Logo
Logo
×
   

Advertisement

শেষ পাতা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

সাত মাসেও কার্যক্রম নেই নজরুলচর্চা কেন্দ্রের

উপেক্ষিত নজরুলচর্চা: জাতীয় কবি উপেক্ষিত বলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা হতাশ * কেন্দ্রটি সক্রিয় করা নিয়ে কাজ চলছে : প্রশাসন

Advertisement

Icon

ইরফান তামিম, রাবি

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

সাত মাসেও কার্যক্রম নেই নজরুলচর্চা কেন্দ্রের

Advertisement

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত, মানবতাবাদ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা নিয়ে নিয়মিত চর্চা ও গবেষণার লক্ষ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) প্রতিষ্ঠা হয়েছিল ‘নজরুলচর্চা কেন্দ্র’। প্রতিষ্ঠার সাত মাস পরও এর কোনো কার্যক্রম শুরু হয়নি। ফলে কেন্দ্রটির উদ্দেশ্য ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ নজরুল ভক্তরা।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ৯ ফেব্রুয়ারি রাবিতে প্রথমবারের মতো নজরুলচর্চা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হয়। সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীবের উদ্যোগে কাজী নজরুল ইসলাম অডিটরিয়ামের একটি কক্ষে কেন্দ্রটি চালু হয়। মূল লক্ষ্য ছিল কবির সাহিত্য, সংগীত ও জীবনদর্শন নিয়ে নিয়মিত চর্চা, গবেষণা ও আলোচনার আয়োজন করা। পাশাপাশি কবির মানবতাবাদ, সাম্য ও অসাম্প্রদায়িক চিন্তাধারা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু সেসবের কোনো কিছুই ঘটেনি।

কথা হলো কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক শামীমা হামিদের সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে বলেন, ‘বিগত প্রশাসনের শেষ সময়ে তড়িগড়ি করে অনেকটা জোর করেই আমাকে পরিচালকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এখানে আমি ছাড়া আর কেউ দায়িত্বে নেই। আগের প্রশাসনের সময় একটি কমিটি ছিল। এখন পর্যন্ত নামমাত্রই কেন্দ্রটি আছে। কোনো কার্যক্রম শুরু করা যায়নি। নতুন প্রশাসনও কেন্দ্রটির বিষয়ে জানে।’

নজরুলচর্চার গুরুত্ব নিয়ে কথা বললেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী সুরাইয়া তানহা। তার মতে, শিক্ষার্থীদের জন্য নজরুলচর্চা কেন্দ্রের গুরুত্ব অনেক বেশি। এই কেন্দ্রের মাধ্যমে নিয়মিত আলোচনা সভা, সেমিনার ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের আয়োজন করা হলে শিক্ষার্থীরা জাতীয় কবির সাহিত্য, সংগীত, দর্শন ও চিন্তাধারা সম্পর্কে আরও গভীরভাবে জানার সুযোগ পাবে। রাবির নজরুলচর্চা কেন্দ্রের কার্যক্রম নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন এ শিক্ষার্থী।

কেন্দ্রটিকে ঘিরে অনেক পরিকল্পনা ছিল বলে জানালেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য সাবেক উপাচার্য ও নজরুলচর্চা কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব। তিনি বলেন, ‘কবি নজরুলের মানবতার শিক্ষা, সাম্য ও অসাম্প্রদায়িক চিন্তাভাবনা ব্যাপকভাবে প্রচারের চিন্তা থেকেই কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। বিশেষ করে এটিকে নজরুল গবেষণা কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তোলার লক্ষ্য ছিল।’ তবে নজরুলচর্চা কেন্দ্রের বর্তমান পরিস্থিতির বিষয়ে জানতে পেরে তিনি হতাশা প্রকাশ করেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. আব্দুল আলীম যুগান্তরকে বলেন, ‘নজরুলচর্চা কেন্দ্রটি শুধু একজন পরিচালক নিয়ে নামমাত্র গঠন করা হয়েছে। এটিকে কীভাবে সক্রিয় করানো যায় তা নিয়ে কথা বলেছি। ওখানে আসবাবপত্র বলতেও কিছু নেই। তাছাড়া কার্যক্রম শুরুর আগে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অনুমতি প্রয়োজন। কেন্দ্রটি কীভাবে সক্রিয় করা যায় তা নিয়ে কাজ হচ্ছে বলে তিনি জানালেন।’

উল্লেখ্য, চারটি স্বায়ত্তশাসিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েও আশির দশকে ‘নজরুল চেয়ার’ প্রবর্তন করা হয়। এই চেয়ারের সর্বশেষ পরিচালক ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক কাজী আবদুল মান্নান। তার ইন্তেকালের (১৯৯৪) পর সেই চর্চা কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম