প্রধানমন্ত্রী যথাসময়ে ভারত সফর করবেন: দীনেশ ত্রিবেদী
কূটনৈতিক প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে নতুন আলোচনার প্রয়োজন নেই। তিনি যথাসময়ে ভারত সফর করবেন। সোমবার সচিবালয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টুর সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। এ সময় পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, অর্থনীতি ও বাণিজ্যিক ইস্যুর পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে পরিবেশ বিষয়েও অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু রয়েছে। পরিবেশ সুরক্ষায় বাংলাদেশ ও ভারত একসঙ্গে কাজ করবে। দুই দেশের জনগণের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
সাক্ষাৎকালে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকের আওতায় দুই দেশের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের পরবর্তী সভা এবং রয়েল বেঙ্গল টাইগার সংরক্ষণে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রটোকলের ধারাবাহিকতায় পরবর্তী দ্বিপক্ষীয় সভা বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়ে দুপক্ষ একমত পোষণ করে। তবে আন্তঃসীমান্ত এশীয় হাতি সংরক্ষণে পরবর্তী সভা ভারতে অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়াও পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, আন্তঃসীমান্ত পরিবেশগত সমস্যা, কার্বন ক্রেডিট, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস এবং সবুজ অর্থনীতির বিকাশ নিয়েও মতবিনিময় হয়।
পরিবেশমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী হওয়ায় দুই দেশের পরিবেশ ও প্রতিবেশগত স্বার্থও পরস্পরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। জলবায়ু পরিবর্তন, বন্যা, খরা, নদী ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, বায়ুদূষণ এবং জীববৈচিত্র্যের অবক্ষয়ের মতো চ্যালেঞ্জ কোনো একক দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এসব সমস্যা মোকাবিলায় পারস্পরিক আস্থা, তথ্য ও অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং কার্যকর আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে ইতিবাচক ও গঠনমূলক সম্পর্ক এগিয়ে নিতে আগ্রহী। দুই দেশের জনগণের কল্যাণ ও টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে সহযোগিতা আগামী দিনে আরও গভীর হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম সুন্দরবনসহ বাংলাদেশ ও ভারতের অভিন্ন প্রতিবেশগত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে যৌথ উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সুন্দরবন দুই দেশের অভিন্ন প্রাকৃতিক সম্পদ এবং জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় এ ম্যানগ্রোভ বন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা বলয় হিসাবে কাজ করে। সুন্দরবনের প্রতিবেশ ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় গবেষণা, প্রযুক্তি এবং ব্যবস্থাপনা অভিজ্ঞতা বিনিময় আরও বাড়ানো যেতে পারে।
জনপ্রশাসন উপদেষ্টার সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ : প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) মো. ইসমাইল জবিউল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। সোমবার সচিবালয়ে উপদেষ্টার কার্যালয়ে বৈঠকে তারা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নানাদিক নিয়ে মতবিনিময় করেন।
উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত বন্ধুপ্রতিম প্রতিবেশী রাষ্ট্র। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। দুই দেশের সীমান্তে হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনা দুটি দেশের জনগণের মধ্যে বোঝাপড়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি দুটি দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনা এবং গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিতের আহ্বান জানান। এছাড়া তিনি নির্দিষ্ট কোনো দলের সঙ্গে সম্পর্ক না রেখে জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক বাড়ানোর উপর জোর দেন।
সাক্ষাৎকালে হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী দুটি দেশের জনগণের স্বার্থে সম্পর্ক সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন। তিনি ভারতে বাংলাদেশি ইলিশের ব্যাপক চাহিদার কথাও উল্লেখ করেন। দুই দেশের জনপ্রশাসনের মধ্যে প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম পুনরায় চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
