সিলেটে গৃহবধূ ডোমারে প্রতিবন্ধীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ
গোয়াইনঘাট (সিলেট) ও ডোমার (নীলফামারী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সিলেটের গোয়াইনঘাটে স্বামীর বন্ধুদের হাতে এক গৃহবধূ সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে এ ঘটনায় জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে ফোন পেয়ে দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে। এদিকে নীলফামারীর ডোমারে এক প্রতিবন্ধীকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার রাতের এ ঘটনায় ডোমার থানায় মামলা করা হয়েছে।
গোয়াইনঘাটে স্বামীর বন্ধুদের হাতে নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ নিজে বাদী হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখ করে গোয়াইনঘাট থানায় মামলা করেছেন। এ ঘটনায় গ্রেফতার দুজন হলেন, নগর ডেংরি এলাকার মৃত বশির উদ্দিনের ছেলে নেহাল এবং একই এলাকার মৃত চান মিয়ার ছেলে মাসুক। অভিযুক্তরা ওই গৃহবধূর স্বামীর বন্ধু ও সহযোগী বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
মামলায় গৃহবধূ উল্লেখ করেন, তার স্বামী একটি মামলায় কারাগারে রয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে আসামিরা তাকে ডৌবাড়ী ইউনিয়নের নগর ডেংরী এলাকার একটি পরিত্যক্ত ঘরের ভেতর নিয়ে যায়। সেখানে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে নেহাল আহমদ দরজা বন্ধ করে ভয় দেখিয়ে তাকে ধর্ষণ করে। এর পরপরই নেহাল আহমেত পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী পাশের রুমে থাকা মো. মাসুক আহমদ (৩৮), জুবের আহমদ (৩৫) ও মো. নিজাম উদ্দিনের (৩৬) জন্য দরজা খুলে দিলে তারা ঘরের ভেতরে আসে। ঘরে ঢোকা মাত্রই তারা তাকে আবার ভয় দেখিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। অন্যরা তখন মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে। এরপর ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ ৯৯৯ নম্বরে কল করে বিষয়টি জানায়। খবর পেয়ে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে নেহাল ও মাসুককে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ওমর ফারুক মোড়ল জানান, এ ঘটনায় থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকিদের গ্রেফতার এবং মূল রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশি তদন্ত চলমান রয়েছে।
এদিকে নীলফামারীর ডোমারের এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবন্ধীকে ধর্ষণে অভিযুক্ত যুবক একই এলাকার মোতালেব হোসেনের ছেলে আরমান হোসেন (২৬) এবং আরমানের সহযোগী চিলাহাটী সাহাপাড়ার কারিফের ছেলে লাজু (১৫)। তারা দুজনেই ঢাকায় রড মিস্ত্রির কাজ করেন।
ঘটনায় নির্যাতনের শিকার প্রতিবন্ধীর ভাবি জানান, আমার স্বামীর পাঁচ ভাই। তারা প্রত্যেকেই আলাদা বাড়িতে থাকেন। এই বাড়িতে আমার ননদ (২০) এবং শ্বশুর-শাশুড়ি থাকেন। রাত ৮টার ট্রেনে মেয়ের মা এবং অভিযুক্ত আরমান ও লাজু ঢাকা যাওয়ার উদ্দেশে রওয়ানা দেয়। এরই মধ্যে আরমান এবং লাজু ট্রেন থেকে নেমে যায়। অতঃপর তারা পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঘরের বেড়া কেটে ভেতরে ঢুকে আমার ননদকে ধর্ষণ করে। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে সে চিৎকার শুরু করলে তারা বেড়া ভেঙে পালিয়ে যায়। প্রতিবন্ধীর ভাই সুবল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, তারা এ বিষয়ে মামলা করবেন। এরপর তিনি চিলাহাটি পুলিশ তদন্তকেন্দ্রে ফোন করে পুলিশকে ঘটনা জানান।
খবর পেয়ে চিলাহাটি পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ এবং অভিযুক্তদের কাপড়ের ব্যাগ জব্দ করে। নির্যাতনের শিকার মেয়েটিকে তারা মেডিকেলের পাশাপাশি আইনি প্রক্রিয়ার জন্য থানায় নিয়ে যায়।
ডোমার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুল্লাহ বৃহস্পতিবার রাতেই মামলার বিষয়ে নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনার বিষয়ে ওই মেয়ের ভাই মামলা করেছেন।
