Logo
Logo
×
   

শেষ পাতা

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সচিব ও তিন মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রীর পিএস নেই ছয় মাস

আমিরুল ইসলাম

আমিরুল ইসলাম

প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সচিব ও তিন মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রীর পিএস নেই ছয় মাস

অন্তর্বর্তী সরকারের ছয় মাস অর্থাৎ ১৮০ দিন ইতোমধ্যে অতিবাহিত হয়েছে। এ সময়ে সরকার কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ, কৃষিকার্ড, খাল খনন, ফ্যামিলি কার্ড ও চিকিৎসা কার্ডসহ নানা কল্যাণমূলক কাজ হাতে নিয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ভেঙে পড়া প্রশাসনও নতুন উদ্যমে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। কেন্দ্র থেকে মাঠ প্রশাসন পর্যন্ত মানবসেবা কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। তবে দীর্ঘ এ সময়ে এখনো প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব নিয়োগ হয়নি। সরকারের দুই মন্ত্রী ও একজন প্রতিমন্ত্রীও এখনো একান্ত সচিব (পিএস) নেননি।

বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের কেন্দ্র থেকে অন্দরমহলে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। কেউ বলছেন, সরকার বিএনপিপন্থি যোগ্য ও বিশ্বস্ত কর্মকর্তা খুঁজে পাচ্ছে না। আবার কারও মতে, কর্মকর্তাদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগের ঘাটতি রয়েছে।

তবে বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই দেখছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আবদুল বারী। ৩১ আগস্ট নিজ দপ্তরে যুগান্তরকে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব নিয়োগ হয়নি, তাতে কী হয়েছে। ১৮০ দিনে সচিব নিয়োগ হয়নি, এখন হবে। তাড়াহুড়ার কী আছে? তাছাড়া মুখ্য সচিব প্রধানমন্ত্রীর যাবতীয় কাজ সম্পাদন করেন।’

তিনি বলেন, ‘এই সময়ের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সচিব নিয়োগ দিতেই হবে-এমন কোনো কথা নেই। এখন হয়তো দ্রুতই নিয়োগ হয়ে যাবে।’ পদটি বিলুপ্ত হচ্ছে কি না জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগে সবকিছু মুখ্য সচিবই দেখভাল করতেন। বিগত সরকারের সময় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। ‘এগুলো দেশের সমস্যা না। একটি অকার্যকর অবস্থা থেকে একটু উঠে দাঁড়াতে দিন। সব ঠিক হয়ে যাবে।’

সরকারের দুই মন্ত্রী ও একজন প্রতিমন্ত্রীর পিএস না নেওয়ার বিষয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভূমিমন্ত্রী ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী গত ছয় মাসেও কোনো একান্ত সচিব না নেওয়ায় আইনের ব্যত্যয় হয়নি। কারণ ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী বর্তমান স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান কোনো পিএস নেননি। প্রতিমন্ত্রী জানান, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী এবারও হয়তো পিএস নেবেন না।

পিএস ছাড়া দায়িত্ব পালনে পরবর্তী সময়ে কোনো সমস্যা বা আইনগত জটিলতা হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কোনো সমস্যা হওয়ার কথা না।’ তিনি আরও বলেন, ‘মানুষের জীবনে দরকার সততা। সততা যার জীবনে নেই, সে সব জায়গায় ঝামেলা সৃষ্টি করে। আসল হলো সততা।’

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব ছিলেন মো. সাইফুল্লাহ পান্না। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। জানা গেছে, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. আবদুল মঈন খান কোনো পিএস নেননি।

সাবেক সচিব একেএম আব্দুল আউয়াল মজুমদার যুগান্তরকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পছন্দের বাইরে কাউকে ওই পদে সচিব হিসাবে নেওয়া হবে না। তিনি সময় নিয়ে উপযুক্ত কাউকে খুঁজছেন। পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক নিয়োগ দেবেন। তার মতে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সচিব না থাকা দোষের কিছু নয়।

সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ ফিরোজ মিয়া বলেন, সচিবের পদ সৃষ্টি হয়েছে নির্দিষ্ট কাজের জন্য। একটি মন্ত্রণালয়ের যাবতীয় কাজে তিনি নজর রাখবেন এবং মন্ত্রীকে প্রয়োজনীয় আইনি পরামর্শ দেবেন। ফলে কোনো মন্ত্রণালয়ে সচিবের অনুপস্থিতি কাজে স্থবিরতা সৃষ্টি করতে পারে।

তিনি বলেন, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা পিএস ছাড়া দায়িত্ব চালাতে পারলে ভালো। তবে কোথাও আইনগতভাবে আটকে যেতে পারেন। ব্যস্ততার কারণে কোনো সময় ফাইলে ভুল করে স্বাক্ষরও হতে পারে। এ ক্ষেত্রে পিএস আইনি সহায়তা দিতে পারেন। সরাসরি পিএস নিয়োগ না দিয়ে উপসচিব প্রশাসন কিংবা সিনিয়র সহকারী সচিব প্রশাসনকেও মন্ত্রীর ফাইল-ফোল্ডার দেখভালের দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। তবে স্থায়ীভাবে পিএস নিয়োগ দেওয়াই ভালো।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম