Logo
Logo
×
   

শেষ পাতা

নরসিংদীতে জমি অধিগ্রহণে দুর্নীতি

সত্যতা মিলেছে শনাক্ত হয়নি দায়ীরা

যুগান্তরে সংবাদ প্রকাশের পর

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

সত্যতা মিলেছে শনাক্ত হয়নি দায়ীরা

নরসিংদীতে সাসেক ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণে দুর্নীতি ও অনিয়ম নিয়ে যুগান্তরে প্রকাশিত প্রতিবেদনের সত্যতা পেয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি। তবে অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে কে বা কারা কীভাবে জড়িত ছিলেন, তা সুনির্দিষ্টভাবে শনাক্ত করতে পারেনি কমিটি। প্রায় ৮শ’ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। দায়ী কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে নতুন করে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, যুগান্তরে প্রকাশিত প্রতিবেদনের পর মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটি সরেজমিন অনুসন্ধান, সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনা ও বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বক্তব্য নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে কমিটি এই প্রতিবেদন জমা দেয়।

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এএসএম সালেহ আহমেদ। এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, যুগান্তরে যেসব অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছিল, তদন্তে সেগুলোর প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে কোন কোন কর্মকর্তা বা ব্যক্তি কীভাবে এসব অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িত ছিলেন, তা চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্টদের দায় নির্ধারণের বিষয়টি এখন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ওপর বর্তেছে। প্রয়োজন হলে দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে নতুন করে তদন্ত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের ৩০ এপ্রিলের চিঠিতে দেখা যায়, দৈনিক যুগান্তরে ২৪ এপ্রিল প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে সরেজমিন তদন্তের জন্য তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির আহ্বায়ক করা হয় ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবকে (আইন অনুবিভাগ)। সদস্য ছিলেন ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের পরিচালক এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (মাঠজমি-১); উপসচিবকে সদস্য সচিব করা হয়। তদন্তের পর কমিটি প্রতিবেদন দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এত বড় প্রতিবেদন তৈরি হওয়ার বিষয়টিই অনুসন্ধানের ব্যাপকতার ইঙ্গিত দেয়। কিন্তু অভিযোগের প্রমাণ মিললেও কার দায় কতটুকু-এ প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট উত্তর প্রতিবেদনে না থাকায় এখন পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

সূত্র বলছে, জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় একাধিক দপ্তর ও কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা থাকে। ফলে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলেও প্রত্যেকের ভূমিকা আলাদাভাবে নির্ধারণ করা জটিল। তদন্ত কমিটিও মূলত অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও অনিয়মের ধরন অনুসন্ধান করেছে। দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হলে ব্যক্তিভিত্তিক দায় নির্ধারণ জরুরি। এ কারণেই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে নতুন তদন্ত বা বিশেষ অনুসন্ধানের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম