২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ মৃত্যু
হামের টিকার কার্যকারিতার জরিপ চলতি সপ্তাহে
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দেশে হামের বড় ধরনের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে জরুরি ভিত্তিতে চালানো গণ-টিকাদান কর্মসূচির কার্যকারিতা মূল্যায়নে জরিপ পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। হাম-রুবেলার (এমআর) টিকা নেওয়ার পর শিশুদের শরীরে পর্যাপ্ত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (অ্যান্টিবডি) তৈরি হয়েছে কিনা, কতটুকু মাত্রায় তৈরি হয়েছে, তা যাচাই করতে চলতি সপ্তাহেই এ জরিপ চালানো হবে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।
সোমবার প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী এসএম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট (আইপিএইচ)-কে জরিপটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আইপিএইচ জরিপ পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর প্রতিবেদন পেলেই পরিস্থিতি সম্পর্কে জানা যাবে।
আইপিএইচ-এর পরিচালক ডা. সৈয়দ আবু আহমদ শফি যুগান্তরকে বলেন, তারা ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের জরিপের জন্য প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। এই সপ্তাহে নমুনা সংগ্রহ শুরু হবে। তিন মাসের মধ্যে নমুনাগুলো বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হবে। তিনি আরও বলেন, আইপিএইচ ল্যাবরেটরিতে ৩ হাজার নমুনা পরীক্ষা করা হবে। এক্ষেত্রে প্রাদুর্ভাবের শুরুতে হামের হটস্পট হিসাবে চিহ্নিত ৩০টি উপজেলায় এই জরিপ চালানো হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের মার্চের মাঝামাঝি হামের প্রাদুর্ভাব শুরুর পর প্রথমে ৫ এপ্রিল ঝুঁকিপূর্ণ ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলা ও পৌরসভায় বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। পরে ৮ এপ্রিল ঢাকার দুটি এবং বরিশাল ও ময়মনসিংহ চার সিটি করপোরেশন এবং ২০ এপ্রিল থেকে তা সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হয়।
চিকিৎসকরা বলেছেন, তারা এমন রোগী পাচ্ছেন যারা টিকা নেননি এবং কেউ কেউ টিকা নেওয়ার পরেও সংক্রমিত হচ্ছেন। কিন্তু হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকদের এটি পরীক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দাবি, হামের টিকাদানের আওতা লক্ষ্যমাত্রার ১০৯ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। এদিকে, আগস্ট মাসেও হামে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার বেশি ছিল। গণ-টিকাদান কর্মসূচি এবং ভিটামিন ‘এ’ কর্মসূচির তিন মাস পর, আগস্ট মাসে আইপিএইচ-এর অধীনস্থ জাতীয় পোলিও এবং হাম-রুবেলা পরীক্ষাগার তাদের সর্বোচ্চ হাম পরীক্ষার পজিটিভিটি হার ৬৪ দশমিক ৬ শতাংশ রেকর্ড করে। জাতীয় পোলিও এবং হাম-রুবেলা পরীক্ষাগারের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে হামের গড় পজিটিভিটি হার ছিল ৫৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পজিটিভিটি হার ৫৯ দশমিক ৯২ শতাংশ মে মাসে রেকর্ড করা হয়েছিল। জুনে এটি কমে ৫১ দশমিক ৫৯ শতাংশ এবং জুলাইয়ে ৪৭ দশমিক ৪২ শতাংশে নেমে আসার পর আগস্টে তা বেড়ে ৬৪ দশমিক ৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, হামের টিকা দেওয়ার এক মাসের মধ্যেই শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। দেরি হলেও এটি একটি ভালো পদক্ষেপ। টিকার আওতাভুক্তির জরিপও গুরুত্বপূর্ণ। যদিও বিলম্ব হয়েছে, অবশেষে টিকার কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হচ্ছে, যা একটি ভালো বিষয়।
২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ মৃত্যু, হাসপাতালে হাজারের বেশি : এদিকে, রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে তিনজনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তিনজনের মধ্যে দুজনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে; আরেকজন খুলনায়। সরকারের হিসাবে, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে ৮৯৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর বাইরে ১০০ জন মারা গেছেন, যাদের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছিল। সোমবারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় দেশে ৬০ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৪০৩ জন মারা গেছেন ঢাকা বিভাগে। এর পরেই আছে সিলেট বিভাগ, সেখানে মারা গেছেন ১৫৫ জন। এছাড়া রাজশাহীতে ৯২, চট্টগ্রামে ৬৫, বরিশালে ৫৬, ময়মনসিংহে ৭৫, খুলনায় ৩৭ ও রংপুর বিভাগে ১৪ জন মারা গেছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, ২৪ ঘণ্টায় আরও ১ হাজার ১৫৬ জন হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে এসেছেন। তাদের মধ্যে ভর্তি হয় ১ হাজার ১০২ জন। ঢাকা বিভাগে ভর্তি হন ৩৫৬ জন, রাজশাহীতে ৩২, সিলেটে ১৫১, চট্টগ্রামে ২৪৯, বরিশালে ১৩৫, ময়মনসিংহে ৮৬, খুলনায় ৭৯ ও রংপুর বিভাগের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হন ১৪ জন। এ নিয়ে সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ১ লাখ ৪৫ হাজার ২৭০ জন। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৮৩১ জন হাসপাতাল ছেড়েছেন। দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসা রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৩০৪ জন। আর হাম শনাক্ত হয়েছে ১৯ হাজার ৭৫৬ জনের।

