মুদ্রাবাজার
উপকরণের সুদহার নিম্নমুখী কমছে ব্যাংকের ধারের খরচ
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মুদ্রাবাজার থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর স্বল্প ও মধ্য মেয়াদে ধার করার বিভিন্ন উপকরণের সুদহার কমতে শুরু করেছে। এক বছরের ব্যবধানে দশমিক ৫০ থেকে দেড় শতাংশ সুদহার কমেছে। এই হার কমার কারণে ব্যাংকগুলোর সাময়িক ধার করার খরচ কমেছে। ফলে তাদের তহবিল ব্যবস্থাপনা ব্যয়ও কমতে শুরু করেছে। এর প্রভাবে আগামী দিনে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণের সুদহার আরও কমাতে সহায়ক হবে। ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকেও ঋণের সুদহার কমাতে বহুপাক্ষিক পদক্ষেপ নিয়েছে। এতে ঋণের সুদহারও কমতে শুরু করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একাধিক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
সূত্র জানায়, ব্যাংকগুলো জরুরি প্রয়োজনে মুদ্রাবাজারের কলমানি মার্কেট থেকে এক দিনের জন্য স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি, আন্তঃব্যাংক রেপো এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ধার করে। এক বছরের মধ্যে সব খাতে ধারের সুদহার কমেছে।
রোববার প্রকাশিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, গত বছরের জুনে কলমানি মার্কেট থেকে এক দিনের জন্য ধারের সুদহার বেড়ে সর্বোচ্চ ১০ দশমিক ১৪ শতাংশে উঠেছিল। চলতি বছরের জুলাইয়ে তা কমে ৯ দশমিক ৬৪ শতাংশে নেমেছে। স্বল্পমেয়াদি ধার করতে সুদের হার গত বছরের জানুয়ারিতে বেড়ে সর্বোচ্চ ১১ দশমিক ৪৬ শতাংশে উঠেছিল। চলতি বছরের জুনে তা কমে ১১ দশমিক ২৬ শতাংশে নেমেছে। জুলাইয়ে তা আরও কমে ৯ দশমিক ৭৮ শতাংশে নেমেছে। মধ্যমেয়াদি ধারের সুদহার ২০২৪ সালের নভেম্বরে সর্বোচ্চ ১২ দশমিক ২৩ শতাংশে উঠেছিল। এর পর থেকে তা কমতে শুরু করে। গত বছরের জুনে তা কমে ১১ দশমিক ৪২ শতাংশে নামে। চলতি বছরের জুলাইয়ে তা আরও কমে ১০ দশমিক ১৯ শতাংশে নেমেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কেনা ট্রেজারি বিল এক ব্যাংক অন্য ব্যাংকের কাছে বন্ধক রেখে ঋণ (আন্তঃব্যাংক রেপো) নিতে পারে। এর সুদহার গত বছরের জুনে ছিল ১০ দশমিক ৩৯ শতাংশ। চলতি বছরের জুলাইয়ে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৭০ শতাংশ।
এছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতিনির্ধারণী সুদের হার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে সাড়ে ৯ শতাংশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঋণ ও আমানতের সুদহারের ব্যবধান ৪ শতাংশে বেঁধে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। জুলাই থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। গত বছরের জুনে ঋণ ও আমানতের সুদহারের ব্যবধান ছিল ৫ দশমকি ৮২ শতাংশ। গত মে পর্যন্ত তা কমে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৭০ শতাংশে।
ব্যাংকাররা জানান, ব্যাংকগুলোর ধারের বিভিন্ন উপকরণের সুদহার কমায় তাদের তহবিল ব্যবস্থাপনা ব্যয় কমতে শুরু করেছে। জুলাইয়ের হিসাব চূড়ান্ত হলে এর প্রভাব আরও স্পষ্ট হবে। এর প্রভাবে ইতোমধ্যে আমানতের সুদহারও কমতে শুরু করেছে। পাশাপাশি ঋণের সুদহারও কমছে। তবে গ্রাহকদের মধ্যে ঋণের সুদহার কমাতে আরও কিছুটা সময় লাগবে। তবে এখনই সামান্য হারে কমতে শুরু করেছে। প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ব্যাংকগুলোয় আমানতের গড় সুদহার ছিল ৬ দশমিক ৩৭ শতাংশ। গত মে মাসে তা কমে ৬ দশমিক ২২ শতাংশে নেমেছে। একই সময়ে ঋণের গড় সুদহার ১১ দশমিক ৯৬ ভাগ থেকে কমে ১১ দশমকি ৮৬ ভাগে নেমেছে।
