হামলার জবাবে কঠিন আঘাতের হুঁশিয়ারি ইরানের
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইরান জানিয়েছে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় তারা প্রচেষ্টা জোরদার করবে। সেইসঙ্গে দেশটির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের ওপর আরও হামলা হলে তার জবাবে ‘কঠিনতর আঘাত’ হানা হবে।
রোববার বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলার ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও সংঘাতটি বর্তমানে অচলাবস্থার মধ্যে রয়েছে। শান্তি প্রক্রিয়াকে পুনরায় সচল করার কূটনৈতিক প্রচেষ্টায়ও খুব একটা অগ্রগতি নেই। গত আগস্টের বড় একটি সময় সামরিক কার্যক্রম বন্ধ থাকার পর সম্প্রতি আবারও পালটাপালটি হামলা শুরু হয়। সর্বশেষ যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি মার্কিন নৌবাহিনীর দুটি জাহাজের ওপর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করার জবাবে তারা শনিবার ইরানের তিনটি ট্যাংকারে আঘাত হেনেছে।
এ হামলার ঘটনার পর রোববার ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ক্ষেত্রে খেলার নিয়ম যে বদলে গেছে-তা যুক্তরাষ্ট্রের বোঝা উচিত। এ উপলব্ধিটা যেন ‘খুব দেরি হয়ে যাওয়ার আগেই’ আসে। নিজের টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশিত এক ভাষণে তিনি বলেন, ‘এখন থেকে ইরানের স্বার্থ ও নিরাপত্তার ওপর যে কোনো হামলার জবাবে আরও দ্রুত, আরও কঠোর এবং আরও যন্ত্রণাদায়ক পালটা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তেহরান প্রমাণ করেছে, প্রতিবেশী দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় আঘাত হানার এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার সক্ষমতা তাদের এখনো রয়েছে। সংঘাত শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ এ প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হতো।
রোববার এক ভাষণে গালিবাফ বলেন, সামরিক লড়াইয়ের পাশাপাশি ইরানের জন্য এখন প্রধান লড়াই হলো-উৎপাদন ও জনগণের জীবন-জীবিকা রক্ষা করা। তিনি মুদ্রার মানের তীব্র ওঠানামা, মুদ্রাস্ফীতি, বেকারত্ব এবং বাজার ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলোকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসাবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ইরানিরা হয়তো কষ্ট সহ্য করতে পারে, কিন্তু অব্যবস্থাপনা বা নিষ্ক্রিয়তা মেনে নেন না। তাই তারা সরকারের কাছ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেন।
রোববার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের অর্থনীতি বিষয়কমন্ত্রী আলি মাদানিজাদেহ জানান, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপের জবাবে তেহরান সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনা করছে। তিনি নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটির নীতি পরিবর্তনের সম্ভাবনাকে নাকচ করে দেন। ইরানের অর্থনীতি মন্ত্রণালয়ের উপ-কর্মকর্তা মুর্তজা জামানিয়ানের উদ্ধৃতি দিয়ে তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, মন্ত্রণালয়ের ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধবিষয়ক সদর দপ্তর’ যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট সমস্যা সমাধানে তাদের কার্যক্রম জোরদার করছে।
যুদ্ধ আরও ছয় মাস চলতে পারে : সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্যানেটা
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী লিওন প্যানেটা সতর্ক করেছেন, ইরানের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ সংঘাত বা যুদ্ধ আরও ছয় মাস ধরে চলতে পারে। কারণ এ বিতর্কিত পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার কোনো উপায় খুঁজে পেতে হিমশিম খাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্যানেটা বলেন, ছয় মাসেরও বেশি সময় আগে ট্রাম্পের শুরু করা এ সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি ‘অন্তহীন যুদ্ধে’ পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, যার কোনো সুনির্দিষ্ট সমাপ্তি দেখা যাচ্ছে না।
বারাক ওবামার আমলে সিআইএর পরিচালকের দায়িত্ব পালন করা প্যানেটা বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যে ভয়াবহ অচলাবস্থায় আটকা পড়েছে, তা কারও অজানা নয়; আর এই যুদ্ধ অবসানের জন্য হাতে খুব কম বিকল্পই রয়েছে।’ তিনি ইঙ্গিত দেন, ইরাক ও আফগানিস্তানের মতোই মধ্যপ্রাচ্যে এটি আরেকটি ‘ব্যর্থ যুদ্ধে’ পরিণত হওয়ার পথে রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমার ধারণা, কোনো সমাধান ছাড়াই এই যুদ্ধ আরও ছয় মাস চলতে থাকবে।’
যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীবিষয়ক সচিব ড্যান ড্রিসকলের আকস্মিক পদত্যাগের কয়েক দিন পর প্যানেটা এসব কথা বলেন। প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের সঙ্গে ধারাবাহিক বরখাস্তের ঘটনা নিয়ে সৃষ্ট উত্তেজনার জেরে সৃষ্ট দ্বন্দ্বের মধ্যেই ড্রিসকল পদত্যাগ করেন।
২০১১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা প্যানেটা আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সদস্যরা এমন একসময়ে যুদ্ধে যাচ্ছেন, যখন পেন্টাগন ও এর কমান্ড কাঠামোতে চরম বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে। এতে এমন একটি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে যেন মনে হচ্ছে দায়িত্বে বা নেতৃত্বে কেউ নেই।
