Logo
Logo
×
   

Advertisement

শেষ পাতা

সৌরবিদ্যুতে পোশাক খাতের ১৪% চাহিদা পূরণ সম্ভব

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

সৌরবিদ্যুতে পোশাক খাতের ১৪% চাহিদা পূরণ সম্ভব

Advertisement

শিল্পকারখানায় রুফটপ সোলার বা ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ বাড়ানো গেলে একদিকে বিদ্যুৎ ব্যয় কমবে, অন্যদিকে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে। রুফটপ সোলারের মাধ্যমে দেশের তৈরি পোশাক খাতের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ১৪ শতাংশ পূরণ করা সম্ভব। এজন্য ১৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার (প্রায় ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা) বিনিয়োগ প্রয়োজন। তবে এই বিনিয়োগে বড় বাধা সুদ। যদি সাড়ে ৬ শতাংশ সুদে ঋণ পাওয়া যায় ১ হাজার ৩০০ পোশাক কারখানা রুফটপ সোলারে যাবে। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সমীক্ষায় এসব তথ্য উঠে এসেছে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে সিপিডি আয়োজিত ‘পোশাক কারখানার ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে সমীক্ষা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সংস্থাটির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। গবেষণায় দেশের ৩ হাজার ৩২০টি পোশাক কারখানার তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৫০টি কারখানায় সরাসরি সমীক্ষা চালানো হয়।

গবেষণায় বলা হয়, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের ৮৭৮টি পোশাক কারখানার ওপর পরিচালিত সমীক্ষায় এসব কারখানার মোট বিদ্যুৎ চাহিদার মাত্র তিন শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে আসছে। তবে রুফটপ সোলারের মাধ্যমে পোশাক খাতের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ১৪ শতাংশ পর্যন্ত পূরণ করা সম্ভব।

তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের মোট সম্ভাবনা প্রায় ২ হাজার ৮১৫ মেগাওয়াট। এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে প্রয়োজন হবে প্রায় ১২ হাজার ৬৬৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৩০০ কিলোওয়াট বা তার বেশি ক্ষমতার ২ হাজার ৩০৩টি নন-অ্যাডাপ্টার কারখানায় সোলার প্যানেল স্থাপনে প্রায় ১৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।

গবেষণায় বলা হয়, ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের গড় খরচ প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টায় ৩ দশমিক ০৪ টাকা। জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ কেনার তুলনায় এ খরচ অর্ধেকেরও কম। তবে অর্থায়নের শর্তকে বড় বাধা হিসাবে দেখছে সিপিডি। গবেষণায় বলা হয়, সাড়ে ১০ শতাংশের বেশি সুদে বাণিজ্যিক অর্থায়ন হলে শিল্পকারখানায় রুফটপ সোলার প্রকল্প ব্যাংকের কাছে বিনিয়োগযোগ্য থাকে না। এ কারণে সবুজ অর্থায়ন ও রেয়াতি ঋণের ধারাবাহিকতা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘প্রত্যেকেই ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্টের (সংকট নিয়ন্ত্রণে নানা পদক্ষেপ) ভেতরে রয়েছে। এই ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট আরও কম হতে পারত, যদি অনেক আগে থেকেই শিল্প কারখানাগুলোতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণ করতে পারতাম।’

তিনি বলেন, ‘ধীরে ধীরে পোশাক খাত রুফটপ সোলারের দিকে যাচ্ছে। এটা খুবই ইতিবাচক প্রচেষ্টা। একদিকে এটি জ্বালানির ওপর চাপ কমাচ্ছে, অন্যদিকে কার্বন নিঃসরণ কমানোর যে প্রতিশ্রুতি আছে, সেটিও পূরণ করছে।’

খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, পোশাক খাতে সবমিলিয়ে প্রায় ৯ দশমিক ৭ মিলিয়ন বর্গমিটার জায়গা রয়েছে, যেখানে রুফটপ সোলার স্থাপন করা সম্ভব। এসব ছাদ থেকে প্রায় ১ হাজার ৭৬৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, রুফটপ সোলারে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ কিংবা অনেক রিসোর্সের প্রয়োজন নেই। মাত্র ১৮৮ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা) হলেই চলবে।’

তিনি বলেন, ‘সব কারখানা এখনই প্রস্তুত নয়। প্রায় ৫০০ কারখানা এখনই বিনিয়োগ করতে পারে। আরও ১ হাজার ৩০০ কারখানা রয়েছে, যারা প্রয়োজনীয় সমর্থন পেলে রুফটপ সোলারে যেতে পারে। ৪০০টির বেশি কারখানার ক্ষেত্রে আরও বেশি ইন্টারভেনশন (কার্যকর পদক্ষেপ) প্রয়োজন।’

অনুষ্ঠানে হা-মীম গ্রুপের পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি বিভাগের প্রধান তনুল চক্রবর্তী বলেন, ‘আমরা ২৯ দশমিক ২ মেগাওয়াট রুফটপ সোলার ইতোমধ্যে করে ফেলেছি। এতে মোট বিদ্যুৎ চাহিদার মাত্র ১৫ শতাংশ এবং পুরো জ্বালানি চাহিদার মাত্র ছয় শতাংশ পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে। এটাই বাস্তবতা।’

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) কান্ট্রি লিয়াজোঁ নুসরাত জাহান, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী (পরিকল্পনা ও অপারেশন) স্বপন বণিক, বাংলাদেশ টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি সমিতির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি জাহিদুল আলম, বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) পরিচালক মিনহাজুল হক উপস্থিত ছিলেন।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম