাবে বিএনপির উপজেলা, ইউনিয়ন ও পৌর কমিটির শীর্ষ নেতাদের নাম উল্লেখ করে এজাহার দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, দলকে হেয় করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে নেতাকর্মীদের মামলায় জড়ানো হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। সরকারি কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় যারা প্রকৃতভাবে জড়িত, তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে বিএনপি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাটোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরিফুল হক বলেন, এখনো বলার মতো কিছু নেই।
