Logo
Logo
×
   

শেষ পাতা

ইবিতে আহত দুই

শিবির নেতাকে ছাত্রদল নেতার থাপ্পড়, সংঘর্ষ

Icon

ইবি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

শিবির নেতাকে ছাত্রদল নেতার থাপ্পড়, সংঘর্ষ

শিবির নেতাকে ছাত্রদল নেতার থাপ্পড়ের ঘটনায় বহিরাগতদের অস্ত্রের মহড়া। শনিবার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে -যুগান্তর

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ছাত্রশিবিরের এক নেতাকে ছাত্রদল নেতার থাপ্পড়ের ঘটনায় দুই সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতি ও সংঘর্ষ হয়েছে। শনিবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে শহীদ জিয়াউর রহমান হলে এ ঘটনা ঘটে। পরে ছাত্রদলের নেতাকর্মী ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেয়। এ সময় স্থানীয় দুই জামায়াতকর্মীকে মারধর করা হয়। আর লালন শাহ হল ও আজিজ হল গেটে লাঠিসোটা নিয়ে অবস্থান নেয় স্থানীয় জামায়াত ও শিবিরের কর্মীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনার পর রাত ৮টায় প্রক্টর অফিসে বৈঠকে ছাত্রদল ও শিবির সমঝোতায় সম্মত হয়েছে।

অভিযুক্ত আলীনুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। আর থাপ্পড়ের শিকার কাজী জুহায়ের জিয়া হল শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি।

জানা যায়, শনিবার দুপুরে হলের করিডোর দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ জুহায়েরকে থাপ্পড় মারেন আলীনুর। তবে তাৎক্ষণিকভাবে এর কারণ জানা যায়নি।

এ ঘটনার পর শিবিরের নেতাকর্মী আলীনুরের কক্ষে হামলা চালায়। পরে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা তাদের সরিয়ে দিয়ে উভয়পক্ষকে নিয়ে হল অফিসে আলোচনায় বসেন। সেখানে জুহায়ের উপস্থিত হলে প্রক্টরিয়াল বডি আলীনুরকে আনতে কক্ষে যায়। তবে এতে বাধা দেয় শিবির। এ সময় পুলিশের গাড়িতে হামলা করে শিবিরের কর্মীরা। পরে ছাত্রদলের নেতারা সেখানে চলে যান।

বিকাল ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করে ছাত্রদল। তাদের কয়েকজনের হাতে সেসময় দেশীয় অস্ত্র দেখা হয়। আর লাঠিসোটা হাতে জিয়া মোড়, লালন শাহ ও আজিজ হল গেটে অবস্থান নেয় শিবির ও স্থানীয় জামায়াতের নেতাকর্মীরা। সাড়ে চারটার দিকে ছাত্রদল প্রধান ফটক খুলে দেয়। সেখানে হামলায় শহীদুল ও বাবুল নামে দুই জামায়াতকর্মী আহত হয়েছেন। সন্ধ্যার পর ছাত্রদল পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে বহিরাগতদের নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে।

কাজী জুহায়ের বলেন, আমার পায়ের লিগামেন্টে সমস্যার কারণে ক্র্যাচে ভর করে যাচ্ছিলাম। এ সময় আলীনুর আচমকা এসে আমাকে থাপ্পড় মারেন।

অভিযুক্ত আলীনুর বলেন, জুহায়ের আমাকে গালি দিলে আমি তাকে থাপ্পড় দেই। তার সঙ্গে আমার কোনো বিরোধ ছিল না।

ছাত্রশিবির সভাপতি ইউসুফ আলী বলেন, আমাদের হল সেক্রেটারির ওপর ছাত্রদল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হামলা করেছে। আমরা এর শাস্তি চাই।

শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুদ রুমী মিথুন বলেন, ঘটনা জানতে পেরে আমরা সমাধানের উদ্দেশ্যে কর্তৃপক্ষকে নিয়ে শিবিরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বসি। তবে তারা সমাধানের পথে না গিয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। পরে আমরা সেখান থেকে চলে আসি। রাতে প্রক্টর অফিসে উভয়পক্ষের আলোচনায় তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রশাসন তদন্ত করে বিষয়টি দেখবে।

কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ বলেন, এখানে দুপক্ষের মাঝে একটা ইস্যুকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। উভয়পক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেছি। প্রক্টর অফিসে দীর্ঘ সময় আলোচনার পর রাত ৮টায় উভয়পক্ষ সমঝোতায় আসে।

ওই বৈঠকের পর উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান বলেন, হল প্রশাসনকে তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছি। এছাড়া প্রশাসনও তদন্ত কমিটি করবে। তদন্ত অনুযায়ী প্রশাসন দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে ক্যাম্পাসে যেন কোনো বহিরাগত প্রবেশ করতে না পারে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম