Logo
Logo
×
   

Advertisement

শেষ পাতা

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিজিএমইএ প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ

জ্বালানি সংকটে অর্ডার হাতছাড়ার ঝুঁকি

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

জ্বালানি সংকটে অর্ডার হাতছাড়ার ঝুঁকি

বঙ্গভবনে বুধবার রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎ শেষে ফটোসেশনে অংশ নেয় -পিআইডি

Advertisement

পর্যাপ্ত গ্যাসের অভাবে সিংহভাগ পোশাক কারখানা সক্ষমতার অর্ধেকেরও কম উৎপাদনে বাধ্য হচ্ছে, যা রপ্তানি অর্ডার হাতছাড়া হওয়ার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এ অবস্থায় দ্রুততম সময়ে নতুন ভাসমান স্টোরেজ ইউনিট (এফএসআরইউ) স্থাপন, জ্বালানির মূল্য স্থিতিশীল রাখা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি কারখানায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস সংযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)।

বুধবার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বিজিএমইএ-এর একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করে। বৈঠকে বিজিএমইএ প্রতিনিধিদল জ্বালানি সংকটসহ পোশাকশিল্পের ৪ ধরনের চ্যালেঞ্জ এবং তা উত্তরণে ৬টি সুপারিশ প্রদান করে। বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলে অন্যদের মধ্যে ছিলেন সিনিয়র সহসভাপতি ইনামুল হক খান, সহসভাপতি রেজোয়ান সেলিম, সহসভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান, সহসভাপতি ভিদিয়া অমৃত খান, সহসভাপতি শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী, সহসভাপতি মোহাম্মদ রফিক চৌধুরী এবং পরিচালক সুমাইয়া ইসলাম রোজালিন।

বৈঠকে বিজিএমইএ প্রতিনিধিদল পোশাকশিল্পে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান এবং পোশাকশিল্পকে হরতালের আওতামুক্ত রাখতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে পোশাক খাতের বর্তমান পরিস্থিতি, উদীয়মান চ্যালেঞ্জ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ়করণসহ দেশীয় শিল্প সুরক্ষার বিভিন্ন নীতিগত বিষয়ে আলোচনা হয়।

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম বিজিএমইএ প্রতিনিধিদলের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং পোশাকশিল্পকে জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ‘মেরুদণ্ড’ হিসাবে অভিহিত করেন। এ সময় রাষ্ট্রপতি বলেন, সাময়িক এ প্রতিকূলতা কাটিয়ে উঠে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের শীর্ষ অবস্থান বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। এ লক্ষ্যে শিল্পের টেকসই বিকাশ ও সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট সরকারি মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহযোগিতা প্রদানের বিষয়ে আশ্বাস দেন তিনি।

বৈঠকে বিজিএমইএ প্রতিনিধিদলের সদস্যরা জানান, পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহের অভাবে সিংহভাগ কারখানা সক্ষমতার অর্ধেকেরও কম উৎপাদন করতে বাধ্য হচ্ছে, যা রপ্তানি অর্ডার হাতছাড়া হওয়ার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। পাশাপাশি জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি, ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহার ও মজুরি সমন্বয়ে ৩ বছরে উৎপাদন খরচ প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। বৈশ্বিক কারণে রপ্তানি কমায় বিনিয়োগেও মন্দা দেখা যাচ্ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পোশাক রপ্তানি ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাইয়ে ১ দশমিক ৯২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এ কারণে মূলধনি যন্ত্রপাতির আমদানি কমে যাওয়ায় নতুন বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়েছে। উচ্চ ব্যয় ও অর্ডার সংকটের মুখোমুখি হয়ে ৩ বছরে প্রায় ৪০০টি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে, যা কর্মসংস্থানের জন্য চরম উদ্বেগজনক।

বিদ্যমান সংকট থেকে উত্তরণে বিজিএমইএ ৬টি সুপারিশ করেছে। এগুলো হচ্ছে-জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে দ্রুততম সময়ে অতিরিক্ত ২টি এফএসআরইউ স্থাপনের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানো, দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি মূল্য স্থিতিশীল রাখা ও আমদানি পর্যায়ে সব শুল্ক-কর প্রত্যাহার করা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (১৫০-৫০০ কেজি বয়লারবিশিষ্ট) কারখানায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস সংযোগ দেওয়া এবং পরিবেশবান্ধব সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে দীর্ঘমেয়াদে স্বল্প সুদে ঋণ সুবিধা দেওয়া। পাশাপাশি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে দ্রুত বাস্তবায়ন করা, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাময়িকভাবে বর্ধিত কার্গো শেড নির্মাণ করা এবং বে-টার্মিনাল ও মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দরের কাজ দ্রুত শেষ করা। এছাড়া ঋণের সুদের হার হ্রাস করার সুপারিশ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি পোশাক খাতের জন্য বিশেষায়িত ‘পোস্ট-শিপমেন্ট ফাইন্যান্সিং স্কিম’ প্রণয়ন এবং জিটিএফ ও টিডিএফ তহবিলে অর্থ বরাদ্দ বৃদ্ধি করার কথা বলা হয়। এছাড়া ব্যবসা সহজ করতে কাস্টমস বন্ড অডিট প্রক্রিয়া জটিলতামুক্ত ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া এবং পোশাক শিল্পের কাঁচামাল দ্রুত সরবরাহের স্বার্থে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে সুতা আমদানি প্রক্রিয়া পুনরায় চালুর সুপারিশ করে বিজিএমইএ।

এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী বাণিজ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে দ্রুততম সময়ে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনে কূটনৈতিক প্রয়াস জোরদার করা এবং প্রধান বাণিজ্য অংশীদার দেশ ও অঞ্চলগুলোর সঙ্গে এফটিএ, পিটিএ এবং ইপিএ সম্পাদনে দ্রুত ও কৌশলগত কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করা। শ্রমিকদের কল্যাণে গাজীপুরে আধুনিক হাসপাতাল ও কল্যাণ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য দ্রুত জমি বরাদ্দ দান এবং ঝুট ব্যবসাকে প্রাতিষ্ঠানিক ও আনুষ্ঠানিক রূপ দিতে সময়োপযোগী নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে বিজিএমইএ।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম