Logo
Logo
×
   

শেষ পাতা

জাবিতে কার্যক্রম নেই নজরুল চেয়ারের

পুনরায় চালুর প্রতিশ্রুতি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের * জাতীয় কবিকে নিয়ে বড় পরিসরে সাংস্কৃতিক কর্মসূচি দেখা যায় না

Icon

রাশেদুল ইসলাম, জাবি

প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

জাবিতে কার্যক্রম নেই নজরুল চেয়ারের

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) বাংলা বিভাগ ও নাট্যকলা বিভাগে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, গান পড়ানো হলেও সামগ্রিক সাংস্কৃতিক পরিসরে জাতীয় কবির উপস্থিতি নেই। এক সময় দেশের চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘নজরুল চেয়ার’ সৃষ্টি করা হলেও বর্তমানে এই পদে কেউ নেই। তবে এটি পুনরায় চালুর বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. খালেদ হোসাইন যুগান্তরকে বলেন, ‘জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একজন কবি ও সাহিত্যিক। ধর্মীয় ও সামাজিক দুই দিক থেকেই তার সাহিত্য ও চিন্তাকে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। নজরুল ছিলেন প্রতিবাদী। তার লেখার গভীরতা ও মৌলিকতা রয়েছে। নজরুলের সাহিত্য পাঠের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা কেবল কাব্যিক বৈশিষ্ট্যই নয়, বরং তখনকার সামাজিক বাস্তবতা ও মানবতাবাদী প্রতিবাদী চেতনাও গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পারে। তিনি আরও বলেন, আমাদের বিভাগে নজরুলকে যথেষ্ট গুরুত্ব ও সম্মানের সঙ্গে পড়ানো হয়। অনেক আগে আমাদের বিভাগে নজরুল চেয়ার ছিল। পরে সেটি আর নবায়ন করা হয়নি। এখন চেয়ারটির কোনো কার্যক্রম নেই।

জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে নজরুলের কবিতা, উপন্যাস ও প্রবন্ধ নিয়মিত পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সেমিনার লাইব্রেরিতেও তার ওপর পর্যাপ্ত বইপত্র রয়েছে। তবে শ্রেণিকক্ষের চার দেওয়ালের বাইরে নিয়মিত গবেষণা, পাঠচক্র কিংবা ধারাবাহিক সাংস্কৃতিক আয়োজনের ক্ষেত্রটি এখানে বেশ সংকুচিত।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় দেশের একটি অন্যতম প্রাণবন্ত ও ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক ক্যাম্পাস হিসাবে পরিচিত। এখানকার সাংস্কৃতিক সংগঠন, নাট্যচর্চা এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। ক্যাম্পাসের সাংস্কৃতিক রাজনীতিতেও নানা সময়ে বিভিন্ন মতাদর্শ ও সাহিত্যিক-সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের জোরালো প্রভাব দেখা গেছে। অথচ এই সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক পরিসরেও নজরুলের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে অনেকটাই কম। নজরুলের অসাম্প্রদায়িকতা, শোষণবিরোধী চেতনা ও বিদ্রোহ নিয়ে নিয়মিত পাঠচক্র, মুক্ত আলোচনা বা বড় পরিসরের সাংস্কৃতিক কর্মসূচি এখানে সচরাচর দেখা যায় না।

এদিকে, ক্যাম্পাসে জাতীয় কবিকে নিয়ে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো আলাদা কোনো স্বতন্ত্র গবেষণা কেন্দ্র বা স্থায়ী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো না থাকায় তার সাহিত্য ও দর্শন নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণার সুযোগও সীমিত। ব্যক্তিগত আগ্রহ কিংবা কিছু বিভাগীয় উদ্যোগে কালেভদ্রে সেমিনার বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হলেও সেগুলো নিয়মিত প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেনি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, জাবির এই বর্ণিল সাংস্কৃতিক পরিসরে নজরুলকে সগৌরবে ফিরিয়ে আনতে হবে। এজন্য কেবল পাঠ্যসূচির গণ্ডিতে আটকে না রেখে, নিয়মিত পাঠচক্র, সেমিনার, আবৃত্তি ও সংগীতানুষ্ঠানের পাশাপাশি তার রাজনৈতিক ও সামাজিক চিন্তা নিয়ে উন্মুক্ত আলোচনা জরুরি।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) শামছুল আলম যুগান্তরকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে নজরুল পড়ানো হয়। তবে এখানে নজরুলকে নিয়ে কোনো সিম্পোজিয়াম নেই। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বাংলা বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে নজরুলকে নিয়ে কীভাবে আরও কাজ করা যায়, তা দেখবে। নজরুলের সাহিত্য শিক্ষার্থীদের জানা প্রয়োজন। নজরুল চেয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটির কার্যক্রম অনেক দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। কীভাবে নিয়মতান্ত্রিকভাবে চেয়ারটি চালু করা যায়, তা নিয়ে আমরা আলোচনা করব। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে নজরুলচর্চা কীভাবে বাড়ানো যায়, সে বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হবে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম