Logo
Logo
×
   

শেষ পাতা

হত্যার হুমকি মামলায় সালমান এফ রহমানের জামিন

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

হত্যার হুমকি মামলায় সালমান এফ রহমানের জামিন

তিস্তা সোলার ও বেক্সিমকো গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য অনৈতিক ঋণ সুবিধা দিতে রাজি না হওয়ায় বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেডের (বিআইএফএফএল) সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এসএম ফরমানুল ইসলামকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় সালমান এফ রহমানের জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত।

সোমবার শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলমের আদালত ৫০০ টাকার মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন। সালমান এফ রহমানের আইনজীবী সজিবুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ২০২৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করেন বিআইএফএফএলের সাবেক সিইও এসএম ফরমানুল ইসলাম। পরে মামলাটি তদন্ত করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

তদন্ত শেষে সাবেক অর্থসচিব ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম, সালমান এফ রহমান, মো. মনিরুল ইসলাম খান ও খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামসহ ছয়জনকে অভিযুক্ত করা হয়। অপর আসামি সাজ্জাদ হোসেন পলাতক রয়েছেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, বিআইএফএফএলের সিইও থাকাকালে এসএম ফরমানুল ইসলামের ওপর সালমান এফ রহমানের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের জন্য বিপুল অঙ্কের ঋণ ও বিনিয়োগ সুবিধা দেওয়ার চাপ দেওয়া হয়। এর মধ্যে সালমান এফ রহমানের মালিকানাধীন তিস্তা সোলার প্রকল্পের জন্য প্রায় ১৮৫ মিলিয়ন ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল। প্রাতিষ্ঠানিক নীতিমালা ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে ওই ঋণ দেওয়ার প্রস্তাবে রাজি হননি তৎকালীন সিইও ফরমানুল ইসলাম। এরপর তার ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করা হয়।

সালমান এফ রহমানের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের জন্য ২০০ কোটি টাকার জিরো কুপন বন্ডে বিনিয়োগের আগাম নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে মামলায়। এছাড়া বেক্সিমকো গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য জামানত ছাড়াই শত কোটি টাকার ঋণ সুবিধা দেওয়ার চাপ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়। তবে ঋণ তথ্য ব্যুরোর (সিআইবি) প্রতিবেদনে খেলাপি ঋণসহ বিভিন্ন জটিলতা থাকায় তাতেও সম্মতি দেননি বিআইএফএলের তৎকালীন সিইও।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৮ জুলাই বিআইএফএফএলের ৮০তম বোর্ড সভা চলাকালে চাহিদামতো ঋণ ও বিনিয়োগ সুবিধা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় ফরমানুল ইসলামের ওপর চড়াও হন আসামিরা। একপর্যায়ে তার জামার কলার ধরে টানাহিঁচড়ে ও চড়-থাপ্পড় মারা হয়। পরে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাকে জোর করে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করানো হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, এরপর তার অফিসিয়াল মুঠোফোনের সিম বন্ধ করে দেওয়া হয়। ই-মেইল ব্যবহারে বাধা দেওয়া এবং ব্যক্তিগত ব্যবহারের গাড়ির চাবি কেড়ে নেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়।

মামলায় সালমান এফ রহমানসহ মোট ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে আব্দুর রউফ তালুকদার, আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম, সালমান এফ রহমান, মো. মনিরুল ইসলাম খান ও খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জামিনে রয়েছেন।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম