রংপুরে ৪ খুন
বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি নাগরিক কমিটির
Advertisement
রংপুর ব্যুরো
প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রংপুরে শিক্ষক পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছে মহানগর নাগরিক কমিটি। একই সঙ্গে এ ঘটনায় পুলিশের বক্তব্য ঘিরে জনমনে সংশয়ের পাশাপাশি তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সংগঠনটি। শনিবার নগরীর এক কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব আইনজীবী পলাশ কান্তি নাগ এসব কথা জানান।
সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটির সদস্য মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার, বিজয় প্রসাদ তপু, বীথি দাস নন্দিনী, মাহফুজ হোসেন, মসিউর রহমান, সবুজ রায়, মেহেদী হাসান তরুণ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে পলাশ কান্তি নাগ বলেন, শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীকে সপরিবারের খুনের ঘটনায় দুজনকে আসামি হিসেবে গ্রেফতার করে পুলিশ গণমাধ্যমে পুরো হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে যে বক্তব্য উপস্থাপন করে সেটি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন, সংশয় এবং আস্থাহীনতার জন্ম হয়েছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডসহ দেশে সংঘটিত প্রতিটি হত্যার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সঠিক তদন্ত প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতি অপরাধীদের বেপরোয়া করে তুলছে। মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের। মানুষ স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চায়। শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তার পরিবারের ৪ খুনের ঘটনার প্রকৃত রহস্য উšে§াচিত হওয়া জরুরি। এজন্য বিচার বিভাগীয় তদন্ত করতে হবে। যাতে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের পাশাপাশি জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি এবং হত্যাকাণ্ডের ধরন বিবেচনায় এ ঘটনায় বিশেষ কোনো গোষ্ঠীর হাত আছে কি না, তা কি গভীরভাবে খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই দিকটি পুরো তদন্তের বাইরে রাখার পেছনে কোনো উদ্দেশ্য আছে কি না, সেই প্রশ্নও এখন বড় হয়ে উঠছে। পুলিশি হেফাজতে থাকা বা তদন্তাধীন স্থান থেকে আলামত নষ্ট বা গায়েব করার অভিযোগটি সত্য হলে নিরপেক্ষ বিচার পাওয়া কীভাবে সম্ভব? একটি পরিবারকে ঠাণ্ডা মাথায় খুন করার এই ঘটনায় অগণিত যৌক্তিক অসঙ্গতি রয়েছে, যা প্রশাসনের বয়ানের আড়ালে ঢাকা পড়ে যাচ্ছে বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।
আসামিদের আইনি সহায়তা না দেওয়ার ঘোষণা : এদিকে গণপতি চক্রবর্তীকে সপরিবারে হত্যার ঘটনায় আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে রংপুর জেলা আইনজীবী সমিতি। একই সঙ্গে নিহত পরিবারের পক্ষে সব ধরনের আইনি সহায়তা দেওয়ারও ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি। শনিবার রংপুর জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফতাব উদ্দিন। তিনি বলেন, আইনজীবী সমিতির সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করেই একই পরিবারের চার সদস্য হত্যার ঘটনায় আসামিদের পক্ষে আইনি লড়াই না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে থেকে তাদের সব ধরনের আইনি সহায়তা দেওয়া হবে। সংবাদ সম্মেলনে রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন নবী ডন, অ্যাডভোকেট সাহেদ কামাল ইবনে খতিব, অ্যাডভোকেট কাওছার আলীসহ আইনজীবী সমিতির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার দাবিতে মানববন্ধন : নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, রংপুরে শিক্ষককে সপরিবারে হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচারের দাবি এবং দেশব্যাপী ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ওপর আক্রমণকারী উগ্রবাদী গোষ্ঠীকে আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের নেতাকর্মীরা। শনিবার নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি মনি সুপান্তর। সাধারণ সম্পাদক দিনা তাজরীনের সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি, কবি সাংবাদিক হালিম আজাদ, শিশু সংগঠক রথীন চক্রবর্তী, সিপিবির জেলা সভাপতি শিবনাথ চক্রবর্তী, সংগঠনের উপদেষ্টা ভবানী শংকর রায়, প্রদীপ ঘোষ বাবু, নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল হক দীপু, বাসদের জেলা সদস্য সচিব আবু নাইম খান বিপ্লব, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা সভাপতি মাহমুদ হোসেন, শিল্পী অমল আকাশ ও সামাজিক সংগঠন সমমনার উপদেষ্টা দুলাল সাহা। অনুষ্ঠানে বক্তারা গণপতি চক্রবর্তীকে সপরিবারে হত্যার দ্রুত ও সঠিক বিচার এবং ধর্মীয় উগ্রবাদীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
