সিল্কসিটির রঙ্গ রসিকতায় যাত্রী দুর্ভোগ, আতঙ্ক
Advertisement
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে দুপুর আড়াইটায় সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনটির ছেড়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু ছেড়ে গেছে সোয়া ৫টায়। এর আগে ট্রেনটি কমলাপুর স্টেশন থেকে তিনবার ছাড়া হয়। প্রথমবার স্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়ার ৫-৭ মিনিটের মধ্যে আবার ফেরত আসে। দ্বিতীয়বার ছাড়ার ১০-১২ মিনিটের মধ্যে স্টেশনে ফেরত আসে। তৃতীয়বার ছাড়ার পর আবার স্টেশনে ফেরত আসে। এটি মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটা থেকে সোয়া ৫টার মধ্যেকার ঘটনা। ট্রেনটির এমন রঙ্গ-রসিকতার কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। কারও কারও মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে দায়িত্বরত এক কর্মকর্তা জানান, ট্রেনটির পাওয়ার কার ও ইঞ্জিনে ত্রুটি রয়েছে। নির্ধারিত সময়ে চালানোর পরিকল্পনা থাকলেও তা সম্ভব হয়নি। ২-৩ বার ট্রেনটি ছাড়া হলেও বিভিন্ন সমস্যার কারণে স্টেশনে ফেরত আনতে হয়েছে। ত্রুটিমুক্ত করতে একেকবার একেক প্ল্যাটফর্মে ফেরত আনতে হয়েছে। এতে যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। এজন্য আমরা দুঃখিত।’
বিকাল সোয়া ৫টায় ট্রেনেটি ছেড়ে গেলেও বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে নির্ধারিত বিরতির চেয়ে বেশি সময় দাঁড়িয়ে থাকে। সেখান থেকে ছাড়ার পর টঙ্গী রেলওয়ে স্টেশন আউটারে ট্রেনটি আবারও দাঁড়িয়ে যায়। বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন সূত্রে জানা যায়, ট্রেনটি নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি সময় ধরে স্টেশনে দাঁড়িয়ে ছিল। যখন টঙ্গী রেলওয়ে স্টেশন আউটারে ট্রেনটি হঠাৎ দাঁড়িয়ে যায়, তখন যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বাড়ে।
ট্রেনের ভেতরে থাকা এসি কোচের এক যাত্রী যুগান্তরকে বলেন, ‘সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনটি তলনামূলক উন্নত। কিন্তু এ ট্রেনের অবস্থা যদি এমন হয়-তাহলে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক তো থাকবেই। তাছাড়া কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে ট্রেনটি তিনবার ছেড়ে আবারও স্টেশনে ফিরে যাওয়া-এটা অবাক করার বিষয়।’ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক জানান, ভয়ানক অবস্থা। মনে হচ্ছিল ট্রেনটি যাত্রীদের নিয়ে রঙ্গ-রসিকতা করছে। এছাড়া টঙ্গী রেলওয়ে স্টেশন আউটারে ট্রেন দাঁড়িয়ে পড়ে। কমলাপুর ও বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন থেকে বিনা টিকিটের যাত্রীরা বিনা বাধায় উঠে পড়েন। এসি বগিতে অবস্থান নেন বিনা টিকিটের যাত্রী এবং সিটবিহীন টিকিট কাটা যাত্রীরা।
ট্রেন পরিচালনায় মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ট্রেন চলাচলে শিডিউল বিপর্যয় এবং অন্যান্য অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এসব নিরসন তো দূরের কথা, প্রতিকার কিংবা রক্ষণাবেক্ষণ ক্রমশই তলানিতে গিয়ে ঠেকছে। বর্তমানে চলা ইঞ্জিনগুলোর প্রায় ৭৭ শতাংশ আয়ুষ্কাল শেষ। এসব ইঞ্জিন দিয়ে ট্রেনের গতি উঠানো সম্ভব হচ্ছে না। উনিশ থেকে বিশ হলেই চলন্ত অবস্থায় ইঞ্জিন দাঁড়িয়ে পড়ছে। কেউ দায় নিচ্ছেন না।
কমলাপুর রেলওয়ে কন্ট্রোল রুম থেকে জানা যায়, সিল্কসিটিসহ অধিকাংশ ট্রেন কমলাপুর থেকে নির্ধারিত সময়ে ছেড়ে গেলেও ইঞ্জিনসহ ট্রেনের নানা ত্রুটির কারণে নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে না। প্রায়ই মাঝপথে ইঞ্জিনে ত্রুটি দেখা দেয়। এতে শিডিউল বিপর্যয় হয়, যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়ে।

