জঙ্গলে ছড়িয়ে ছিল কঙ্কাল পোশাক দেখে শনাক্ত করলেন বাবা
ময়মনসিংহ ব্যুরো ও ফুলপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ময়মনসিংহের ফুলপুরে নিখোঁজের ২৭ দিন পর মো. রাশেদুল ইসলাম (১৯) নামে এক যুবকের মাথার খুলিসহ দেহাবশেষ ও পরিধেয় পোশাক উদ্ধার করেছে পুলিশ। জঙ্গলে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল শরীরের হাড়গোড়, মাথার খুলি। উদ্ধার করা পোশাক দেখে শনাক্ত করেন রাশেদুলের বাবা। এ ঘটনায় অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবি মামলার প্রধান আসামিসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতাররা হলেন-ফুলপুর উপজেলার কুকাইল গ্রামের রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে জসিম উদ্দিন (২৪), একই এলাকার ছাবেদ আলী ওরফে মিঠুর ছেলে রফিক ওরফে রফিদ (২৮) এবং মৃত আ. রহিমের ছেলে মোজাম্মেল হোসেন (২৭)।
পরিবারের সদস্যদের বরাতে পুলিশ জানায়, রাশেদুল ইটভাটায় কাজ করতেন। ইটভাটা বন্ধ থাকায় তিনি বাড়িতে থাকার কারণে স্থানীয় কয়েকজন যুবকের সঙ্গে তার নিয়মিত চলাফেরা শুরু হয়। ১২ আগস্ট রাত ৯টার দিকে স্থানীয় জসিম মিয়া মোবাইল ফোনে রাশেদুলকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। পরদিন সকালে রাশেদুলের মোবাইল থেকে তার বাবার নম্বরে এক নারী কণ্ঠে রাশেদুলকে অপহরণ করা হয়েছে জানিয়ে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। মুক্তিপণের টাকা দিতে দুই ঘণ্টা সময় বেঁধে দেওয়া হয়। পরে কয়েক দফায় মেসেজও পাঠানো হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ঘটনার পরদিনই রাশেদুলের বাবা ফুলপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। পরে ২৫ আগস্ট জসিমকে প্রধান আসামি এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনকে আসামি করে ফুলপুর থানায় অপহরণ মামলা করেন তিনি।
মামলার তদন্তে গোয়েন্দা তথ্য ও ডিজিটাল যোগাযোগের মাধ্যমে ৬ সেপ্টেম্বর প্রধান আসামি জসিম উদ্দিনকে নেত্রকোনার শ্যামগঞ্জ রেলস্টেশন এলাকা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে একই গ্রামের রফিক ওরফে রফিদ ও মোজাম্মেল হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানায়, জসিমের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফুলপুর চন্দ্রপুর গ্রামের গারোর ভিটা এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে জঙ্গলে প্রায় ১০ হাত জায়গাজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা শরীরের বিভিন্ন হাড়, একটি মাথার খুলি এবং পোশাক উদ্ধার করা হয়। পরে উদ্ধার করা পোশাক দেখে লাশ শনাক্ত করেন রাশেদুলের বাবা।
ফুলপুর থানার ওসি ফিরোজ হোসেন বলেন, উদ্ধার করা দেহাবশেষের সুরতহাল প্রস্তুতের জন্য প্রয়োজনীয় আলামত সংরক্ষণের কার্যক্রম চলছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও পরিচয় নিশ্চিত করতে দেহাবশেষ মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়াও চলছে। ডিএনএ পরীক্ষা ও ময়নাতদন্তের পরই বিষয়টি চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
