সড়কে মেগা পরিবর্তন চায় সরকার
২২৪ কিমি. এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের চিন্তা
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত প্রায় ২২৪ কিলোমিটার মহাসড়কের ওপর দিয়ে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে করার চিন্তাভাবনা করছে সরকার। এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের অর্থনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক করিডরটি বদলে যাবে। একই সঙ্গে দেশের সাতটি প্রধান মহাসড়ক চার থেকে ছয় লেনে উন্নীত ও জেলা মহাসড়ক ১৮ থেকে ২৪ ফুটে প্রশস্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। কোথাও যানবাহনের চাপ ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব বেশি হলে সড়ক হতে পারে ৩৪ ফুট পর্যন্ত। ২০২৯ সালের জুনের মধ্যে এসব উন্নয়নকাজের বড় অংশ বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। গত ১২ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের এক সভায় দেশের সড়ক যোগাযোগব্যবস্থার ভবিষ্যৎ রূপরেখা বাস্তবায়নে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ‘সংসদ-সদস্যদের প্রতিশ্রুত ও প্রত্যাশিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন সমন্বয় সেল’র সভার কার্যবিবরণীতে এসব বিষয় উঠে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের ওই বৈঠকে উপস্থিত একজন পদস্থ কর্মকর্তা বিষয়টি যুগান্তরকে নিশ্চিত করেন।
জানা গেছে, গত ২৪ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার-১ ও সমন্বয় সেলের সদস্য সচিব মো. উজ্জল হোসেন স্বাক্ষরিত চিঠিতে সড়ক-মহাসড়ক উন্নয়নসংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগের সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়। সরকারের এই বৃহৎ পরিকল্পনার সময়সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৯ সালের জুনের মধ্যে যেসব উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করা সম্ভব, সেগুলো চিহ্নিত করে পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়। বড় বা মেগা প্রকল্পে অর্থায়নের চাপ কমাতে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) এবং বৈদেশিক উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থায়ন নেওয়ার কৌশলও নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানা যায়। তবে জেলা ও আঞ্চলিক সড়কের উন্নয়নকাজ সরকারি অর্থায়ন বা জিওবি’র মাধ্যমে করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
সূত্র জানায়, সরকারের পরিকল্পনার অগ্রাধিকার কেন্দ্রে রয়েছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক। দেশের আমদানি-রপ্তানি, শিল্প-বাণিজ্য ও বন্দরকেন্দ্রিক অর্থনীতির বড় অংশ এই করিডরের ওপর নির্ভরশীল। ক্রমবর্ধমান যানবাহনের চাপ সামাল দিতেই পুরো ২২৪ কিলোমিটারকে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে রূপান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বর্তমানে চালু লেনগুলো নিয়মিত সংস্কার ও মেরামতের মাধ্যমে সর্বাধিক সচল রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যে সড়ক যোগাযোগের সক্ষমতা যেমন বাড়বে, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ এই অর্থনৈতিক করিডরে যানজট ও চলাচলজনিত প্রতিবন্ধকতা কমানোর সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডরের পাশাপাশি জেলা পর্যায়ের সড়কেও পরিবর্তন আনার যে সিদ্ধান্ত হয়েছে তাতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সড়কগুলো ১৮ থেকে ২৪ ফুটে উন্নীত করা হবে। তবে ট্রাফিক ভলিউম ও এলাকার অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনায় যথাযথ সমীক্ষার ভিত্তিতে কোনো কোনো সড়ক ১০ দশমিক ৩ মিটার বা ৩৪ ফুট পর্যন্ত প্রশস্ত করা হতে পারে।
এছাড়া দেশের আরও সাতটি প্রধান জাতীয় মহাসড়কের যেসব অংশে উন্নয়ন প্রকল্প চলমান, সেগুলো দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর যেসব মহাসড়কে এখনো সম্প্রসারণ বা উন্নয়নকাজ শুরু হয়নি, সেগুলো অগ্রাধিকার দিয়ে চার থেকে ছয় লেনে উন্নীত করার কার্যক্রম নেওয়া হবে।
সভায় নরসিংদীর সড়ক প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত জটিলতা নিয়েও বিশেষ আলোচনা হয়। ভবিষ্যতে কোনো প্রকল্পে ভূমি অধিগ্রহণে সমস্যা দেখা দিলে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা বা সভার মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের অনুশাসন দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ২০২৯ সালের জুনের মধ্যে যেসব উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন সম্ভব সেগুলো চিহ্নিত করে পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগকে এ পরিকল্পনা উপস্থাপন করতে বলা হয়েছে। সরকারের এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, চার থেকে ছয় লেনের জাতীয় মহাসড়ক এবং প্রশস্ত জেলা সড়কের সমন্বয়ে দেশের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন আসতে পারে।

